১৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৮ তারিখে কলম্বোয় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামেন। শ্রীলঙ্কার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
১৯৯৫-৯৬ মৌসুম থেকে ২০০৮-০৯ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটে বাদুরেলিয়া স্পোর্টস ক্লাব, কলম্বো ক্রিকেট ক্লাব, মুরস স্পোর্টস ক্লাব, সিংহলীজ স্পোর্টস ক্লাব ও ওয়েয়াম্বার প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
বলকে সুইং করানোয় দক্ষ ছিলেন। এক সময় কোচ ডেভ হোয়াটমোর তাঁকে শ্রীলঙ্কার সর্বাপেক্ষা সহজাত প্রতিভাবান অল-রাউন্ডার হিসেবে বিবেচনায় এনেছিলেন। ফলে, তাঁকে পূর্ণাঙ্গতা আনয়ণে যথাসম্ভব সুযোগ দেয়ার প্রয়াস চালান। চোখের অসাধারণ ক্ষমতায় বেশ ভালোভাবে রান তুলতে সক্ষম ছিলেন। ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৮ সালে সফরকারী ইংল্যান্ড ‘এ’ দলের বিপক্ষে খেলতে নেমে নিজের প্রতিশ্রুতিশীলতা তুলে ধরেন।
১৯৯৮ থেকে ২০০১ সময়কালে শ্রীলঙ্কার পক্ষে তিনটিমাত্র টেস্ট ও ২০টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯ জুন, ১৯৯৮ তারিখে কলম্বোর আরপিএসে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন।
১৯৯৮ সালে অর্জুনা রানাতুঙ্গা’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের সাথে ইংল্যান্ড গমন করেন। ২৭ আগস্ট, ১৯৯৮ তারিখে ওভালে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের একমাত্র টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। অ্যালেক স্টুয়ার্টের উইকেট লাভের পর বিনোদনধর্মী খেলা উপহার দিয়ে ৪৩ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। তবে, মুত্তিয়া মুরালিধরনের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়া নৈপুণ্যে স্বাগতিকরা ১০ উইকেটে পরাজয়বরণ করে।
পিঠের আঘাতের কারণে এক বছরের অধিক সময় খেলার বাইরে ছিলেন। ২০০০-০১ মৌসুমে সিংহলীজ স্পোর্টস ক্লাবে ফিরে আসেন। এরপর, জুলাই, ২০০১ সালে শ্রীলঙ্কায় কোকা-কোলা কাপে খেলার উদ্দেশ্যে সম্মুখসারির খেলোয়াড় হিসেবে নিজেকে যুক্ত করেন।
এরপর, ২০০১ সালে নিজ দেশে সৌরভ গাঙ্গুলী’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের বিপক্ষে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে অংশ নেন। ২২ আগস্ট, ২০০১ তারিখে ক্যান্ডিতে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট খেলেন। ১৮ ও ১৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এ পর্যায়ে দ্বিতীয় ইনিংসে মুত্তিয়া মুরালিধরনের সাথে দশম উইকেটে ৬৪ রানের জুটি গড়ে ভারতের বিপক্ষে সেরা জুটির রেকর্ড গড়েন। ফলশ্রুতিতে, ১৯৮৬-৮৭ মৌসুমে নাগপুরে অশোকা ডি সিলভা ও রুমেশ রত্নায়েকের গড়া পূর্বেকার ৪৪ রানের রেকর্ড ম্লান করে দেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৯ ও ০/১১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, প্রতিপক্ষীয় দলনায়কের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়া নৈপুণ্যে স্বাগতিকরা ৭ উইকেটে পরাজিত হলে অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
নিজ দেশে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৫৬ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। তবে, বল হাতে নিয়ে বেশ রান খরচ করে ফেলেন। গলের প্রথম টেস্ট ও ক্যান্ডিতে পরের টেস্ট চলাকালীন আম্পায়ার স্টিভ বাকনর সন্দেহজনক বোলিং ভঙ্গীমার কারণে নেতিবাচক প্রতিবেদন দাখিল করেন। এরফলে, তাঁর আত্মবিশ্বাসে আরও ভাটা পড়ে। পরবর্তীতে অবশ্য আইসিসি থেকে মুক্তি পান।
