|

সিকান্দার রাজা

২৪ এপ্রিল, ১৯৮৬ তারিখে পাঞ্জাবের শিয়ালকোটে জন্মগ্রহণকারী পাকিস্তানী বংশোদ্ভূত ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে কার্যকর অফ-ব্রেক বোলিংশৈলী প্রদর্শনে অগ্রসর হন। জিম্বাবুয়ের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

প্রচলিত ধাঁচে শীর্ষ পর্যায়ের ক্রিকেটে অংশ নেয়ার সুযোগ হয়নি। অন্যান্য আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারের স্বাভাবিক অংশগ্রহণের ন্যায় তাঁর উত্থান ঘটেনি। শৈশবে খেলার প্রতি অতিরিক্ত আগ্রহ কিংবা দেশের পক্ষে খেলার কোন ইচ্ছে ছিল না। প্রকৃতপক্ষে সহজাত প্রতিভাধর ব্যাটসম্যান ছিলেন।

১১ বছর বয়সে যুদ্ধবিমান চালক হবার স্বপ্ন দেখার কথা পিতা-মাতার কাছে ব্যক্ত করেন। পাকিস্তান এয়ার ফোর্স পাবলিক স্কুল লোয়ার টোপায় লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। ৬০,০০০ আবেদনকারীর মধ্যে ৬০জনের অন্যতম হন। তৃতীয় বর্ষে অধ্যয়নকালে চোখের পরীক্ষায় ত্রুটি ধরা পড়ায় স্বপ্ন ভেঙ্গে যায় ও প্রতি ১০জন লোকের মধ্যে ৭জনের এ সমস্যায় আক্রান্ত হবার কথা জানানো হয়।

জীবনে প্রতিষ্ঠিত হবার লক্ষ্যে স্কটল্যান্ডে চলে যান। পূর্ণোদ্দ্যমে গ্লাসগো ক্যালেডোনিয়ান কলেজে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে স্নাতক শ্রেণীতে অধ্যয়ন করেছেন। সেখানে অবস্থানকারীন অর্ধ-পেশাদারী পর্যায়ে মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে ক্রিকেট খেলা শুরু করেন। ২০০১ সালে পিতা-মাতার অভিবাসিত হবার সুবাদে জিম্বাবুয়ে চলে আসেন।

২০০৬-০৭ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর জিম্বাবুয়ীয় ক্রিকেটে ম্যাশোনাল্যান্ড ঈগলস, মাতাবেলেল্যান্ড তুস্কার্স, নর্দার্নস ও সাউদার্ন রক্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, বন্দ-ই-আমির ড্রাগন্স, চিটাগং ভাইকিংস, গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স, কলাবাগান ক্রিকেট একাডেমি, হিট স্টর্মার্স, করাচী কিংস, লাহোর হোয়াইটস, মিস আইনাক নাইটস, মন্ট্রিল টাইগার্স, নর্দার্ন ওয়ারিয়র্স, পাকতিয়া প্যান্থার্স, পেশাওয়ার জালমি, ত্রিনবাগো নাইট রাইডার্স ও তশান স্পার্টানসের পক্ষে খেলেছেন। ১২ এপ্রিল, ২০০৭ তারিখে মুতারেতে ইস্টার্নস বনাম নর্দার্নসের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে তাঁর প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট জীবনের সূত্রপাত ঘটান। জিম্বাবুয়ে হাই পারফরম্যান্স একাদশের প্রতিনিধিত্ব করেন। এছাড়াও, ‘এ’ দলের পক্ষে খেলেছেন। ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান বিখ্যাত ক্রিকেটার ব্রায়ান লারা’র সাথে ইনিংস উদ্বোধন ও পরবর্তীতে এল্টন চিগুম্বুরা’র বড় ধরনের সহায়তা নিয়ে মাতাবেলেল্যান্ড তুস্কার্সের বোলিং আক্রমণ স্বীয় কাঁধে তুলে নেন।

২০০৯ সালে জিম্বাবুয়ের ক্রিকেটে অবকাঠামো সংস্কারের ফলে ম্যাশোনাল্যান্ড ঈগলসের পক্ষে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলার সুযোগ পান। টি২০ খেলায় বেশ ভালোমানের রেকর্ড রয়েছে। ২০১০ সালে সাউদার্ন রক্সের সদস্যরূপে ডেজার্ট ভাইপার্সের বিপক্ষে টি২০ ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে। এরপর থেকে টি২০ খেলার দিকে ঝুঁকে পড়েন। ২০১০ সালের স্ট্যানবিক ব্যাংক২০ প্রতিযোগিতায় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের মর্যাদা লাভ করেছেন। ২০১০ সালের মেটব্যাংক প্রো৪০ চ্যাম্পিয়নশীপের চূড়ান্ত খেলায় সাউদার্ন রক্সের সদস্যরূপে অংশ নেন। মিড ওয়েস্ট রাইনোসের বিপক্ষে ৪৪ রানের দূর্দান্ত ইনিংস খেলে দলের শিরোপা বিজয়ে দারুণ ভূমিকা রাখেন। পড়াশুনো শেষ করার পূর্বে নয়টি ইনিংস থেকে একটিমাত্র অর্ধ-শতকের ইনিংস খেলেছিলেন।

