| |

শিবসুন্দর দাস

৪ নভেম্বর, ১৯৭৭ তারিখে ভুবনেশ্বরের ওড়িশায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে অগ্রসর হতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ২০০০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

১৯৯৩-৯৪ মৌসুম থেকে ২০১২-১৩ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে ওড়িশার প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

২০০০ থেকে ২০০২ সময়কালে ভারতের পক্ষে সর্বমোট ২৩ টেস্ট ও চারটিমাত্র ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ২০০০-০১ মৌসুমে সৌরভ গাঙ্গুলী’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের সাথে বাংলাদেশ গমন করেন। ১০ নভেম্বর, ২০০০ তারিখে ঢাকায় বাংলাদেশের ইতিহাসের উদ্বোধনী টেস্টে সাবা করিমের সাথে তাঁর একযোগে অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ২৯ ও ২২* রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, সুনীল জোশী’র দূর্দান্ত বোলিং নৈপুণ্যে সফরকারীরা খেলায় ৯ উইকেটে জয় পেয়েছিল।

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ব্যাপকসংখ্যক রান তুলেছেন। অংশগ্রহণকৃত টেস্টগুলোর ২৫% এ দলটির বিপক্ষে খেলেছেন ও সংগৃহীত রানের ৪২%-এর অধিক পেয়েছেন। উভয় শতকই একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে হাঁকিয়েছেন। তবে, শক্তিশালী বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে অংশ নিয়ে দূর্ভাগ্যবশতঃ ভিন্নতর চিত্র তুলে ধরেছেন। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২৮.৮৩, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ১৮.৮০ ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৩২.২৫ গড়ে রান পেয়েছেন।

তাসত্ত্বেও কিছু স্বর্ণালী মুহূর্ত অতিবাহিত করেছিলেন তিনি। কলকাতায় ভিভিএস লক্ষ্মণরাহুল দ্রাবিড় অবিস্মরণীয় জুটি গড়ার পূর্বে ৩৯ রান তুলে ভারতের শুভ সূচনা ঘটান। চেন্নাইয়ে সিরিজ নির্ধারণী খেলায় ৮৪ রান তুলেন। একই বছরে এসএসসিতে ৫৯ ও ৬৮ রানের ইনিংস খেলেন। ব্লুমফন্তেইনে ৬২ রান তুলে শীর্ষ রান সংগ্রাহক হন। মোতেরায় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৪১ ও ৫৮ রান তুলে সিরিজ বিজয় নিশ্চিত করেন।

জুন, ২০০০ সালে শ্রীধরন শ্রীরাম ও মোহাম্মদ কাঈফের সাথে বর্ডার-গাভাস্কার বৃত্তি লাভ করেন। ২০০১ সালে সৌরভ গাঙ্গুলী’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের সাথে জিম্বাবুয়ে গমন করেন। পুরো সিরিজে অসাধারণ খেলেন। ১৫ জুন, ২০০১ তারিখে হারারে স্পোর্টস ক্লাবে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ৫৭ ও ৭০ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, অ্যান্ডি ব্লিগনটের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে খেলায় তাঁর দল ৪ উইকেটে পরাজিত হলে ১-১ ব্যবধানে সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় শেষ হয়। পুরো সিরিজে ২৩৯ রান সংগ্রহ করেছিলেন ও ম্যান অব দ্য সিরিজের পুরস্কার লাভ করেন।

২০০২ সালে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজের সবকটিতেই তাঁর অংশগ্রহণ ছিল। সিরিজ শেষে ১৫.৫০ গড়ে মাত্র ১২২ রান তুলেন। তিনি পুণঃপুণ পিছনের পায়ের সাথে তাল মিলাতে ব্যর্থতার পরিচয় দেন। দীর্ঘদেহী ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ফাস্ট বোলারদের বিপক্ষে বলের নিশানা খুঁজে পাননি। ফলশ্রুতিতে, দল থেকে বাদ পড়েন।

২০০১-০২ মৌসুমে সৌরভ গাঙ্গুলী’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের সাথে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে যান। ১৮ মে, ২০০২ তারিখে কিংস্টনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ৩৩ ও ১০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। স্বাগতিক দল ১৫৫ রানে জয় পায় ও পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-১ ব্যবধানে জয়ী হয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়। ব্যাটিং উদ্বোধনে বীরেন্দ্র শেহবাগআকাশ চোপড়াকে নিয়ে আসা হয়। দলে ফিরে আসার আপ্রাণ চেষ্টা চালান। ২০১২ সালে ওড়িশা দল থেকেও তাঁকে বাদ দেয়া হয়।

ইংল্যান্ডে ভারতের ‘এ’ দলের সফরে প্রথম-শ্রেণীর খেলাগুলোয় তাঁকে অধিনায়ক হিসেবে রাখা হয়। তেমন সফলতার সন্ধান পাননি। ৪৩ গড়ে রান পেলেও সাতজন ব্যাটসম্যান তাঁর তুলনায় অধিক গড়ে রান পেয়েছেন। নিজেকে পুণঃপ্রতিষ্ঠা করতে চেষ্টা চালালেও দল নির্বাচকমণ্ডলীর উপর খুব কমই প্রভাববিস্তার করতে পেরেছিলেন। জম্মু ও কাশ্মীরের বিপক্ষে ২০০৬-০৭ মৌসুমে নিজস্ব প্রথম ত্রি-শতক হাঁকান। এ সংগ্রহটি ২০০০-০১ মৌসুমের রঞ্জী ট্রফি প্রতিযোগিতার পর প্রথম ছিল। দিনের প্রধান তারকা হিসেবে ওড়িশা ক্রিকেট সংস্থা তাঁকে নগদ ₹৩০,০০০ রূপী প্রদানের কথা ঘোষণা করে। ২০১০-১১ মৌসুমে তাঁর অধিনায়কত্ব কেড়ে নেয়ার পাশাপাশি ওড়িশা দল থেকে বাদ দেয়া হয়। পাঁচ ইনিংস থেকে মাত্র পাঁচ রান তুলেছিলেন।

