১১ নভেম্বর, ১৯২৪ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের বোম্বেতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
১৯৪১-৪২ মৌসুম থেকে ১৯৫৯-৬০ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে বোম্বে ও পার্সির প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৪৪-৪৫ মৌসুমের রঞ্জী ট্রফিতে দারুণ খেলেন ও স্বর্ণালী সময় অতিবাহিত করেন। এ মৌসুমে সহস্রাধিক রান সংগ্রহ করেছিলেন তিনি। এরফলে, প্রথম ভারতীয় ব্যাটসম্যান সহস্রাধিক রান সংগ্রহের কৃতিত্ব গড়েন।
প্রথম-শ্রেণীর অভিষেক খেলায় পার্সিসের সদস্যরূপে ইউরোপিয়ান্সের বিপক্ষে ১৪৪ রান তুলেন। খুব শীঘ্রই তাঁকে বোম্বে দলের পক্ষে খেলার জন্যে মনোনীত করা হয়। মহারাষ্ট্রের বিপক্ষে ১৬৮, ওয়েস্টার্ন ইন্ডিয়ার বিপক্ষে ১২৮, সিন্ধুর বিপক্ষে ১৬০, ওয়েস্টার্ন ইন্ডিয়ার বিপক্ষে ২১০, বরোদার বিপক্ষে অপরাজিত ২৪৫ ও অপরাজিত ৩১, নর্দার্ন ইন্ডিয়ার বিপক্ষে ৯৮ ও হোলকারের বিপক্ষে ১৫১ রান তুলেছিলেন। এগুলোর মাঝে ইউরোপিয়ান্সের বিপক্ষে ২১৫ ও সফরকারী অস্ট্রেলীয় দলের বিপক্ষে অনানুষ্ঠানিক সিরিজে ২০৩ রান তুলেন। প্রতিনিধিত্বকারী খেলায় ভারতীয় হিসেবে এটিই প্রথম দ্বি-শতরানের ইনিংস ছিল। এ ইনিংসকেই তিনি তাঁর সেরা ইনিংস হিসেবে পরিগণিত করেছিলেন।
১৯৪০-এর দশকের শুরুতে বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীনও ভারতীয় ক্রিকেটে দুই বিজয় – মার্চেন্ট ও হাজারে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রান সংগ্রহে একে-অপরের রেকর্ড ভাঙ্গা-গড়ায় অংশ নেয়াকালে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগী হিসেবে আবির্ভূত হন।
১৯৪৬ থেকে ১৯৫২ সাল পর্যন্ত সময়কালে ভারতের পক্ষে দশটি টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। ৬জন পার্সি ক্রিকেটারের অন্যতম হিসেবে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। একটি শতরানের ইনিংস সহযোগে ৪৬.০০ গড়ে ৭৩৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন তিনি। ১৯৪৬ সালে ইফতিখার আলী খান পতৌদি’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের সাথে ইংল্যান্ড সফরে যান। ২২ জুন, ১৯৪৬ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে অংশ নেন। বিনু মানকড়, সাদু সিন্ধে, বিজয় হাজারে, আব্দুল কারদার ও গুল মোহাম্মদের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ৫৭* ও ২১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। স্বাগতিক দল ১০ উইকেটে জয় পায় ও তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
কমপক্ষে ১০ টেস্টে অংশ নেয়া ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের গড়ের তালিকায় ভিভিএস লক্ষ্মণ, মোহাম্মদ আজহারউদ্দীন ও সৌরভ গাঙ্গুলীকে পাশ কাটিয়ে অষ্টম স্থানে অবস্থান করেন। ৪৬.০০ গড়ে ৭৩৬ রান পেয়েছেন। তন্মধ্যে, ১৯৪৮-৪৯ মৌসুমে শক্তিধর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত সিরিজে ৫৬৯ রান সংগ্রহ করেন। ১৩ বছর এক সিরিজে সর্বাধিক রান সংগ্রহের ভারতীয় রেকর্ডের সাথে যুক্ত ছিলেন।
১৯৫২-৫৩ মৌসুমে নিজ দেশে আব্দুল কারদারের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের উদ্বোধনী সফরে খেলার জন্যে মনোনীত হন। ১৩ নভেম্বর, ১৯৫২ তারিখে বোম্বের বিএসে অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। একবার ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়ে ৩২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলায় স্বাগতিকরা ১০ উইকেটে জয় পেয়ে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
ঘরোয়া ক্রিকেটে নিজেকে আরও বিকশিত করেছিলেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ২০ শতক সহযোগে ৫৩.০২ গড়ে ৭৫২৯ রান পেয়েছেন। রঞ্জী ট্রফিতে বোম্বে দলের পক্ষাবলম্বন করে ১০টি শতরানের ইনিংসসহ ৮১.৬৯ গড়ে ২৬৯৬ রান সংগ্রহ করেছেন। এ ধরনের উঁচুমানের ব্যাটসম্যান হিসেবে দৃষ্টিনন্দন ক্রীড়া নৈপুণ্যের পাশাপাশি দক্ষতার অপূর্ব স্বাক্ষর রাখতে তাঁর জুড়ি মেলা ভার ছিল। ধারাবাহিকতা রক্ষার ক্ষেত্রে বিজয় মার্চেন্ট ও বিজয় হাজারে’র তুলনায় ব্যাটসম্যান হিসেবে পিছিয়ে থাকলেও তাঁর ন্যায় খুব কম ব্যাটসম্যানই দলীয় সঙ্গী, প্রতিপক্ষ ও দর্শকদের সামনে স্ট্রোক প্লে প্রদর্শনে সোচ্চার ছিলেন।
১৭ মে, ১৯৯৬ তারিখে মহারাষ্ট্রের বোম্বে এলাকায় ৭১ বছর ১৮৮ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।
