৮ নভেম্বর, ১৯৮১ তারিখে ডাবলিনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যানের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। উইকেট-রক্ষণের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বামহাতে ব্যাটিং করতেন। আয়ারল্যান্ডের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
‘প্যাডি’ ডাকনামে ভূষিত নিয়ল ও’ব্রায়ান ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী। ডাবলিনভিত্তিক মারিয়ান কলেজে অধ্যয়ন করেছেন। ২০০৪ থেকে ২০১৮ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে কেন্ট ও নর্দাম্পটনশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, রংপুর রাইডার্সের পক্ষে খেলেছেন। ১৬ এপ্রিল, ২০০৪ তারিখে ব্রিস্টলে গ্লুচেস্টারশায়ার বনাম কেন্টের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান।
বামহাতি ব্যাটসম্যান ও উইকেট-রক্ষক হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক মনোভাবের অধিকারী ছিলেন। স্ট্যাম্পের পিছনে অবস্থান করে ক্রমাগত বকবক করার কারণে পরিচিতি পেয়েছেন। কয়েকটি দূর্দান্ত ইনিংস খেলে ক্রিকেট বিশ্বে আয়ারল্যান্ডের পরিচিতি আনয়ণে প্রভূত ভূমিকা রেখেছেন।
উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যান হিসেবে অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। খেলোয়াড়ী জীবনের সূচনালগ্নে মোজম্যান ও নর্থ সিডনি দলের পক্ষে গ্রেড ক্রিকেটে সময় অতিবাহন করেন। আয়ারল্যান্ডের অন্যতম খেলোয়াড় হিসেবে সর্বাধিক খেলায় অংশগ্রহণ করেছেন।
আয়ারল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক ব্রেন্ডন ও’ব্রায়ানের সন্তান। কনিষ্ঠ ভ্রাতা কেভিন ও’ব্রায়ানের সাথে আয়ারল্যান্ড দলে একত্রে খেলেছেন। তবে, কেভিন ও’ব্রায়ানের তুলনায় কম মারমুখী ভঙ্গীমায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ২০১২ সালের শুরুতে ক্রিকেট আয়ারল্যান্ড কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তকে অমান্য করে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগে যুক্ত হন। পরবর্তীতে বিশ্ব টি২০ বাছাইপর্বে দলের বাইরে থাকেন। দলে পুণরায় ফিরে আসলেও গ্যারি উইলসনকে স্ট্যাম্পের পিছনে খেলানো হয়। পরবর্তীতে অবশ্য উইকেট-রক্ষণে গ্লাভস ফিরে পান।
কেন্টের পক্ষে কাউন্টি ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ফলে, অনেক ইংরেজ খেলোয়াড়ের কাছেই পরিচিত ছিলেন। তবে, ইংল্যান্ড দল থেকে জেরাইন্ট জোন্সের স্থানচ্যূতি ঘটলে দলে চলে আসলে তাঁকে কেন্ট কর্তৃপক্ষ অব্যহতি দেয়। ফলশ্রুতিতে, ২০০৮ সালের শুরুতে নর্দাম্পটনশায়ারের সাথে খেলতে থাকেন। এ কাউন্টিতে খেলে যথেষ্ট সফলতার স্বাক্ষর রাখেন। ঐ বছরই বর্ষসেরা নর্দান্টস খেলোয়াড়ের সম্মাননাপ্রাপ্ত হন ও তিন বছরের চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। নিকি বোয়ের অধিনায়কত্ব থেকে পদত্যাগের ফলে অ্যান্ড্রু হল এ দায়িত্বে চলে আসেন ও তার সহকারী হিসেবে থাকেন। জুন, ২০১০ সালে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে দায়িত্ব থেকে অব্যহতিসহ নিষিদ্ধতার কবলে পড়েন। তবে, পরবর্তীতে শুনানীতে নির্দোষ প্রমাণিত হলেও সহঃঅধিনায়কের দায়িত্বে রাখা হয়। ঐ মৌসুমে আঙ্গুলের আঘাতের কারণে অধিকাংশ সময়ই মাঠে নামতে পারেননি।
তাসত্ত্বেও, ব্যাট হাতে নিয়ে ক্রমাগত সফল হয়েছিলেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে নর্দান্টসের পক্ষে ৩৫.৭২ গড়ে রান পেয়েছেন। ২০১৩ সালের শুরুতে তিন বছরের চুক্তিতে লিচেস্টারশায়ারে চলে যান। সেখানে অভিজ্ঞতার মিশেল ঘটিয়ে নাজুক ব্যাটিং অবস্থানে গড়া দলের ভিত্তি স্থাপনে অগ্রসর হন। ২০১৪ সালে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ৯৭১ রান তুলেছিলেন। এটিই যে-কোন ইংরেজ মৌসুমে ব্যক্তিগত সংগ্রহ করেন।
