|

কিথ স্লেটার

১২ মার্চ, ১৯৩৬ তারিখে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার মিডল্যান্ড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলেছেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি অফ-স্পিন কিংবা মিডিয়াম-পেস বোলিংয়ে সবিশেষ পারদর্শী ছিলেন। ১৯৫০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

‘স্পাড’ ডাকনামে পরিচিতি লাভ করেন। ১.৯০ মিটার ও ৮১ কেজি ওজনের অধিকারী ছিলেন। ১৯৫৫-৫৬ মৌসুম থেকে ১৯৬৭-৬৮ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৩ বছরব্যাপী প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনে ২১৯৮ রান সংগ্রহ ও ১৪০ উইকেট দখল করেছিলেন। খেলোয়াড়ী জীবনের শেষদিকে এসে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং উদ্বোধনে নামতেন।

১৯৫৯ সালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে একটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯৫৮-৫৯ মৌসুমে নিজ দেশে পিটার মে’র নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ৯ জানুয়ারি, ১৯৫৯ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ২/১০১ লাভ করেন। প্রথম ইনিংসে ২/৪০ ও দ্বিতীয় ইনিংসে ০/৬১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ১* রান তুলেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও পূর্বের দুই টেস্টে জয়ের সুবাদে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

অনেকসময় রে লিন্ডওয়ালের চেয়েও ভালোমানের বোলিং করতেন। অফ-স্পিনার হলেও পেস বোলিংয়েও দক্ষতার পরিচয় দিতেন। পিটার মে’কে তিন ইনিংসে তিনবার বিদেয় করেছিলেন। তাঁর প্রতিভা থাকা স্বত্ত্বেও অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে একের অধিক টেস্ট খেলতে পারেননি।

১৯৬৪-৬৫ মৌসুমে সিডনিতে অনুষ্ঠিত খেলায় এনএসডব্লিউ’র বিপক্ষে একবার বল ঢিল ছুড়ে মারার কারণে বোলিং করা থেকে তাঁকে বিরত থাকতে হয়। গুরুতর সন্দেহের কারণে তাঁর আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়ী জীবন সীমিত হয়ে পড়ে।

ক্রিকেটের পাশাপাশি অস্ট্রেলীয় রুলস ফুটবলেও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। সোয়ান ডিস্ট্রিক্টস ও সুবিয়াকোর পক্ষে খেলেছেন। ১৯৬১ সালে সিম্পসন পদক লাভ করেন। ১৯৫৬-৫৭ ও ১৯৬০ সালে সোয়ান ডিস্ট্রিক্টসের পরিচ্ছন্ন ও সেরা খেলোয়াড়ের মর্যাদা লাভ করেন। দলকে পাঁচবার নেতৃত্ব দেন। এছাড়াও, সোয়ান ডিস্ট্রিক্টসের শতাব্দীর সেরা দলের সদস্যরূপে মনোনীত হন। ২০০৪ সালে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ান ফুটবল হল অব ফেমে অন্তর্ভুক্ত হন। ২০১৩ সালে ওয়াকা’র পক্ষ থেকে ডেনিস লিলি তাঁকে আজীবন সদস্যপদ প্রদান করেন। ক্রীড়া সরঞ্জাম বিক্রয়কেন্দ্র পরিচালনা করেছেন।

২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ তারিখে ৮৮ বছর ৩৪৯ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

সম্পৃক্ত পোস্ট