|

টিনোটেন্ডা মুতোম্বোদজি

২১ ডিসেম্বর, ১৯৯০ তারিখে হারারে এলাকায় জন্মগ্রহণকারী পেশাদার ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে আঁটোসাটো লেগ-ব্রেক গুগলি বোলিংয়ে পারদর্শী। জিম্বাবুয়ের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

‘টাইনো’ ডাকনামে পরিচিত। মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত ২০০৮ সালের আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় জিম্বাবুয়ের পক্ষে খেলেছেন। ২০১০ সালে নিউজিল্যান্ড গমনার্থে দলের সদস্যরূপে মনোনীত হলেও এ সফরটি বাতিল করা হয়েছিল। অনূর্ধ্ব-১৯ দলের পক্ষে ২৫বার অংশ নিয়েছেন। এছাড়াও, জিম্বাবুয়ের অনূর্ধ্ব-১৩, অনূর্ধ্ব-১৪ ও অনূর্ধ্ব-১৬ দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। জিম্বাবুয়ের ঘরোয়া টি২০ প্রতিযোগিতায় ম্যাশোনাল্যান্ড ঈগলসের পক্ষাবলম্বন করছেন।

নয় বছর বয়সে ক্রিকেট খেলা শিখতে থাকেন। শেন ওয়ার্নকে পছন্দের তালিকার শীর্ষে রেখেছেন। খেলোয়াড়ী জীবনের শুরুতে লেগ-স্পিন বোলিং করতেন। পরবর্তীতে, ব্যাটিংয়ের দিকেও মনোনিবেশ ঘটান। পেশাদারী পর্যায়ে যদি ক্রিকেটার না হতেন তাহলে বিমানচালক হবার স্বপ্ন মনে গেঁথে রেখেছিলেন। হাল্কা-পাতলা গড়নের অধিকারী। শীর্ষসারিতে কিংবা মাঝারিসারিতে ব্যাটিংয়ে নেমে থাকেন।

১৮ বছর বয়সে ২০০৯ সালে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট, লিস্ট-এ ক্রিকেট ও টি২০ ক্রিকেটে প্রথম খেলেন। অক্টোবর, ২০০৯ সালে পাকিস্তান অনূর্ধ্ব-১৯ দলের বিপক্ষে অনানুষ্ঠানিক ওডিআইয়ে অংশ নেন। আট নম্বরে নেমে ৪৩ রান তুলেছিলেন। একই সিরিজে ৪/২৭ বোলিং পরিসংখ্যান গড়েন।

ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর জিম্বাবুয়ীয় ক্রিকেটে ম্যাশোনাল্যান্ড ঈগলস ও নর্দার্নসের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ২৪ মার্চ, ২০০৯ তারিখে হারারেতে অনুষ্ঠিত নর্দার্নস বনাম সেন্ট্রালসের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান। ঘরোয়া পর্যায়ের ক্রিকেটে অন্যতম তারকা খেলোয়াড়ের মর্যাদা পান। পাশাপাশি, বিশেষ প্রাধিকারপ্রাপ্ত দল ম্যাশোনাল্যান্ড ঈগলসের অধিনায়কত্ব করছেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ব্যাপক অভিজ্ঞতা লাভ করেছেন। ইনিংসে একবার সাত-উইকেট লাভের ন্যায় কৃতিত্বের অধিকারী।

২০১৩ সাল থেকে জিম্বাবুয়ের পক্ষে টেস্ট, ওডিআই ও টি২০আইয়ে অংশ নিচ্ছেন। ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ তারিখে সেন্ট জর্জেসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অভিষেক ঘটে। এরপর, ২ মার্চ, ২০১৩ তারিখে নর্থ সাউন্ডে একই দলের বিপক্ষে টি২০আইয়ে প্রথমবারের মতো খেলতে নামেন।

২০১৯-২০ মৌসুমে নিজ দেশে ডিমুথ করুণারত্নে’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের মুখোমুখি হন। ২৭ জানুয়ারি, ২০২০ তারিখে হারারেতে অনুষ্ঠিত সফররত শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ৩৩ ও ৮ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৪৮ ও ০/১৯ বোলিং পরিসংখ্যান গড়েন। পাশাপাশি, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। সিকান্দার রাজা’র অসামান্য অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হয়েছিল।

তিন বছর ধরে যুক্তরাজ্যে খেলেছেন। টেমস ভ্যালি ক্রিকেট লীগে এভার্সলি সিসির পক্ষে ৪০.৮০ গড়ে ৮১৬ রান ও ২৪.৫৯ গড়ে ২৭ উইকেট পান। এরপর, ২০১৮ সালে নরফোক প্রিমিয়ার ডিভিশনে ব্রুক সিসি’র পক্ষে ৩৪.২৪ গড়ে ৫৮২ রান ও ২৯.২০ গড়ে ২০ উইকেট দখল করেন। ২০১৯ সালের গ্রীষ্মকালে ডেভন প্রথম বিভাগে হ্যাদারলেই সিসির পক্ষে দূর্দান্ত খেলা উপহার দিয়ে দলকে প্রিমিয়ার লীগে উত্তরণ ঘটান। ৬৩.৪৬ গড়ে ৮২৫ রান ও ১৩.৩৭ গড়ে ৩০ উইকেট লাভ করেছিলেন।

ইসিবি থেকে দ্বিতীয় পর্যায়ের কোচের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।

সম্পৃক্ত পোস্ট