৭ জানুয়ারি, ১৯৮১ তারিখে মিডল্যান্ডসের কেউইকেউই এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ২০০০-এর দশকে জিম্বাবুয়ের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
দীর্ঘদেহী, শক্ত মজবুত গড়নের অধিকারী। দলীয় সঙ্গীদের কাছে ‘চাঙ্কস’ কিংবা ‘টেস্টোস্টারোন’ ডাকনামে পরিচিতি লাভ করেন। প্রকৃত মানসম্পন্ন পেস বোলার হিসেবে খেলতেন। পাশাপাশি, ব্যাট হাতে নিয়েও দক্ষতার পরিচয় দিতেন। ১৯৯৯-২০০০ মৌসুম থেকে ২০০৫-০৬ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর জিম্বাবুয়ীয় ক্রিকেটে মিডল্যান্ডস ও জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট একাডেমি এবং ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ডার্বিশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
২০০০ থেকে ২০০৪ সময়কালে জিম্বাবুয়ের পক্ষে সর্বমোট ১৩ টেস্ট ও ৫১টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছেন। ১৯ বছর বয়সে ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০০০ তারিখে বুলাওয়েতে অনুষ্ঠিত সফররত বাংলাদেশের বিপক্ষে একদিনের আন্তর্জাতিকে প্রথম অংশ নেন। এর দুই বছর পূর্বে লেগ-স্পিন বোলিং থেকে দূরে সড়ে আসেন।
২০০১ সালে নিজ দেশে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ১৫ জুন, ২০০১ তারিখে হারারেতে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ২/৪৮ ও ১/৪৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। পাশাপাশি ১৫ রানের ইনিংস খেলেন। তবে, অ্যান্ডি ব্লিগনটের অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে খেলায় তাঁর দল ৪ উইকেটে জয় পায় ও সিরিজটি ১-১ ব্যবধানে শেষ হয়।
২০০১-০২ মৌসুমে নিজ দেশে শন পোলকের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ৭ সেপ্টেম্বর, ২০০১ তারিখে হারারেতে অনুষ্ঠিত সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার সন্ধান পান। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ১৫ রান অতিক্রম করেন। ঘটনাবহুল এ টেস্টের তৃতীয় দিন অ্যান্ডি ফ্লাওয়ারকে সাথে নিয়ে নবম উইকেটে ৭৫ রান তুলে দ্বি-পক্ষীয় রেকর্ড গড়ে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দলের সর্বোচ্চ ২৮৬ রান তুলেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ৩০ ও ১৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ২/১৪৭ ও ১/৪৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, অ্যান্ডি ফ্লাওয়ারের বীরোচিত ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন সত্ত্বেও সফরকারীরা ৯ উইকেটে জয়লাভ করলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
ঐ মৌসুমে নিউজিল্যান্ড ও ভারতের বিপক্ষে অতিরিক্ত বোলিংয়ের কারণে মেরুদণ্ডে ফাঁটল ধরে। তবে, দ্রুত আরোগ্য লাভ করেন ও দলে ফিরে আসেন। টেস্ট দলে ফিরে এসেই তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলেন। নভেম্বর, ২০০১ সালে টেস্টের প্রথম দিনে ৫/৩১ নিয়ে বাংলাদেশ দলকে ১০৭ রানে গুটিয়ে দেন।
কার্যকর ব্যাটসম্যান হিসেবে সামনের পায়ের উপর ভর রেখে দূর্দান্ত ড্রাইভ মারতে পারদর্শী। ২০০৩-০৪ মৌসুমে হাবিবুল বাশারের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশী দলের মুখোমুখি হন। ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০০৪ তারিখে বুলাওয়েতে অনুষ্ঠিত সফররত বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ১/২০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হয়েছিল। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
২০০৪ সালের এপ্রিল মাসে ১৫জন বিদ্রোহী খেলোয়াড়ের অন্যতম হিসেবে বোর্ডের সাথে মতবিরোধের জের ধরে হিথ স্ট্রিকের সাথে দল থেকে বাদ পড়েন। অন্যান্য খেলোয়াড়ের ন্যায় জিম্বাবুয়েতে বেশীদিন ক্রিকেট খেলেননি। এরপর জিম্বাবুয়ে ত্যাগ করে অস্ট্রেলিয়া চলে যান ও সেখানে সিডনির লীগ ক্রিকেটে অংশ নেন। এভাবেই আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়ী জীবনের সমাপ্তি ঘটে।
এরপর, ইংল্যান্ডে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে থাকেন। ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেট খেলার উদ্দেশ্যে ডার্বিশায়ারের ক্রিকেট পরিচালকের দায়িত্বে থাকা সাবেক জিম্বাবুয়ীয় কোচ ডেভিড হটনের সাথে পরামর্শক্রমে চুক্তিবদ্ধ হন ও প্রথম-শ্র্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। কিন্তু, আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়ী জীবনে আঘাতের কবলে থাকা অবস্থায় স্বাভাবিক খেলা প্রদর্শন করতে পারছিলেন না। ফলশ্রুতিতে, পরের মৌসুমে চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধির আওতায় আসেননি। এরফলে, বার্মিংহামের ক্লাব ক্রিকেটের দিকে অগ্রসর হন। সেখানে তিন মৌসুম খেলেছিলেন।
হারারেভিত্তিক সেন্ট জর্জেস কলেজ থেকে আর্টে এ-লেভেলের পাশাপাশি ভূগোল বিষয়ে অধ্যয়ন করেন। জিম্বাবুয়ের ক্রিকেটে অংশগ্রহণকালীন প্রাইভেট পাইলট সার্টিফিকেট লাভ করেছিলেন। ২০০৬ সালে বাণিজ্যিক বিমান চালকের দায়িত্ব পালনে অগ্রসর হন। এক বছরের অধিক সময় বিমান উড্ডয়ন প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। ফলশ্রুতিতে, ২০০৭ সালে যুক্তরাজ্য থেকে উড্ডয়ন অনুজ্ঞাপত্র লাভ করতে সক্ষম হন।
