|

শেলডন কট্রিল

১৯ আগস্ট, ১৯৮৯ তারিখে জ্যামাইকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। বামহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিং করে থাকেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

দ্রুতগতিসম্পন্ন ও পেশীবহুল খেলোয়াড় হিসেবে অপূর্ব ভঙ্গীমায় উইকেটের উভয় দিক দিয়ে বেশ সফল হন। এরফলে, প্রতিপক্ষীয় ব্যাটসম্যানদের সমীহের পাত্রে পরিণত হন। ২০১১ সাল থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে জ্যামাইকা ও লিওয়ার্ড আইল্যান্ডসের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, অ্যান্টিগুয়া হকসবিলস, ডেকান গ্ল্যাডিয়েটর্স, কিংস ইলাভেন পাঞ্জাব, রংপুর র‌্যাঞ্জার্স, সাজিকর হাই পারফরম্যান্স সেন্টার, সেন্ট কিটস ও নেভিস প্যাট্রিয়টস এবং ভ্যাঙ্কুভার নাইটসের পক্ষে খেলেছেন। ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১১ তারিখে সেন্ট এলিজাবেথে অনুষ্ঠিত জ্যামাইকা বনাম গায়ানার মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে। ২০১২-১৩ মৌসুমে চারদিনের ঘরোয়া প্রতিযোগিতায় ১৭ উইকেট দখল করে সংবাদ শিরোনামে চলে আসেন।

ক্যারিবীয় প্রিমিয়ার লীগের উদ্বোধনী আসরে অন্যতম উদীয়মান তরুণ ক্রিকেটার হিসেবে আবির্ভূত হন। সিপিএলে দারুণ খেলার সুবাদে নভেম্বর, ২০১৩ সালে ভারত গমনার্থে তাঁকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ‘এ’ দলে ঠাঁই দেয়া হয়। তবে, আঘাতের কারণে এ সফর থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নিতে বাধ্য হন। অবশ্য এক মাস পর ভারত সফরে প্রস্তুতিমূলক খেলায় দারুণ খেলে তিন উইকেটের সন্ধান পান ও টেস্ট দলে জায়গা করে নেন।

২০১৩ সাল থেকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে টেস্ট, ওডিআই ও টি২০আইয়ে অংশগ্রহণ করছেন। ২০১৩-১৪ মৌসুমে ড্যারেন স্যামি’র নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সদস্যরূপে ভারত সফরে যান। ৬ নভেম্বর, ২০১৩ তারিখে ইডেন গার্ডেন্সে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। কিন্তু, তেমন সাফল্য পাননি। ফলশ্রুতিতে, দ্বিতীয় টেস্ট থেকে বাদ পড়েন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ১/৭২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ০ ও ৫ রান সংগ্রহ করে উভয় ক্ষেত্রে অভিষেকধারী মোহাম্মদ শামি’র শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। তবে, অপর অভিষেকধারী রোহিত শর্মা’র অসামান্য ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ৫১ রানে জয় পেয়ে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

টি২০আইয়ের অভিষেক পর্বটি অবশ্য তুলনামূলকভাবে ভালো হয়েছিল। মার্চ, ২০১৪ তারিখে বার্বাডোসে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২/৩৭ পেয়েছিলেন। এরপর থেকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের টি২০আই দলের নিয়মিত সদস্যের পরিণত হন। ২০১৪-১৫ মৌসুমে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে দিনেশ রামদিনের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। কেমার রোচ আহত হলে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে নিজস্ব দ্বিতীয় টেস্ট খেলেন। ১৭ ডিসেম্বর, ২০১৪ তারিখে সেঞ্চুরিয়নে অনুষ্ঠিত সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ২ ও ৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/১২৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, হাশিম আমলা’র অনবদ্য দ্বি-শতকের কল্যাণে ঐ খেলায় সফরকারীরা খুব সহজে ইনিংস ও ২২০ রানে পরাজয়বরণ করলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে। এরফলে, পরের খেলায় তিনি উপেক্ষিত হন।

এরপর থেকে টি২০আইয়ে মনোনিবেশ ঘটাতে থাকেন ও বেশ সফল হন। গতি ও বোলিংয়ে ঝড় তুলে দল নির্বাচকমণ্ডলীর আস্থা কুড়ান। অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় তাঁকে দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এরপর থেকে পরবর্তী দুই বছর তিনি কোন ওডিআইয়ে অংশগ্রহণ করেননি। ২০১৭-১৮ মৌসুমে নিউজিল্যান্ড গমন করেন।

সম্পৃক্ত পোস্ট