|

মোহাম্মদ শরীফ

১২ ডিসেম্বর, ১৯৮৫ তারিখে নারায়ণগঞ্জে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, নিচেরসারিতে ডানহাতে কার্যকর ব্যাটসম্যানের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ২০০০-এর দশকে বাংলাদেশের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

৫ ফুট ৬ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী। খুব স্বল্পসংখ্যক বাংলাদেশী বোলারদের অন্যতম হিসেবে বলকে রিভার্স-সুইং করাতে পারতেন। নিজ জেলা নারায়ণগঞ্জের বেশ পরিচিত মুখ ছিলেন। ২০০০-০১ মৌসুম থেকে ২০১৮-১৯ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর বাংলাদেশী ক্রিকেটে মধ্যাঞ্চল ও ঢাকা বিভাগের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, বিমান বাংলাদেশ, ঢাকা ওয়ারিয়র্স, রংপুর রাইডার্স ও ভিক্টোরিয়া স্পোর্টিং ক্লাবের পক্ষে খেলেছেন। ২০০০ সালে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে। জাতীয় লীগে দূর্দান্ত খেলেন। ফলশ্রুতিতে, ১৭ বছর বয়সে জাতীয় দলে খেলার পথ সুগম হয়। টেস্ট অভিষেকের পূর্বে টেপ-টেনিস ক্রিকেটে মারকুটে ব্যাটসম্যানের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন ও ষোলটি শতক হাঁকিয়েছিলেন।

২০০১ থেকে ২০০৭ সময়কালে বাংলাদেশের পক্ষে সব মিলিয়ে ১০ টেস্ট ও নয়টিমাত্র ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ২০০০-০১ মৌসুমে নাইমুর রহমানের অধিনায়কত্বে দলের সাথে জিম্বাবুয়ে গমন করেন। ৭ এপ্রিল, ২০০১ তারিখে হারারেতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওডিআই অভিষেক হয়।

এরপর, একই সফরের ১৯ এপ্রিল, ২০০১ তারিখে বুলাওয়েতে সিরিজের প্রথম টেস্টে অংশ নেন। জাভেদ ওমর, মঞ্জুরুল ইসলাম ও মুশফিকুর রহমানের সাথে তাঁর একযোগে অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। স্বাগতিক দল ইনিংস ও ৩২ রানে জয় পেয়ে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। ব্যাট হাতে ০ ও ৮ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, বল হাতে ১/১১২ বোলিং পরিসংখ্যান গড়েন। অ্যালিস্টার ক্যাম্পবেলকে বিদেয় করেন। পাশাপাশি, দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গড়পড়তা সফলতার স্বাক্ষর রেখেছেন। ফলশ্রুতিতে, ২০০২ সালে দলের বাইরে চলে যেতে হয়। ২০০৩ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতা শেষ হবার অল্প কিছুদিন পরই আঘাতের কবলে পড়েন। ফলশ্রুতিতে, ভারত ও অস্ট্রেলিয়ায় কয়েকবার অস্ত্রোপচার করতে হয়। তবে, নয়মাস পর খেলার জগতে ফিরে আসলেও বেশ নিষ্প্রভ ছিলেন। অবশেষে প্রায় চার বছর পর পুণরায় জাতীয় দলে ঠাঁই পান। জিম্বাবুয়ে সফরে যান। দলে আসা-যাবার পালায় থাকেন।

২০০৭ সালে মোহাম্মদ আশরাফুলের অধিনায়কত্বে শ্রীলঙ্কা সফরে যান। ৩ জুলাই, ২০০৭ তারিখে কলম্বোর পিএসএসে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তাঁর দল ইনিংস ও ৯০ রানে পরাজিত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে। ৪ ও ২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। বল হাতে নিয়ে ৮৬ রান খরচ করলেও কোন উইকেটের সন্ধান পাননি। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়। মূলতঃ আঘাতের কারণেই জাতীয় দলে নিয়মিত খেলোয়াড় হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেননি।

ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন হন ও ২০০৮ সালে অনুমোদনবিহীন আইসিএলে যুক্ত হন। ফলশ্রুতিতে, বিসিবি কর্তৃক দশ বছরের নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়েন। তবে, পরের বছরই ঐ লীগ থেকে চলে আসেন ও ঢাকার পক্ষে এনসিএলে খেলেছিলেন। ১২ এপ্রিল, ২০২০ তারিখে ২০ বছরের বর্ণাঢ্যময় ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণের কথা ঘোষণা করেন। এরফলে মাত্র সাত উইকেট দূরে থেকে ও বাংলাদেশের প্রথম পেস বোলার হিসেবে ১৩২ খেলায় অংশ নিয়ে ৪০০ প্রথম-শ্রেণীর উইকেট লাভ করা থেকে বঞ্চিত হন।

Similar Posts

  • |

    বাকা জিলানী

    ২০ জুলাই, ১৯১১ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের পাঞ্জাবের জলন্ধরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৩০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ৬ ফুট উচ্চতার দীর্ঘদেহের অধিকারী ছিলেন। লেগ-ব্রেক ও মিডিয়াম-পেস লেগ-কাটার সহযোগে বোলিং করতেন। ১৯৩৪-৩৫ মৌসুম থেকে ১৯৩৮-৩৯ মৌসুম পর্যন্ত…

  • | |

    তিলকরত্নে দিলশান

    ১৪ অক্টোবর, ১৯৭৬ তারিখে কালুতারায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। পাশাপাশি উইকেট-রক্ষণে অগ্রসর হতেন। শ্রীলঙ্কার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সকল স্তরে অংশ নিয়েছেন। শ্রীলঙ্কা দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। আক্রমণাত্মক ভঙ্গীমা প্রদর্শন, শক্তিশালী কব্জির গড়ন ও সহজাত সময় নিয়ন্ত্রণে অন্যতম সেরা বিনোদনধর্মী ক্রিকেটারে পরিণত হয়েছিলেন।…

  • |

    রে লিন্ডওয়াল

    ৩ অক্টোবর, ১৯২১ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের মাস্কট এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। নান্দনিক নির্যাস ও বিশুদ্ধতাকে ক্রিকেটীয় সৌন্দর্য্যে উপস্থাপন করেছিলেন। দৌঁড়ে উইকেটে চলে যেতেন না। দৌঁড়ের শেষদিকে গতি বাড়িয়ে দিতেন ও বাহু মেলে…

  • |

    ইভান ব্যারো

    ১৬ জানুয়ারি, ১৯১১ তারিখে জ্যামাইকার বেলমন্ট পেন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষণে অগ্রসর হয়েছিলেন। উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ডানহাতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন করতেন। ১৯৩০-এর দশকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। দুই বিশ্বযুদ্ধের মধ্যবর্তী সময়ে খুব সম্ভবতঃ ওয়েস্ট ইন্ডিজের সর্বাপেক্ষা ভালোমানের উইকেট-রক্ষক ছিলেন। এ দেশ থেকে প্রথম উইকেট-রক্ষক হিসেবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলে নিয়মিতভাবে…

  • |

    হরভজন সিং

    ৩ জুলাই, ১৯৮০ তারিখে পাঞ্জাবের জলন্ধরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে অবদান রেখেছিলেন। ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ভারতের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ৫ ফুট ১১ ইঞ্চি (১.৮০ মিটার) উচ্চতার অধিকারী। সরদার সরদেব সিং প্লাহা ও অবতার কৌর দম্পতির সন্তান ছিলেন। ভারতের অন্যতম সেরা অফ-স্পিনারের মর্যাদা পেয়েছেন।…

  • |

    গ্রায়েম ওয়াটসন

    ৮ মার্চ, ১৯৪৫ তারিখে ভিক্টোরিয়ার কিউ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে সবিশেষ পারদর্শীতা দেখিয়েছেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ‘বিটল’ ডাকনামে ভূষিত হয়েছিলেন। ১.৮২ মিটার ও ৭৩ কেজি ওজনের অধিকারী ছিলেন। ১৯৬৪-৬৫ মৌসুম থেকে ১৯৭৬-৭৭ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া…