আত্মবিশ্বাসী চিত্তের অধিকারী। আন্তঃমহাদেশীয় কাপে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে খেলাকালীন কর্মকর্তাদের সাথে বাদানুবাদের ফলে এক খেলায় অংশগ্রহণের উপর নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়েন। ২০০৪ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৫৮ রান তুলে দলের বিজয়েও ভূমিকা রেখেছিলেন। ব্রায়ান লারা’র মুঠোতে ক্যাচ তালুবন্দী হলেও মাঠ ছাড়তে অনীহা প্রকাশ করেছিলেন।
২০০৬ সাল থেকে ২০১৮ সময়কালে আয়ারল্যান্ডের পক্ষে একটিমাত্র টেস্ট, ১০৩টি ওডিআই ও ৩০টি টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছেন। ৫ আগস্ট, ২০০৬ তারিখে আয়ারল্যান্ডের সদস্যরূপে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো একদিনের আন্তর্জাতিকে অংশ নেন। ২০০৭ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন। পাকিস্তানের বিপক্ষে ৭২ রানের অমূল্য ইনিংস খেলে আয়ারল্যান্ডের অপ্রত্যাশিত বিজয়ে প্রভূতঃ ভূমিকা পালন করেছিলেন। দলীয় ইনিংসের অর্ধেকেরও বেশী রান তুলে সেন্ট প্যাট্রিকস্ ডেতে তিন উইকেটে জয় এনে দিয়েছিলেন। এরপর, একই প্রতিযোগিতায় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৬৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ঐ খেলায় অবশ্য আয়ারল্যান্ড দল ৪৮ রানে পরাভূত হয়েছিল।
২০১১ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় ছয় খেলায় অংশ নেন। তন্মধ্যে, নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে অপরাজিত ৫৭ রানের ইনিংস খেলেন। ২০১৫ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় তৃতীয়বারের মতো অংশ নেন। এ প্রতিযোগিতাকে ঘিরে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও দুবাইয়ে প্রস্তুতিমূলক খেলায় অংশ নিয়েছিলেন। তন্মধ্যে, অস্ট্রেলিয়ান ক্যাপিটাল টেরিটরির বিপক্ষে ৮৮, ক্যান্টারবারির বিপক্ষে ৫৫ ও নিউজিল্যান্ড ‘এ’ দলের বিপক্ষে ৬৮ রান তুলেছিলেন।
জানুয়ারি, ২০১৫ সালে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে তৎকালীন খেলোয়াড়ী জীবনের সেরা অপরাজিত ৮০ রান সংগ্রহ করেন। আয়ারল্যান্ডের ইতিহাসের উদ্বোধনী টেস্টে বয়েড র্যাঙ্কিন বাদে অন্য সকলের সাথে তাঁর একযোগে অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ২০১৭-১৮ মৌসুমে নিজ দেশে সরফরাজ আহমদের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের মুখোমুখি হন। ১১ মে, ২০১৮ তারিখে ডাবলিনের মালাহাইডের দ্য ভিলেজে অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের একমাত্র টেস্টে ০ ও ১৮ রান সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন। ঐ টেস্টে তাঁর দল ৫ উইকেটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছিল।
৩৫ বছর বয়সে ২০১৬ সাল শেষে কাউন্টি ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণ করেন। এরপর প্রতিভা অন্বেষণ কর্মে নিজেকে জড়িত রাখেন। লিচেস্টারশায়ারে বসবাসের পরিকল্পনা করলেও ২০১৭ সালে নবপ্রবর্তিত প্রথম-শ্রেণীর প্রতিযোগিতাকে ঘিরে লিনস্টার লাইটনিংয়ের সাথে খেলার পরিকল্পনা করেন ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণ করেননি। অতঃপর, ১২ অক্টোবর, ২০১৮ তারিখে ৩৬ বছর বয়সে ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের কথা ঘোষণা করেন।
