২ মার্চ, ১৯১২ তারিখে নাটালের পিটারমারিৎজবার্গে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম কিংবা ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন করতেন। ১৯৩০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
দীর্ঘকায় গড়নের অধিকারী ছিলেন। ৬ ফুট ৩ ইঞ্চি উচ্চতা নিয়ে চমৎকার মিডিয়াম-পেস বোলিং করতেন। এছাড়াও, নিখুঁত নিশানায় বল ফেলে স্পিন করাতে পারতেন। সহায়ক পিচে তাঁকে নতুন বল নিয়ে ব্যাটসম্যানকে ব্যতিব্যস্ত করার প্রয়োজন পড়তো না। প্রয়োজনে গতিবেগও পরিবর্তন করতেন। ব্যাট হাতে রক্ষণাত্মক ধাঁচে অগ্রসর হতেন। তবে, সেরা সময়ে পুল, ড্রাইভ ও কাটে সিদ্ধহস্তের অধিকারী ছিলেন। ফিল্ডিংকালেও মূল্যবান সদস্যে পরিণত করতেন। সর্বোপরী, দক্ষ অল-রাউন্ডারের পরিচিতি ঘটিয়েছেন। ১৯৩১-৩২ মৌসুম থেকে ১৯৪১-৪২ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে ট্রান্সভালের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
১৯৩৫ থেকে ১৯৩৯ সাল পর্যন্ত সময়কালে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে সর্বমোট ১৫ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৩৫ সালে হার্বি ওয়েডের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। প্রথম সফরে অংশ নিয়েই বাজিমাত করেন। ১৫ জুন, ১৯৩৫ তারিখে নটিংহামে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ড দলের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। হার্বি ওয়েড, ডাডলি নোর্স, ডেনিস টমলিনসন, এরিক রোয়ান ও বব ক্রিস্পের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ১/১১৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাট হাতে নিয়ে শূন্য রানে অপরাজিত ছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি আমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
লর্ডসে দলের ১৫৭ রানের বিজয়ের পাশাপাশি রাবার নিশ্চিত করেন। দ্বিতীয় ইনিংসে তিনি ৪/৩১ লাভ করেন ও খেলায় ৮৯ রান খরচায় ছয় উইকেট দখল করেন। পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজের সবকটিতে অংশ নিয়ে সি. এল. ভিনসেন্টের পর পরিবর্তিত বোলার হিসেবে অংশ নিয়ে ১৫ উইকেট দখল করেন। তবে, ব্যাট হাতে ৩০.২৫ গড়ে রানের সন্ধান পেয়েছিলেন।
একই সফরের ২৭ জুলাই, ১৯৩৫ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে বিল বোজের শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। এছাড়াও, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। পাশাপাশি, বল হাতে নিয়ে ১/৫৯ ও ১/৮০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।
এরপর, ১৭ আগস্ট, ১৯৩৫ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের সন্ধান পান ও সর্বোচ্চ ইনিংস খেলেন। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ৪৪ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৭৩ রানের অপরাজিত ইনিংস উপহার দেন। নবম উইকেটে ই. এল. ডাল্টনকে (১১৭) সাথে নিয়ে সত্তর মিনিটে ১৩৭ রানের জুটি দাঁড় করান। এ সংগ্রহটি ইংল্যান্ড-দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার নবম উইকেটে রেকর্ড হিসেবে চিত্রিত হয়ে আছে। এছাড়াও, ২/১২৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সফরকারীরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজে জয়লাভ করে।
পুরো সফরে বল হাতে নিয়ে ২১.১৬ গড়ে ১১৫ উইকেট ও ২১.৪৮ গড়ে ৫৩৭ রান তুলেছিলেন। ইনিংসের শেষদিকে মূল্যবান ব্যাটিংশৈলী সফরের শেষ পর্যায়েও ধরে রাখেন। স্কারবোরায় এইচ. ডি. জি. লেভসন-গাওয়ারের নেতৃত্বাধীন শক্তিধর দলের বিপক্ষে ২০ ও ৬৮ রান তুলে দলের পরাজয়ের ভীতি দূর করেন। ১৫-সদস্যবিশিষ্ট দলটির সর্বকনিষ্ঠ সদস্যের মর্যাদা পান।
১৯৩৫-৩৬ মৌসুমে নিজ দেশে প্রথমবারের মতো টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে ভিক রিচার্ডসনের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ১৪ ডিসেম্বর, ১৯৩৫ তারিখে ডারবানে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ০ ও ১২* রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৪/১২৯ ও ০/১৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ৯ উইকেটে পরাজয়বরণ করলে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
১৯৩৮-৩৯ মৌসুমে নিজ দেশে ওয়ালি হ্যামন্ডের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ১৮ ফেব্রুয়ারি, ১৯৩৯ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ড দলের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগতভাবে বেশ সফল ছিলেন। ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংসে টিডব্লিউজে গডার্ডকে বিদেয় করে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বেকার সেরা ছিল ৪/৩১। এ পর্যায়ে টেস্টে নিজস্ব প্রথম পাঁচ-উইকেট লাভ করেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ৫/৫৮ ও ০/৪৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, দলের একমাত্র ইনিংসে ৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলেও সফরকারীরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
খ্যাতনামা অসীম সময়ের টেস্টও অংশ নিয়েছিলেন। একই সফরের ৩ মার্চ, ১৯৩৯ তারিখে ডারবানে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৩/৭১ ও ১/১৩২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ২৭ ও ৬ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
২৭ নভেম্বর, ১৯৪২ তারিখে নাইজেরিয়ার মাইদুগুরি এলাকায় মাত্র ৩০ বছর ২৭০ দিন বয়সে তাঁর জীবনাবসান ঘটে। মৃত্যুকালীন তিনি ফ্লাইট-লেফটেন্যান্ট পদবীধারী ছিলেন।
