|

নাথান ব্রাকেন

১২ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৭ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের পেনরিথ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে দায়িত্ব পালন করে গেছেন। বামহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ২০০০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

‘ব্রাক্স’ কিংবা ‘অ্যান্ডি জি’ ডাকনামে ভূষিত নাথান ব্রাকেন ১.৯৫ মিটার উচ্চতাসম্পন্ন লিকলিকে গড়নের অধিকারী। বলকে উভয়দিক দিয়েই সিম আনয়ণ করতে পারেন। ফলকনব্রিজ প্রাইমারিতে অধ্যয়নের পর স্প্রিংউড হাই স্কুলে অধ্যয়ন করেছেন। ১৯৯৮-৯৯ মৌসুম থেকে ২০০৮-০৯ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে নিউ সাউথ ওয়েলস এবং ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে গ্লুচেস্টারশায়ার ও ওরচেস্টারশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তন্মধ্যে, ২০০৪ সালে গ্লুচেস্টারশায়ারের ক্যাপ লাভ করেন। এছাড়াও, রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরের পক্ষে খেলেছেন। খুব সহজেই ২০০০-০১ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়ার ওডিআই দলে প্রবেশ করেন।

২০০১ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত সময়কালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে পাঁচটিমাত্র টেস্ট, ১১৬টি ওডিআই ও ১৯টি টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছেন। ১১ জানুয়ারি, ২০০১ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন। ২০০১ সালে দলের সাথে ইংল্যান্ড গমন করেন। তবে, দুই খেলায় অংশ নেয়ার পর কাঁধের আঘাতে দেশে ফিরে আসতে হয়। কিছুকাল মাঠের বাইরে থাকার পর জেসন গিলেস্পি’র গোড়ালীর আঘাতের কারণে তাঁকে ২০০৩ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় অস্ট্রেলিয়া দলে রাখা হয়।

২০০৩-০৪ মৌসুমে নিজ দেশে সৌরভ গাঙ্গুলী’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ৪ ডিসেম্বর, ২০০৩ তারিখে ব্রিসবেনে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ৬* রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৯০ ও ২/১২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

তবে, তিন খেলা থেকে সুবিধে করতে পারেননি। ভারতের মজবুত ব্যাটিং অবস্থানের কারণে নিজেকে মেলে ধরতে ব্যর্থ হন। ২০০৪ সালে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার কেন্দ্রীয় চুক্তির আওতায় আসেননি। কিন্তু, ২০০৫ সালের সুপার সিরিজের মাধ্যমে ওডিআইয়ে সফল প্রত্যাবর্তন করেন। দলের নিয়মিত খেলোয়াড়ে পরিণত হন।

২০০৫-০৬ মৌসুমে দুই টেস্ট খেলেন। ২০০৫-০৬ মৌসুমে নিজ দেশে শিবনারায়ণ চন্দরপলের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ৩ নভেম্বর, ২০০৫ তারিখে ব্রিসবেনের গাব্বায় অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ০/২৩ ও ৪/৪৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ৩৭ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। দলীয় অধিনায়ক রিকি পন্টিংয়ের দৃঢ়চেতা ব্যাটিংয়ের কল্যাণে স্বাগতিকরা ৩৭৯ রানের বিশাল ব্যবধানে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

একই মৌসুমে নিজ দেশে গ্রায়েম স্মিথের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ১৬ ডিসেম্বর, ২০০৫ তারিখে পার্থে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১/৪৬ ও ১/৩৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ১০ ও ১৪* রান সংগ্রহ করেন। ব্রাড হজের দূর্দান্ত প্রয়াস সত্ত্বেও খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অগ্রসর হতে থাকে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

২০০৭ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয়বারের মতো অংশ নেন। দলের সবগুলো খেলায় অংশ নেন ও অস্ট্রেলিয়ার হ্যাট্রিক শিরোপা লাভে ভূমিকা রাখেন। বড় আসরের ক্রিকেটে যথাসাধ্য মেলে ধরতেন। ২০০৬ থেকে ২০০৮ সময়কালে নিজের স্বর্ণালী সময় অতিবাহিত করেন। ওডিআইয়ে বিশ্বের অন্যতম সেরা বোলারে পরিণত করেন। ২০০৮ সালে শীর্ষ ওডিআই বোলার হিসেবে উপস্থাপিত করেন। তবে, ২০০৮-০৯ মৌসুমে কয়েকবার হাঁটুতে চোঁট পেলে খেলায় ভাটা পড়ে ও এক পর্যায়ে অস্ত্রোপচার করতে হয়। পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের পেসারদের উত্থানে তাঁকে দূরে সড়ে যেতে হয়। এছাড়াও, কেন্দ্রীয় চুক্তির বাইরে চলে যান।

২৯ জানুয়ারি, ২০১১ তারিখে হাঁটুর ক্রমাগত আঘাতের প্রেক্ষিতে অনেকটা জোরপূর্বক সকল স্তরের ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণ করতে বাধ্য হন। ২০০০-এর দশকে ওডিআইয়ে অস্ট্রেলিয়ার নির্ভরযোগ্য সিমারে পরিণত হয়েছিলেন। সীমিত-ওভারের ক্রিকেটে দলের সাফল্যের সাথে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত ছিলেন। সর্বদাই অবহেলিত বীরে পরিণত হয়েছেন। ওডিআইগুলো থেকে ২৪.৩৬ গড়ে ১৭৪ উইকেট পেয়েছিলেন। তন্মধ্যে, দুইবার পাঁচ-উইকেটের সন্ধান পান।

ডবেল নির্বাচনী এলাকা থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত। হেলি নাম্নী এক রমণীর পাণিগ্রহণ করেন।

সম্পৃক্ত পোস্ট