|

তাপস বৈশ্য

২৫ ডিসেম্বর, ১৯৮২ তারিখে সিলেটে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিং করতেন। ২০০০-এর দশকে বাংলাদেশের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

৫ ফুট ৯ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী ও পেশীবহুল শারীরিক গঠন ছিল তাঁর। শশব্যস্ততা সহকারে সোজাসুজি বোলিং কর্মে অগ্রসর হতেন। চলমান গতিতে বোলিংয়ে সম্ভাব্য ভিত রচনা করতেন। ২০০০-০১ মৌসুম থেকে ২০১৩-১৪ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনে সরব ছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর বাংলাদেশী ক্রিকেটে পূর্বাঞ্চল ও সিলেট বিভাগের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, ঢাকা ওয়ারিয়র্স ও রংপুর রাইডার্সের পক্ষে খেলেছেন।

২০১৩ সালে বগুড়ায় কলাবাগান ক্রীড়া চক্রের পক্ষে শেষ ওভারে হ্যাট্রিক করেন। নাঈম ইসলাম, শাহাদাত হোসেন ও রাকিবুল হাসানকে শেষ তিন বলে উপর্যুপরী বিদেয় করেন। জীবন মেন্ডিস প্রথম দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। তবে, জীবন মেন্ডিস হ্যাট্রিকের ঘটনাটি জানান না দেয়া পর্যন্ত তিনি এ কথা জানতেনই না।

২০০১ সালে অস্ট্রেলীয় একাডেমি দলের বিপক্ষে খেলাকালীন দাঁত ভেঙ্গে যায়। জুলাই ও আগস্ট, ২০০৩ সালে অস্ট্রেলিয়া সফরে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের বয়সভিত্তিক দলের সদস্য ছিলেন। উইকেট লাভের ক্ষেত্রে সংখ্যার দিকে দিয়ে খুব কম সফল হয়েছিলেন। তবে, বাংলাদেশের সাফল্যমণ্ডিত ঐ সফরে মনেপ্রাণে খেলা উপহারে সর্বদাই সচেষ্ট ছিলেন। পরের বছর ওয়েস্ট ইন্ডিজেও একই মানসম্পন্ন খেলা প্রদর্শন করেছিলেন।

২০০২ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত সময়কালে বাংলাদেশের পক্ষে সর্বমোট ২১ টেস্ট ও ৫৬টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছেন। মাশরাফি বিন মর্তুজাতালহা জুবায়েরের সাথে অন্যতম উদীয়মান তরুণ বোলার হিসেবে টেস্ট মর্যাদা অক্ষুন্ন রাখার প্রশ্নে বাংলাদেশ দলের জবুথবু অবস্থা থেকে উত্তরণে প্রয়াস চালিয়েছিলেন। ঘরোয়া আসরে ধারাবাহিক ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনের স্বীকৃতিস্বরূপ জাতীয় দলে অন্তর্ভূক্ত হন।

২০০২ সালে খালেদ মাহমুদের অধিনায়কত্বে বাংলাদেশী দলের সাথে শ্রীলঙ্কা গমন করেন। ১৯ বছর বয়সে ২০০২ সালে স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে প্রথমবারের মতো অংশ নেন। ২৮ জুলাই, ২০০২ তারিখে কলম্বোর এসএসসিতে অনুষ্ঠিত টেস্টে অলোক কাপালী ও তুষার ইমরানের সাথে তাঁর একযোগে অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ১/৬৯ ও ০/৪০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ৫২* ও ৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। শুরুতে স্নায়ুবিক চাপে পড়ে বোলিং করতেন। পরবর্তীতে, নিজের ছন্দ খুঁজে পান। নয় নম্বর অবস্থানে ব্যাটিংয়ে নেমে অপরাজিত ৫২ রানের মনোরম ইনিংস উপহার দেন। এ সাফল্যটি গত দুই বছরের মধ্যে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে তাঁর সর্বোচ্চ ছিল। তবে, মাইকেল ভ্যানডর্টের অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে ঐ টেস্টে ২৮৮ রানে পরাজিত হলে সফরকারীরা ২-০ ব্যবধানে সিরিজে পরাজয়বরণ করে। একই সফরের ৪ আগস্ট, ২০০২ তারিখে কলম্বোর এসএসসিতে প্রথমবারের মতো ওডিআইয়ে অংশ নেন।

২০০২-০৩ মৌসুমে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে খালেদ মাসুদের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশী দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। ১৮ অক্টোবর, ২০০২ তারিখে ইস্ট লন্ডনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ২ ও ১০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/১৪৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। গ্রায়েম স্মিথের অনবদ্য দ্বি-শতকের কল্যাণে সফরকারীরা ইনিংস ও ১০৭ রানে পরাজিত হলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