২০১০-১১ মৌসুমে ক্রিকেটে পূর্ণাঙ্গ সময় দিতে থাকেন। এ মৌসুমে ৪১ গড়ে ৬২৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। জানুয়ারি, ২০১১ সালের লিস্ট-এ ক্রিকেটের খেলায় ৮০ রান তুলে দল নির্বাচকমণ্ডলীর দৃষ্টিগোচরে পড়েন। পরের মৌসুমে আরও ভালোমানের খেলা প্রদর্শনে সচেষ্ট হন ও শীর্ষসারির আক্রমণাত্মক ব্যাটসম্যানের মর্যাদা লাভ করেন। এ সময়ে একদিনের ও টি২০ প্রতিযোগিতায় সুন্দর খেলছিলেন।

গৃহীত দেশের পক্ষে খেলার সুযোগ পান। খুব বেশীদিন তাঁর প্রতিভা সনাক্তকরণে জাতীয় দল নির্বাচকমণ্ডলীর সময় ব্যয় করতে হয়নি। ফলশ্রুতিতে, ২০১১ সালে নিজ দেশে সফররত বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রস্তুতিমূলক খেলায় অংশগ্রহণের সুযোগ পান। আঘাতপ্রাপ্ত ভুসি সিবান্দা’র পরিবর্তে খেলার সুযোগ পান। বেশ ভালোমানের ক্রীড়া নৈপুণ্যের স্বাক্ষর রাখেন। ফলশ্রুতিতে, জিম্বাবুয়ের পক্ষে ক্রিকেটে অংশ নেয়ার লক্ষ্যে জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট কর্তৃপক্ষ নাগরিকত্ব লাভে অগ্রসর হয়। ২০১১ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় জিম্বাবুয়ের প্রাথমিক তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হন। তবে, তাঁকে চূড়ান্ত তালিকায় রাখা হয়নি। সেপ্টেম্বর, ২০১১ সালে জিম্বাবুয়ের নাগরিকত্ব লাভ করেন।

এরপর, মাসভিঙ্গো স্পোর্টস ক্লাবে আরও একটি অপূর্ব খেলা প্রদর্শন করেন। চামু চিভাভাকে সাথে নিয়ে উদ্বোধনী জুটিতে ১৬১ রান তুলে দলের ভিত গড়েন ও সাউদার্ন রক্সকে মাতাবেলেল্যান্ডের বিপক্ষে বড় ধরনের জয় এনে দেন। এরফলে, জিম্বাবুয়ে দল নির্বাচকমণ্ডলী তাঁকে অস্ট্রেলিয়া ‘এ’ ও দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দল নিয়ে গড়া ত্রি-দেশীয় সিরিজে দলের সদস্যরূপে অন্তর্ভুক্ত করেন। এরপর, মাতাবেলেল্যান্ড তুস্কার্সের বিপক্ষে আরও একবার স্মরণীয় খেলায় অংশ নেন। সাউদার্ন রক্সের পক্ষে ৪৮ বল থেকে ৯৩ রান তুলেন।

২০১৩ সাল থেকে জিম্বাবুয়ের পক্ষে টেস্ট, ওডিআই ও টি২০আইয়ে অংশ নিচ্ছেন। ঘরোয়া পর্যায়ে ধারাবাহিক ক্রীড়াশৈলী অব্যাহত রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৩ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে অংশ নেয়ার উদ্দেশ্যে জিম্বাবুয়ে দলের সদস্য করা হয়। অবশেষে একই বছরের ৩ মে তারিখে বুলাওয়েতে অনুষ্ঠিত সফররত বাংলাদেশের বিপক্ষে ওডিআই সিরিজে ১১৬তম জিম্বাবুয়ীয় খেলোয়াড় হিসেবে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। তিন নম্বর অবস্থানে মাঠে নেমেছিলেন।

নিজস্ব চতুর্থ ওডিআইয়ে ভারতের বিপক্ষে ছয়টি চার ও দুইটি ছক্কা সহযোগে ১১২ বল মোকাবেলায় ৮২ রান তুলেন। এরপর থেকে জিম্বাবুয়ের ওডিআই দলের ব্যাটিং বিভাগের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছেন।

চার মাস পর ৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৩ তারিখে হারারে স্পোর্টস ক্লাবে অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক হয়। ৬০ রানের ইনিংস খেলেন। চতুর্থ উইকেটে ১২৭ রানের জুটি গড়ে দলকে ইনিংসে এগিয়ে নিয়ে যান। তবে, ব্রেন্ডন টেলরের দলে যুক্ত হবার ফলে বাদ পড়েন।

