২৫ ডিসেম্বর, ১৯৭৮ তারিখে গ্ল্যামারগনের মরিস্টন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, বামহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ২০০০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
‘হর্স’ ডাকনামে পরিচিতি সায়মন জোন্স ৬ ফুট ৩ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী। মিলফিল্ডের কয়েডকে কম্প্রিহেনসিভে অধ্যয়ন করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে গ্ল্যামারগন, হ্যাম্পশায়ার ও ওরচেস্টারশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৯৮ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন।
২০০২ থেকে ২০০৫ সময়কালে ইংল্যান্ডের পক্ষে সর্বমোট ১৮ টেস্ট ও আটটিমাত্র ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ২০০২ সালে নিজ দেশে সৌরভ গাঙ্গুলী’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ২৫ জুলাই, ২০০২ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। এ সফরে নিজেকে ইংল্যান্ডের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাময় খেলোয়াড়ের পরিচিতি ঘটান। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৪৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ২/৬১ ও ২/৬৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। দলীয় অধিনায়ক নাসের হুসাইনের অসাধারণ শতকের কল্যাণে স্বাগতিকরা ১৭০ রানে জয়লাভ করলে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
২০০২-০৩ মৌসুমের অ্যাশেজ সিরিজ খেলতে ডাউন আন্ডার গমন করেন ও প্রথমবারের মতো অভিজ্ঞতাপুষ্ট হন। তবে, ব্রিসবেনে অনুষ্ঠিত সিরিজের প্রথম দিনেই সীমানা এলাকায় পিছলে পড়লে ডান হাঁটুতে গুরুতর আঘাত পান। এরফলে, প্রায় ছয় মাস দলের বাইরে থাকেন। মার্চ, ২০০৪ সালে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরের জন্যে মনোনীত হন। চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজের সবকটিতে অংশ নেন। ১৫ উইকেট নিয়ে দলের সিরিজ বিজয়ে ভূমিকা রাখেন। দলে চতুর্থ বোলার হিসেবে খেলতেন ও এ স্থান দখলে জেমস অ্যান্ডারসনের প্রতিদ্বন্দ্বীতার মুখোমুখি হন।
তবে, সবকিছু পরিবর্তিত হয়ে যায়। ২০০৪-০৫ মৌসুমে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে মাইকেল ভনের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা গমন করেন। ১৭ ডিসেম্বর, ২০০৪ তারিখে পোর্ট এলিজাবেথের জিকিবার্হায় অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। চতুর্থ দিন উজ্জ্বীবিত বোলিং করেন ও ফাইন-লেগ অঞ্চলে ঝাঁপিয়ে পড়ে দূর্দান্ত ক্যাচ নিয়ে দলকে স্মরণীয় জয় এনে দেন। ১/৩৯ ও ৪/৩৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ২৪ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। অ্যান্ড্রু স্ট্রসের অসাধারণ ব্যাটিং নৈপুণ্যে সফরকারীরা ৭ উইকেটে জয়লাভ করলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
আঘাত থেকে মুক্ত হয়ে ২০০৫ মৌসুমের শুরুতে পেস ফিরিয়ে আনতে সমর্থ হন। পাশাপাশি নতুন ও রহস্যজনক রিভার্স-সুইং যুক্ত করেন। ক্ষীপ্র গতিসম্পন্ন ফাস্ট বোলার হিসেবে তাঁর খেলোয়াড়ী জীবনে হাঁটুর আঘাত নিত্য সঙ্গীরূপে ঠাঁই করে নেয়। আঘাত থেকে সেড়ে ২০০৫ সালের অ্যাশেজ সিরিজ বিজয়ী ইংল্যান্ড দলের অনুষঙ্গরূপে চিত্রিত হন। চার টেস্ট ২১ গড়ে ১৮ উইকেট দখল করেন। তবে, সিরিজের চূড়ান্ত খেলায় পুণরায় হাঁটুর সমস্যায় আক্রান্ত হলে মাঠের বাইরে অবস্থান করতে হয় তাঁকে।
ঐ বছর নিজ দেশে রিকি পন্টিংয়ের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ২৫ আগস্ট, ২০০৫ তারিখে নটিংহামে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ৫/৪৪ ও ০/১৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ১৫* ও ৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, অ্যান্ড্রু ফ্লিনটফের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ৩ উইকেটে জয়লাভ করলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
মাইকেল ক্লার্কের বিপক্ষে তাঁর করা রিভার্স সুইংয়ের বলটি শতাব্দীর সেরা বলের তালিকায় একাদশ অবস্থানে রয়েছে। ২০০২ সালে অভিষেক খেলা থেকেই আঘাতের স্বাদ পান ও পুরো খেলোয়াড়ী জীবনই আচ্ছাদিত থাকে। ২০০৫ সালের পূর্বে ইংল্যান্ড দলে যুক্ত হতে পারেননি। তবে, এরই মাঝে ওরচেস্টারশায়ার ও হ্যাম্পশায়ারের পক্ষে কাউন্টি ক্রিকেটে অংশ নেন।