২০০৩ সালে নিজ দেশে গ্রায়েম স্মিথের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ১ মে, ২০০৩ তারিখে ঢাকায় অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ঘটনাবহুল এ টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম ইনিংসে ৬২তম ও নিজস্ব ১৩শ ওভারটি সাত-বলে শেষ করেন। খেলায় তিনি ১/৬৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ৪ ও ৮* রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, মোহাম্মদ রফিকের অসাধারণ বোলিং শৈলী প্রদর্শন সত্ত্বেও সফরকারীরা ইনিংস ও ১৮ রানে জয়লাভ করলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।

অস্ট্রেলিয়া ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজে অংশ নিয়ে খেলোয়াড়ী জীবনকে বেশ সমৃদ্ধ করেন। খুব বেশী উইকেট না পেলেও সুনিয়ন্ত্রিত পন্থায় বোলিং করে সকলের সমীহ আদায় করে নিতে সক্ষম হন। ২০০৭ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন। তবে, প্রতিযোগিতার পর দল থেকে বাদ পড়েন।

২০০৫ সালে হাবিবুল বাশারের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশী দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ৩ জুন, ২০০৫ তারিখে চেস্টার-লি-স্ট্রিটে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ০ ও ১৮ রান সংগ্রহ করেন। ৮০ রান খরচ করেও কোন উইকেটের সন্ধান পাননি। ম্যাথু হগার্ডের অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে ঐ টেস্টে সফরকারীরা ইনিংস ও ২৭ রানে পরাজয়বরণ করলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

২০০৮ সালে কয়েকজন খেলোয়াড়ের সাথে তিনি অনুমোদনবিহীন আইসিএল প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। এরফলে, বিসিবি কর্তৃক দশ বছরের জন্যে নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়েন। তবে, ভবিষ্যতে দলে ফিরে আসার বিষয়ে সম্ভাবনা নিয়ে এক মৌসুম খেলে পরের বছরই ঐ লীগ থেকে চলে আসেন। ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলতে থাকেন। তবে, তাঁকে আর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলার জন্যে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।

হাবিবুল বাশার সতীর্থ খেলোয়াড়দেরকে নিয়ে সর্বকালের সেরা বাংলাদেশী টেস্ট একাদশ গঠন করেন। তন্মধ্যে, তাঁকেও এ তালিকায় ঠাঁই দিয়েছেন।

Similar Posts

  • |

    দাত্তু ফাড়কর

    ১২* ডিসেম্বর, ১৯২৫ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের মহারাষ্ট্রের কোলাপুরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম কিংবা ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৪২-৪৩ মৌসুম থেকে ১৯৫৯-৬০ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে বাংলা,…

  • |

    টম ল্যাথাম

    ২ এপ্রিল, ১৯৯২ তারিখে ক্যান্টারবারির ক্রাইস্টচার্চে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। দলে তিনি মূলতঃ উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলেন। বামহাতে আগ্রাসী ব্যাটিং করেন। পাশাপাশি, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী তিনি। নিউজিল্যান্ড দলের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। এছাড়াও, নিউজিল্যান্ড দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ‘টমি’ ডাকনামে ভূষিত টম ল্যাথাম ৫ ফুট ৮ ইঞ্চি (১.৭৩ মিটার) উচ্চতার অধিকারী। পিতা রড ল্যাথাম নিউজিল্যান্ড…

  • |

    অ্যাথল রোয়ান

    ৭ ফেব্রুয়ারি, ১৯২১ তারিখে ট্রান্সভালের কেনসিংটন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন করেছেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। দক্ষিণ আফ্রিকার অন্যতম সেরা অফ-স্পিনারের মর্যাদা লাভ করেছিলেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছেন। যুদ্ধকালীন তিনি পায়ে আঘাত পান। এরফলে, সামনের…

  • | |

    হাশিম আমলা

    ৩১ মার্চ, ১৯৮৩ তারিখে নাটালের ডারবানে জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার। মূলতঃ শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রাখতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম কিংবা ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। এছাড়াও, দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। ৫ ফুট ১০ ইঞ্চি (১.৭৮ মিটার) উচ্চতার অধিকারী। ভারতীয় বংশোদ্ভূত পরিবারে…

  • |

    টারটিয়াস বস

    ১৪ মার্চ, ১৯৬৬ তারিখে ট্রান্সভালের ভারিনিগিং এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৯০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে নাটাল ও নর্দার্ন ট্রান্সভালের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৮৬-৮৭ মৌসুম থেকে ১৯৯৭-৯৮ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী…

  • |

    সিএস নায়ড়ু

    ১৮ এপ্রিল, ১৯১৪ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের মহারাষ্ট্রের নাগপুরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। লেগ-ব্রেক গুগলি বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। প্রতিযোগীধর্মী বোলার ছিলেন। ঘরোয়া পর্যায়ের ক্রিকেটে লেগ-স্পিনার হিসেবে তারকা খ্যাতি লাভ করেন। বিখ্যাত ক্রিকেটার সিকে নায়ড়ু’র বর্ণাঢ্যময় খ্যাতির পিছনে থেকে নিজেকে স্ব-মহিমায়…