২০ জুলাই, ১৯৭৩ তারিখে সেন্ট ভিনসেন্টের স্টাবস এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, বামহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

দীর্ঘকায় ও পেশীবহুল গড়নের অধিকারী। ঘণ্টায় ৮৫ মাইল গতিবেগে বোলিং করতে সক্ষম। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে সেন্ট ভিনসেন্ট, উইন্ডওয়ার্ড আইল্যান্ডস; দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে কোয়াজুলু-নাটাল, নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে ক্যান্টারবারি এবং ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে হ্যাম্পশায়ার ও সমারসেটের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৯২-৯৩ মৌসুম থেকে ২০০৫-০৬ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরে দূর্দান্ত খেলার সুবাদে জাতীয় দল নির্বাচকমণ্ডলীর দৃষ্টি আকর্ষণে সক্ষম হন।

১৯৯৮ সালে প্রথমবারের মতো ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেট খেলার সুযোগ পান। হ্যাম্পশায়ারের পক্ষে দুই মৌসুম খেলেন। ২০০৩ সালকে ঘিরে সমারসেটের সাথে চুক্তিবদ্ধ হন। ঐ বছরের এপ্রিল মাসে লাফবোরা ক্রিকেট এক্সিলেন্স ইউনিভার্সিটি সেন্টারের বিপক্ষে তিনদিনের খেলায় প্রথম অংশ নেন। তিন মৌসুম খেলে ক্লাবের একদিনের দলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। এছাড়াও, ৩৩টি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিয়ে ২৯.২২ গড়ে ১২০ উইকেট পেয়েছিলেন। ব্যক্তিগত সেরা ৬/৭৯ পান।

১৯৯৬ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত সময়কালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে সর্বমোট ১৯ টেস্ট ও ৪৫টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ৬ ডিসেম্বর, ১৯৯৬ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওডিআইয়ে প্রথম অংশ নেন। ২০০১ সালে পর্যন্ত একদিনের দলের নিয়মিত সদস্য ছিলেন। ২০০২ সালের শেষদিকে কোয়াজুলু-নাটালের পক্ষে দূর্দান্ত খেলার সুবাদে ২০০৩ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় তাঁকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলে যুক্ত করা হয়।

১৯৯৭-৯৮ মৌসুমে নিজ দেশে মাইক অ্যাথার্টনের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের মুখোমুখি হন। ২৯ জানুয়ারি, ১৯৯৮ তারিখে কিংস্টনে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। তবে, প্রথম দিন বল বিপজ্জ্বনকভাবে লাফিয়ে উঠে ব্যাটসম্যানদেরকে আঘাতের কারণে ১০.১ ওভার শেষে ৫৬ মিনিট পর দলের সংগ্রহ ১৭/৩ থাকাকালে খেলাটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে ছয়-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

এরপর, ৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৮ তারিখে পোর্ট অব স্পেনে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/২৮ ও ২/৪৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। কার্ল হুপারের অসাধারণ ব্যাটিং দৃঢ়তায় স্বাগতিকরা ৩ উইকেটে জয় পেলে ছয়-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

একই সফরের ১৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৮ তারিখে পোর্ট অব স্পেনে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাটিংয়ে নেমে ১১ ও ২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/২৩ ও ০/১৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। অ্যাঙ্গাস ফ্রেজারের বোলিং দাপটে সফরকারীরা ৩ উইকেটে জয় পেলে ছয়-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে সমতা বিরাজ করে।

এরপর, ১২ মার্চ, ১৯৯৮ তারিখে ব্রিজটাউনে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৭* রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ২/৭৩ ও ০/১৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। মার্ক রামপ্রকাশের অসাধারণ ব্যাটিং নৈপুণ্যে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে ছয়-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে স্বাগতিকরা ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

১৯৯৮-৯৯ মৌসুমে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে ব্রায়ান লারা’র নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের অন্যতম সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। স্মর্তব্য যে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ – দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার এটিই প্রথম টেস্ট ছিল। ২৬ নভেম্বর, ১৯৯৮ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি হন। ব্যক্তিগত সফলতার ছাঁপ রাখেন। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ১১ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ২৮ ও ১১ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ২/৬৬ ও ১/১৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, শন পোলকের অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ৪ উইকেটে পরাজিত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

একই সফরের ১৫ জানুয়ারি, ১৯৯৯ তারিখে সেঞ্চুরিয়নে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ৮ ও ৩৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৭১ ও ১/৮৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ৩৫১ রানে পরাজিত হলে সফরকারীরা ৫-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

২০০০ সালে নিজ দেশে মঈন খানের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের মুখোমুখি হন। ১৮ মে, ২০০০ তারিখে ব্রিজটাউনে অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ১/৬৩ ও ২/১১২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ফলাফলবিহীন অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

২০০০-০১ মৌসুমে জিমি অ্যাডামসের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সাথে অস্ট্রেলিয়া সফরে যান। ২৩ নভেম্বর, ২০০০ তারিখে ব্রিসবেনের গাব্বায় অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যাট হাতে নিয়ে ০ ও ১৩ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৭৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। স্বাগতিকরা গ্লেন ম্যাকগ্রা’র অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে ইনিংস ও ১২৬ রানে জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

একই সফরের ২ জানুয়ারি, ২০০১ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। ব্যাট হাতে নিয়ে ০ ও ১৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ১/৮১ ও ১/৩৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। সফরকারীরা মাইকেল স্লেটারের অনবদ্য ব্যাটিংয়ের কল্যাণে ৬ উইকেটে পরাজয়বরণ করলে ৫-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

২০০০-০১ মৌসুমে নিজ দেশে শন পোলকের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ১৭ মার্চ, ২০০১ তারিখে পোর্ট অব স্পেনে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ৩/৬০ ও ০/৭৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ৩ ও ২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ড্যারিল কালিনানের অসাধারণ ব্যাটিংয়ে স্বাগতিকরা ৬৯ রানে পরাভূত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

ওডিআইগুলো থেকে ৩৭.৫৮ গড়ে ৪৫ উইকেট দখল করেছিলেন। এছাড়াও, টেস্টে ৪২.৫৬ গড়ে ৪৪ উইকেট পেয়েছিলেন। নিজেকে কখনো টেস্ট মানের উপযোগী বোলারে পরিণত করতে পারেননি। পেস, গতি কিংবা ধারাবাহিকতার কোনটিই বোলার উপযোগী পিচে নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি। এছাড়াও, কোন আন্তর্জাতিক খেলাতেই তিনের অধিক উইকেটের সন্ধান পাননি।

ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর প্রশাসনের দিকে ঝুঁকে পড়েন। ২০১৭ সালে ডব্লিউআইপিএ’র সহঃসভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

সম্পৃক্ত পোস্ট