২৩ জানুয়ারি, ১৯৪৬ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের পাঞ্জাবের লাহোরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, নিচেরসারিতে ডানহাতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
দীর্ঘাকায় ও মজবুত গড়নের কারণে নতুন বল নিয়ে বেশ ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতেন। তেমন দ্রুতসম্পন্ন বোলিং না করলেও বলে পর্যাপ্ত পেস আনয়ণসহ বেশ বাঁক খাওয়াতে পারতেন। ফলশ্রুতিতে ব্যাটসম্যানদেরকে বেশ হিমশিম খেতে হতো। ডানহাতে বৈচিত্র্যময় বোলিং ভঙ্গীমার কারণে ব্যাটসম্যানদের সমীহের পাত্রে পরিণত হন। বলকে বেশ সুইং করাতে পারতেন। এছাড়াও, উভয় দিক দিয়েই পিচে বলকে ঘুরাতে পারতেন। এ ধরনের দক্ষতার স্বাক্ষর রাখলেও দীর্ঘদিন আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করতে পারেননি। কিছু সময় দলে অবস্থান করলেও পরিসংখ্যানগতভাবে সফলতার স্বাক্ষর রাখতে পারেননি।
১৯৬৩-৬৪ মৌসুম থেকে ১৯৭৬-৭৭ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে লাহোর, পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্স ও পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
১৯৬৯ থেকে ১৯৭৭ সময়কালে পাকিস্তানের পক্ষে সর্বমোট ১৬ টেস্ট ও সাতটিমাত্র ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৬৮-৬৯ মৌসুমে নিজ দেশে কলিন কাউড্রে’র নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ২১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৯ তারিখে লাহোরে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে অংশ নেন। আফতাব গুলের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ১/৫৯ ও ৩/৬৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ১১ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে তিন শতাধিক উইকেট পেয়েছেন। তবে, এরজন্যেও তাঁকে বেশ রান খরচ করতে হয়েছিল। ফাস্ট বোলিংয়ের উর্বরক্ষেত্র ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার উপযোগী পরিবেশে ভালো খেলা প্রদর্শন করলেও পেসের অভাবে তেমন সফল হননি। এ দুটি দেশে দুইবার গমন করেছিলেন। তন্মধ্যে, ১৯৭১ সালে এজবাস্টন টেস্টে ব্যক্তিগত সেরা ৫/১১১ বোলিং পরিসংখ্যান দাঁড় করিয়েছিলেন।
টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসের চতুর্থ খেলোয়াড় হিসেবে ১১ নম্বর ব্যাটসম্যান হিসেবে মাঠে নেমে দল ১৯৯ রানে গুটিয়ে গেলেও তিনি অপরাজিত ৩০ রান তুলে শীর্ষ রান সংগ্রাহকে পরিণত হয়েছিলেন। ১৯৭৪-৭৫ মৌসুমের লাহোর টেস্টে সফরকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের বিপক্ষে এ কৃতিত্বের পরিচয় দেন।
১৯৭৬-৭৭ মৌসুমে মুশতাক মোহাম্মদের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ১ জানুয়ারি, ১৯৭৭ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ০/৭৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, উভয় ইনিংসে শূন্য রানে অপরাজিত ছিলেন। পাশাপাশি, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। ৩৪৮ রানে জয় পেয়ে স্বাগতিকরা তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে উপেক্ষিত হলে অবসর গ্রহণ করেন। এরপর, ইংল্যান্ডে চলে যান। ল্যাঙ্কাশায়ারভিত্তিক ব্যবসায়ে যুক্ত হন।
