|

রিজওয়ান-উজ-জামান

৪ সেপ্টেম্বর, ১৯৬১ তারিখে সিন্ধু প্রদেশের করাচী এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। পাশাপাশি, লেগ-ব্রেক গুগলি বোলিংয়েও দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন। ১৯৮০-এর দশকে পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

১৯৭৬-৭৭ মৌসুম থেকে ১৯৯৯-২০০০ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে করাচী ও পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

১৯৮১ থেকে ১৯৮৯ সময়কালে পাকিস্তানের পক্ষে সব মিলিয়ে ১১ টেস্ট ও তিনটিমাত্র একদিনের আন্তর্জাতিকে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৮১-৮২ মৌসুমে জাভেদ মিয়াঁদাদের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের সাথে অস্ট্রেলিয়া গমনের সুযোগ পান। ১৩ নভেম্বর, ১৯৮১ তারিখে পার্থের ওয়াকায় অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ০ ও ৮ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে টেরি অল্ডারম্যানের বলে বিদেয় নিয়েছিলেন। তবে, টেরি অল্ডারম্যানের অসাধারণ বোলিং সাফল্যে স্বাগতিকরা ২৮৬ রানে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়। একই সফরে ২১ নভেম্বর, ১৯৮১ তারিখে মেলবোর্নে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো ওডিআইয়ে অংশ নেন।

১৯৮৬-৮৭ মৌসুমে নিজ দেশে ভিভ রিচার্ডসের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ৭ নভেম্বর, ১৯৮৬ তারিখে লাহোরে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ২ ও ১ রান সংগ্রহ করে উভয় ক্ষেত্রে ম্যালকম মার্শালের শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। তবে, ম্যালকম মার্শালের বোলিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ইনিংস ও ১০ রানে জয়লাভ করলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

১৯৮৬-৮৭ মৌসুমে ইমরান খানের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের সাথে ভারত গমন করেন। ১৩ মার্চ, ১৯৮৭ তারিখে ব্যাঙ্গালোরের এম. চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ০ ও ১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ঐ টেস্টে ব্যাটিং কিংবদন্তী সুনীল গাভাস্কার ৯৬ রান তুলে নিজের নামের প্রতি সুবিচার করেছিলেন ও তাঁর ক্যাচ মুঠোয় নিয়েছিলেন। ১৬ রানে পরাজয়বরণ করলে স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

১৯৮৮-৮৯ মৌসুমে ইমরান খানের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড সফরে যান। ২৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮৯ তারিখে অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ১৫ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। তবে, জাভেদ মিয়াঁদাদের মনোমুগ্ধকর দ্বি-শতকের কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায়। একটি টেস্ট পরিত্যক্ত হলে ফলাফলবিহীন অবস্থায় সিরিজটি শেষ হয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

সম্পৃক্ত পোস্ট