১৪ এপ্রিল, ১৯২৫ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের সিন্ধু প্রদেশের করাচীতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
১৯৪০-৪১ মৌসুম থেকে ১৯৬৯-৭০ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে বরোদা, গুজরাত, সিন্ধু ও ওয়েস্টার্ন ইন্ডিয়ার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। সচরাচর সাধারণমানের লেগ-ব্রেক বোলিং করতেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ৩১.৯৪ গড়ে একবার পাঁচ-উইকেট লাভসহ ৩৭ উইকেট দখল করেছিলেন। শুরুরদিকের বছরগুলোয় কিশোর অবস্থায় দারুণ খেলতেন। ছোটখাটো গড়নের ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি উচ্চতা নিয়ে প্রতিভাবান ব্যাটসম্যান হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। শর্ট-পিচ বোলিংয়ের বিপক্ষে সম্মুখের পায়ে ভর দিয়ে দারুণ খেলতেন। বলকে সজোরে মেরে প্রতিপক্ষের কাছে বিস্ময়ের পাত্রে পরিণত হতেন।
ভারতীয় ঘরোয়া আসরে তারকা খেলোয়াড়ের মর্যাদা পেয়েছিলেন। ২৯ মৌসুমে সাত সহস্রাধিক রান তুলেছেন। তবে, ডন ব্র্যাডম্যানের শততম শতক হাঁকানোয় নিজেকে সম্পৃক্ত রেখে ক্রিকেট ইতিহাসের পাতায় স্মরণীয় করে রেখেছেন। এমসিজিতে সফরকারী ভারত দলের সদস্যরূপে দ্বিতীয় দিন চা-বিরতির পূর্বের ওভারে বাউন্ডারি সীমানা থেকে অধিনায়ক লালা অমরনাথ তাঁকে বোলিংয়ের আমন্ত্রণ জানান। তবে, বত্রিশ হাজার দর্শকের সম্মুখে মিড-অন অঞ্চলে বল ঠেলে দিয়ে ডন ব্র্যাডম্যান এ কৃতিত্বের অধিকারী হয়েছিলেন।
সিন্ধি পরিবারে জন্ম। ম্যাট্রিকুলেশন লাভের পর এক বছর সিন্ধু বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনো করেছিলেন। একই সময়ে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে। ১৫ বছর বয়সে রঞ্জী ট্রফিতে শাহ ন্যালচাঁদ ও সাঈদ আহমেদের ন্যায় বোলারদের প্রতিহত করে ওয়েস্টার্ন ইন্ডিয়ার বিপক্ষে ৫০ ও ৩৩ রান তুলেছিলেন। দূর্ভাগ্যবশতঃ ঐ খেলায় সিন্ধু দল পরাজিত হলে প্রতিযোগিতা থেকে বিদেয় নিতে বাধ্য হয়।
অল্প কিছুদিন পর নিজস্ব প্রথম শতরানের সন্ধান পান। ব্রাবোর্ন স্টেডিয়ামে বিজয় মার্চেন্টের মনোরম ১৫৩ রানের অপরাজিত ইনিংসের জবাবে তিনি ১৩১ রান তুলেন। তবে, দলীয় সঙ্গীদের ব্যর্থতায় প্রথম ইনিংসে সিন্ধু দল ৭৯ রানে পিছিয়ে পড়ে। ঐ মৌসুমে ৬৮.৩৩ গড়ে ৪১০ রান তুলেন।
ঐ সময়ে বিজয় মার্চেন্ট ও বিজয় হাজারে’র সেরা ভারতীয় ব্যাটসম্যানের মর্যাদার লড়াইয়ে ব্যস্ত থাকলেও তিনি তাঁর প্রথম ছয় মৌসুমে ২০ খেলা থেকে ৬৮ গড়ে ১৫৬৪ রান পেয়েছিলেন। দাতব্য তহবিল গঠনের খেলায় দারুণ খেলেন। ডিবি দেওধর একাদশের সংগৃহীত ৪৪৭ রানের মধ্যে ৭৪/৪ থাকাকালে মাঠে নামেন। সিএস নায়ড়ু’র (১০৪) সাথে জুটি গড়ে ১৭৬ রান যুক্ত করেন।
১৯৪৭ থেকে ১৯৫২ সময়কালে ভারতের পক্ষে পাঁচটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯৪৭-৪৮ মৌসুমে লালা অমরনাথের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া সফরে যান। অস্ট্রেলীয় একাদশের বিপক্ষে ৪৩ রান তুলেন। ২২৯/৯ থাকা অবস্থায় জেনি ইরানী’র সাথে শেষ উইকেটে ৯৭ রান যুক্ত করেন। ২৮ নভেম্বর, ১৯৪৭ তারিখে ব্রিসবেনের গাব্বায় অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে অংশ নেন। হিমু অধিকারী, জেনি ইরানী ও খান্দু রংনেকরের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ১ ও ০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। স্বাগতিক দল ইনিংস ও ২২৬ রানে জয় পায় এবং পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
১৯৫২-৫৩ মৌসুমে নিজ দেশে আব্দুল কারদারের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের মুখোমুখি হন। ২৩ অক্টোবর, ১৯৫২ তারিখে লখনউয়ে অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ০ ও ২০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ঐ টেস্টে ইনিংস ও ৪৩ রানে তাঁর দল পরাজিত হয়েছিল। পাশাপাশি, পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ১-১ ব্যবধানে অগ্রসর হতে থাকে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
উঁচু স্তরের ক্রিকেটে নিজেকে মেলে ধরতে না পারলেও তিন দশককাল প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে চমৎকার খেলেন। ১২৭ খেলায় অংশ নিয়ে ১৫ শতক সহযোগে ৪৭.৯১ গড়ে ৭১৮৭ রান পেয়েছেন। কিন্তু টেস্টে বেশ ব্যর্থতার পরিচয় দেন। অংশগ্রহণকৃত টেস্টগুলো থেকে ৮.৯০ গড়ে মাত্র ৮৯ রান তুলতে সক্ষম হয়েছিলেন। তন্মধ্যে, ১০ ইনিংসের পাঁচটিতেই শূন্য রানের সন্ধান পান ও প্রত্যেক টেস্টেই একবার করে শূন্য রানে বিদেয় নেন। এছাড়াও, টেস্টে সর্বাধিকসংখ্যক অংশ নিয়ে সর্বোচ্চ শূন্য রান লাভের ন্যায় অমর্যাদাকর রেকর্ডের সাথে নিজেকে জড়িয়ে রেখেছেন।
ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর বরোদার মহারাজার অধীনে কাজ করতেন। পরবর্তীতে, বরোদাভিত্তিক সত্যদেব কেমিক্যালসে চাকুরী করেন। ৭২তম জন্মদিন উদযাপনের দুইদিন পর ১৬ এপ্রিল, ১৯৯৭ তারিখে হৃদযন্ত্রক্রীয়ায় আক্রান্ত হয়ে গুজরাতের বরোদায় তাঁর দেহাবসান ঘটে।