২০১৪ সালে হ্যামিল্টন মাসাকাদজা’র সাথে ওডিআইয়ের যে-কোন উইকেটে জিম্বাবুয়ের সর্বোচ্চ রান তুলেন। তাঁরা প্রথম উইকেটে ২২৪ রান তুলেছিলেন। এছাড়াও, নবম উইকেটে টেন্ডাই চিসোরো’র সাথে ওডিআইয়ে সর্বোচ্চ রান সংগ্রহ করেছেন। ২০১৫ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ওডিআইয়ে নিজস্ব তৃতীয় শতকের সন্ধান পান। ৯৫ বল থেকে অপরাজিত ১০০ রান তুলেন। এছাড়াও, ২০১৫ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় জিম্বাবুয়ে দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তবে, এ প্রতিযোগিতায় তেমন ভালো খেলা উপহার দিতে পারেননি। কিন্তু, বল হাতে নিয়ে বেশ ভূমিকা রেখেছিলেন। মে, ২০১৫ সালে লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে ৮৪ বলে অপরাজিত ১০০ রান সংগ্রহ করেছিলেন।

ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি অফ-স্পিনারের ভূমিকায়ও অবতীর্ণ হন। জিম্বাবুয়ের অন্যতম স্মরণীয় ঘটনায় নিজেকে জড়িয়ে রেখেছেন। জুলাই, ২০১৭ সালে হাম্বানতোতায় স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২০৪ রানের জয়ের লক্ষ্যমাত্রায় অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ব্যাট হাতে নামার পূর্বে নির্ধারিত দশ ওভারে ৩/২১ বোলিং পরিসংখ্যান গড়েন। এ খেলায় জিম্বাবুয়ে দল জয়ী হয় ও প্রথমবারের মতো শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে পাঁচ-খেলা নিয়ে গড়া ওডিআই সিরিজ ৩-২ ব্যবধানে জয় করে। ঐ খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন। একই সফরে নিজস্ব প্রথম টেস্ট শতক হাঁকান। তবে, একমাত্র টেস্টে স্বাগতিক শ্রীলঙ্কা দল ৩৮৯ রানের জয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে সমর্থ হয় ও এশিয়ার মাটিতে সর্বোচ্চ জয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের রেকর্ড গড়ে।

২০১৭-১৮ মৌসুমে নিজ দেশে জেসন হোল্ডারের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ২৯ অক্টোবর, ২০১৭ তারিখে বুলাওয়েতে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অপূর্ব খেলেন। ঐ টেস্টে প্রথমবারের মতো পাঁচ-উইকেট লাভের কৃতিত্বের অধিকারী হন। দ্বিতীয় ইনিংসে এ সফলতা পান। এছাড়াও, উভয় ইনিংসেই অর্ধ-শতক হাঁকিয়েছিলেন। এরফলে, প্রোটীয় অল-রাউন্ডার জ্যাক ক্যালিসের পর উভয় ইনিংসে ৮০ ঊর্ধ্ব রান ও পাঁচ-উইকেট লাভের গৌরব অর্জন করেন। ৮০ ও ৮৯ রান সংগ্রহসহ ৫/৯৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও ১-০ ব্যবধানে তাঁর দল সিরিজে পরাজিত হয়েছিল। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন। এরফলে জিম্বাবুয়ে দলে ১২ বছর পর প্রথম ড্র করতে সমর্থ হয় ও ২০১৩ সালের পর ১০ টেস্টে পরাজয়ের বৃত্ত থেকে বের হয়।

এরপূর্বে ২১ অক্টোবর, ২০১৭ তারিখে বুলাওয়েতে অনুষ্ঠিত প্রথম টেস্টে ১/৪২ ও ১/৫৩ এছাড়াও, ৬ ও ৩০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। সফরকারী দল ১১৭ রানে জয় পেয়ে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

৫ নভেম্বর, ২০১৩ তারিখে বাংলাদেশের বিপক্ষে তাঁর টি২০আই অভিষেক হয়। এছাড়াও, টি২০আইয়ে সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে অর্ধ-শতক হাঁকানোর গৌরব অর্জন করেন। এ পর্যায়ে তাঁর বয়স ছিল ১৭ বছরের কিছুটা বেশী। ২০১৫ সালে সফরকারী ভারতের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টি২০আইয়ে অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন। ১০ রানে দলকে জয় এনে দেন। এরপূর্বে, ২০১২ সালের ঘরোয়া ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় ম্যাশ ঈগলসের পক্ষে চার খেলায় দলকে পরিচালনা করেছিলেন।

ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ সালে আইসিসি ২০১৮ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতার বাছাইপর্বকে ঘিরে নজরে রাখা দশজন খেলোয়াড়ের অন্যতম হিসেবে তাঁকে মনোনীত করে। ৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ তারিখে শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণে জিম্বাবুয়ের টি২০ দল থেকে বাদ পড়েন।

২০২০-২১ মৌসুমে শন উইলিয়ামসের নেতৃত্বে সংযুক্ত আরব আমিরাত গমন করেন। ১০ মার্চ, ২০২১ তারিখে আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে আফগানিস্তানের বিপক্ষে অংশ নেন। ১/৭৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ৮৫ ও ২২ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। তবে, হাশমতউল্লাহ শাহীদি’র ব্যাটিংয়ের কল্যাণে আফগানিস্তান দল ছয় উইকেটে জয়লাভ করে।

২০২৫ সালে প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ বছর ক্রেগ আরভিনের নেতৃত্বাধীন জিম্বাবুয়ীয় দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। খেলায় তিনি ৭ ও ৬০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৯৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। শোয়েব বশীরের অনবদ্য কৃতিত্বে সফরকারীরা চারদিনের টেস্টটি তিনদিনেই পরাজয়বরণ করে। ইনিংস ও ৪৫ রানে জয়লাভ করে ইংল্যান্ড দল। এরফলে, ইংল্যান্ড দল জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে পাঁচ টেস্টের চারটিতে জয়লাভ করে ও একটি ড্র হয়।

২০২৫-২৬ মৌসুমে নিজ দেশে হাশমতউল্লাহ শাহীদি’র নেতৃত্বাধীন আফগান দলের মুখোমুখি হন। ২০ অক্টোবর, ২০২৫ তারিখে হারারেতে অনুষ্ঠিত সফররত আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের একমাত্র টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ৬৫ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, ০/৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, বেন কারেনের অসাধারণ ১২১ রানের কল্যাণে খেলায় স্বাগতিকরা ইনিংস ও ৭৩ রানে জয়লাভ করে।

Similar Posts

  • | | |

    স্যামি উডস

    ১৩  এপ্রিল, ১৮৬৭ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের অ্যাশফিল্ড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ছিলেন। দলে মূলতঃ বোলার হিসেবে ভূমিকা রাখতেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ড – উভয় দলের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ১৮৮৩ সালে ১৪ বছর বয়সে শিক্ষালাভের উদ্দেশ্যে ইংল্যান্ডে চলে আসেন। শিক্ষা গ্রহণের পর আর তিনি দেশে ফিরে যাননি।…

  • |

    অভিমন্যু মিঠুন

    ২৫ অক্টোবর, ১৯৮৯ তারিখে কর্ণাটকের ব্যাঙ্গালোরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। দলে তিনি মূলতঃ বোলার হিসেবে ভূমিকা রেখেছেন। ডানহাতে মিডিয়াম বোলিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামেন। ২০১০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ২০০৯-১০ মৌসুম থেকে ২০১৯-২০ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রেখেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে কর্ণাটক ও দক্ষিণাঞ্চল দলের প্রতিনিধিত্ব করেন।…

  • |

    জর্জ গ্ল্যাডস্টোন

    ১৪ জানুয়ারি, ১৯০১ তারিখে জ্যামাইকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিংয়ের পাশাপাশি বামহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে জ্যামাইকার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯২৯-৩০ মৌসুমেই প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। দুইটিমাত্র খেলা নিয়ে তাঁর প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন গড়ে উঠেছিল।…

  • |

    আতিফ রউফ

    ৩ মার্চ, ১৯৬৪ তারিখে পাঞ্জাবের লাহোর এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। পাশাপাশি, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করতেন। ১৯৯০-এর দশকে পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৮০-৮১ মৌসুম থেকে ২০০১-০২ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে পাকিস্তান এগ্রিকালচার ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক, ইসলামাবাদ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন…

  • |

    রঞ্জন দাস

    ১৪ জুলাই, ১৯৮২ তারিখে ঢাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। বামহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ২০০০-এর দশকের সূচনালগ্নে বাংলাদেশের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১২ মাসের ব্যবধানে বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-১৯ ও ‘এ’ দলের পক্ষে খেলেছেন। ‘রানা’ নামে পরিচিতি লাভ করেন। ১৯৯৯-২০০০ মৌসুম থেকে ২০০৩-০৪ মৌসুম পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী…

  • |

    পিটার কার্স্টেন

    ১৪ মে, ১৯৫৫ তারিখে নাটালের পিটারমারিৎজবার্গে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মাঝে-মধ্যে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শীতা দেখিয়েছেন। ১৯৯০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৭৩-৭৪ মৌসুম থেকে ১৯৯৬-৯৭ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন সরব রেখেছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে বর্ডার ও ওয়েস্টার্ন প্রভিন্স এবং…