২৪ অক্টোবর, ১৯৮৪ তারিখে পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ির শক্তিগড় এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলছেন। এছাড়াও, ডানহাতে ব্যাটিং করেন। ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
৫ ফুট ৮ ইঞ্চি (১.৭৬ মিটার) উচ্চতার অধিকারী। প্রশান্ত সাহা ও মৈত্রী সাহা দম্পতির সন্তান। পিতা ওয়েস্ট বেঙ্গল স্টেট ইলেকট্রিসিটি বোর্ডে চাকুরী করেন। ২০০৭-০৮ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রেখেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে বাংলা ও পূর্বাঞ্চলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, অল ইন্ডিয়া ইলেকট্রিসিটি বোর্ড, চেন্নাই সুপার কিংস, কিংস ইলাভেন পাঞ্জাব, কলকাতা নাইট রাইডার্স ও সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের পক্ষে খেলেছেন। ৪ নভেম্বর, ২০০৭ তারিখে কলকাতায় বাংলা বনাম হায়দ্রাবাদের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান।
বিকল্প উইকেট-রক্ষক হিসেবে তাঁকে দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষার প্রহর গুণতে হয়েছিল। বাংলা দলের নিয়মিত উইকেট-রক্ষক দীপ দাসগুপ্তা’র অনুমোদনহীন লীগে অংশগ্রহণের ফলে তাঁকে দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। রঞ্জী ট্রফিতে নিজের প্রথম খেলায় তাঁর শতক হাঁকানোর ফলে ২০০৮ সালের ইন্ডিয়ান টি২০ লীগে কলকাতার পক্ষে খেলার জন্যে চুক্তিবদ্ধ হন।
দলে ব্রেন্ডন ম্যাককালাম ও টাটেন্ডা তাইবু’র ন্যায় দক্ষ উইকেট-রক্ষকের অন্তর্ভুক্তি থাকলেও তিনি উইকেট-রক্ষণে গ্লাভস নিয়ে অগ্রসর হয়েছিলেন। ব্যাট হাতে নিয়ে অর্ধ-শতক হাঁকান। ২০১১ সালে চেন্নাইয়ের সাথে খেলার জন্যে চুক্তিবদ্ধ হন। তবে, এমএস ধোনি’র গ্লাভসকর্মে অংশগ্রহণ ও অন্যান্য তারকা খেলোয়াড়ের অংশগ্রহণের কারণে প্রথম একাদশে তেমন খেলার সুযোগ পাননি। ২০১৪ সালের আসরের নিলামে মোহালিতে চলে যান। ঐ দলে অন্য কোন দক্ষ উইকেট-রক্ষক না থাকায় কেবলমাত্র গ্লাভসকর্মেই তিনি সফল ছিলেন না; বরঞ্চ ব্যাট হাতে নিয়ে ৩২.৯০ গড়ে ও ১৪৫.২৮ স্ট্রাইক রেটে ৩৬২ রান তুলেন। এছাড়াও, শতক হাঁকান। ভারতের টি২০ লীগের চূড়ান্ত খেলায় এটি প্রথম শতরানের ইনিংস ছিল। দল পরাজিত হলেও তাঁর এ সাহসী ভূমিকা ক্রিকেট বিশ্লেষকদের বিমোহিত করে। ২০১৮ সালে হায়দ্রাবাদে চলে যান।
ভারত ‘এ’ দলের পক্ষে কয়েকটি চমৎকার ক্রীড়াশৈলীর স্বাক্ষর রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১০ সালের শুরুতে প্রথমবারের মতো ভারতের টেস্ট দলের সদস্যরূপে তাঁর ঠাঁই হয়। কিন্তু, দলের সংরক্ষিত উইকেট-রক্ষকরূপে অংশ নেয়ায় খেলায় অভিষেক ঘটা অসম্ভব হয়ে পড়ে।
২০১০ সাল থেকে ভারতের পক্ষে টেস্ট ও ওডিআইয়ে অংশ নিচ্ছেন। ২০০৯-১০ মৌসুমে নিজ দেশে গ্রায়েম স্মিথের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ভিভিএস লক্ষ্মণ ও রোহিত শর্মা’র আঘাতের কারণে দ্রুত তাঁকে ব্যাটসম্যান হিসেবে রাখা হয়। ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১০ তারিখে নাগপুরে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে অংশ নেন। এস বদ্রিনাথের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। প্রথম ইনিংসে শূন্য রানে বিদেয় নিলেও দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৬ রান তুলেন। সফরকারীরা ইনিংস ও ৬ রানে জয় পেয়ে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
দল থেকে বাদ পড়ার পর ২০১০ সালের শেষদিকে ওডিআই দলে ফিরে আসেন। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ঐ সিরিজে নিয়মিত উইকেট-রক্ষক এমএস ধোনি’র বিশ্রামজনিত কারণে খেলার সুযোগ পান। ২৮ নভেম্বর, ২০১০ তারিখে গুয়াহাটিতে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো ওডিআই খেলেন। ২০১১ সালে বিস্ময়করভাবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ গমনার্থে ভারতের ওডিআই দলে খেলার জন্যে আমন্ত্রণ বার্তা লাভ করেন। এ পর্যায়ে দলের জ্যেষ্ঠ খেলোয়াড়দের অনুপস্থিতি ছিল। তবে, পার্থিব প্যাটেলকে অগ্রাধিকার দেয়া হলে তিনি কোন খেলায় অংশ নেয়ার সুযোগ পাননি ও বিকল্প উইকেট-রক্ষক হিসেবে দলে ছিলেন।
এরপর, ২০১১-১২ সালে ভারত দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া যাত্রা করেন। তবে, দলের ধীরগতিতে ওভার করার ফলে এমএস ধোনি নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়লে তিনি খেলার সুযোগ পান। প্রথম ইনিংসে ২৫ ও দ্বিতীয় ইনিংসে ১৩ রান তুলেন। ২০১৪ সালে এমএস ধোনি টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর নিলে ভারতের শীর্ষ উইকেট-রক্ষকের মর্যাদায় চলে আসেন। ২০১৬ সালে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ গমন করেন। প্রথম টেস্টে তিনি রেকর্ড বহিতে নিজেকে ঠাঁই করে নেন। ভারতীয় ক্রিকেটের ইতিহাসে তৃতীয় উইকেট-রক্ষক হিসেবে এক ইনিংসে ছয়টি ডিসমিসালের সাথে নিজেকে জড়িয়ে রাখেন। সিরিজের তৃতীয় টেস্টে স্বাগতিকদের বিপক্ষে নিজস্ব প্রথম শতরানের ইনিংস খেলেন।
২০১৮ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে আবারও নিজেকে রেকর্ড বহিতে অন্তর্ভুক্ত করেন। ভারতের প্রথম উইকেট-রক্ষক হিসেবে এক টেস্টে ১০ ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেন।
২০২১-২২ মৌসুমে নিজ দেশে টম ল্যাথামের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ৩ ডিসেম্বর, ২০২১ তারিখে মুম্বইয়ে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ড দলের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ২৭ ও ১৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, একটি স্ট্যাম্পিংয়ের সাথে নিজেকে জড়ান। তবে, মৈয়াঙ্ক আগরওয়ালের অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে খেলায় তাঁর দল ৩৭২ রানে জয় পেয়ে ১-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে।
ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত। ২০১১ সালে রোমি সাহা নাম্নী এক রমণীর পাণিগ্রহণ করেন। ২০১৩ সালে এ দম্পতির অবণী সাহা নাম্নী কন্যা জন্মগ্রহণ করে।