সর্বত্র ভারতের দীর্ঘদিনের প্রকৃত টেস্ট উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে এক সময় গণ্য করা হতো। তবে, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে উদীয়মান প্রতিশ্রুতিশীলতার স্বাক্ষর রাখার পরও নিজেকে সঠিকমানের ব্যাটসম্যান হিসেবে তুলে ধরতে হিমশিম খান। ওড়িশার দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসেবে ভারত দলে ঠাঁই পান। উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে যাবতীয় গুণাবলী তাঁর মাঝে বিরাজমান ছিল। অফ-স্ট্যাম্পের বাইরে সঠিকমানের বিচক্ষণতা প্রদর্শন, পায়ের কারুকাজের পাশাপাশি রক্ষণাত্মক ও আক্রমণাত্মক মর্জি চিন্তাচেতনায় ধারন করতেন।

দৃশ্যতঃ কৌশলগতভাবে ভারতের দীর্ঘদিনের উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে তাঁকে বিবেচনায় আনা হয়েছিল। তবে, তাঁর খেলোয়াড়ী জীবনে তা বাস্তবরূপ ধারন করেনি। সাধারণমানের বোলিংয়ের বিপক্ষে সফলতা পেলেও সত্যিকারের বোলিংয়ের বিপক্ষে রুখে দাঁড়াতে পারেননি।

এক পর্যায়ে ভারতের প্রথম পছন্দের উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানের মর্যাদা পেলে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বীরা কয়েকটি সুন্দর সূচনায় নিরাশ হন। শক্ত বোলিং আক্রমণ মোকাবেলা করে শতক হাঁকান। নাগপুরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে উভয় টেস্টে শতরান পেয়েছিলেন।

ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর কোচিং জগতের দিকে ধাবিত হন। আগস্ট, ২০২১ সালে ইংল্যান্ড সফরে ভারতের মহিলা দলের ব্যাটিং কোচ হিসেবে তাঁকে মনোনীত করা হয়। এরপূর্বে প্রধান কোচ রমেশ পাওয়ারের অধীনে নয়জন সহায়ক কর্মকর্তার অন্যতম হিসেবে তাঁকে রাখা হয়েছিল।

Similar Posts

  • আব্দুর রেহমান

    ১ মার্চ, ১৯৮০ তারিখে পাঞ্জাবের শিয়ালকোটে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিং করতেন। এছাড়াও, বামহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। পাকিস্তানের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। বামহাতি স্পিনার ছিলেন। ক্রিকেট বলকে বিরাটভাবে বাঁক খাওয়াতে না পারলেও নিখুঁততা বজায় রেখে ও ধারাবাহিকতা রক্ষা করে শুধুমাত্র যে ঘরোয়া পর্যায়েই সফল ছিলেন…

  • |

    রোনাল্ড ড্রাপার

    ২৪ ডিসেম্বর, ১৯২৬ তারিখে কেপ প্রভিন্সের আউটশুর্ন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৫০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৪৫-৪৬ মৌসুম থেকে ১৯৫৯-৬০ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে ইস্টার্ন প্রভিন্স ও গ্রিকুয়াল্যান্ড ওয়েস্টের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।…

  • | |

    ঋষিকেশ কানিতকর

    ১৪ নভেম্বর, ১৯৭৪ তারিখে মহারাষ্ট্রের পুনেতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। বামহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে কার্যকর অফ-ব্রেক বোলিং করতেন। ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ক্রীড়াপ্রেমী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা হেমন্ত কানিতকর ভারত ও মহারাষ্ট্রের পক্ষে খেলেছেন। ভ্রাতা আদিত্য গল্ফ এবং বৌমা ও শ্যালিকা রাধিকা তুলপুলে টেনিস খেলোয়াড়…

  • | | |

    ওমর হেনরি

    ২৩ জানুয়ারি, ১৯৫২ তারিখে কেপ প্রভিন্সের স্টেলেনবশ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, ধারাভাষ্যকার ও প্রশাসক। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিং করতেন। এছাড়াও, বামহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন করতেন। ১৯৯০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। পিতা-মাতা ও ছয় ভাই-বোনকে একটি কক্ষে গাদাগাদি অবসর শৈশবকাল অতিবাহিত করেছেন। ১৯৭৩-৭৪ মৌসুম থেকে ১৯৯৩-৯৪…

  • | |

    সলিল আঙ্কোলা

    ১ মার্চ, ১৯৬৮ তারিখে মহারাষ্ট্রের শোলাপুর এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। দীর্ঘকায় ও সুদর্শন চেহারার অধিকারী ফাস্ট বোলার। ১৯৮৮-৮৯ মৌসুম থেকে ১৯৯৬-৯৭ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর…

  • |

    চার্লস পাসাইলাইগু

    ৪ আগস্ট, ১৯০১ তারিখে জ্যামাইকার কিংস্টনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ১৯৩০-এর দশকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে জ্যামাইকার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯২৯-৩০ মৌসুম থেকে ১৯৩৮-৩৯ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। সব মিলিয়ে মাত্র ১২টি প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট…