|

মাইকেল ব্রেসওয়েল

১৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯১ তারিখে ওয়াইরারাপার মাস্টারটন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলছেন। এছাড়াও, উইকেট-রক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে থাকেন। বামহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

ক্রিকেটপ্রিয় ব্রেসওয়েল পরিবারের সর্বকনিষ্ঠ সদস্য। পাঁচ বছর বয়স থেকে ক্রিকেট খেলতে শুরু করেন। ক্রিকেটের পাশাপাশি রাগবি ও বাস্কেটবলে দক্ষতার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন। অ্যাডাম গিলক্রিস্টকে পছন্দের তালিকার শীর্ষে রেখে বিধ্বংসী ব্যাটসম্যানের ভূমিকায় অগ্রসর হন। নিউজিল্যান্ডের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের পক্ষে খেলেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে ওতাগো ও ওয়েলিংটনের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১১ তারিখে ন্যাপিয়ারে অনুষ্ঠিত ওতাগো বনাম সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টসের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান। ২০২০-২১ মৌসুমে চার শতক সহযোগে ৭২৫ রান তুলেন। তন্মধ্যে, একটি শতরানের ইনিংস নিউজিল্যান্ড ‘এ’ দলের পক্ষে করেছিলেন। পরবর্তী গ্রীষ্মে টি২০ সুপার স্ম্যাশ প্রতিযোগিতায় শীর্ষ রান সংগ্রাহকে পরিণত হন। এরফলে, নেদারল্যান্ডস গমনার্থে তাঁকে জাতীয় দলের সদস্যরূপে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

১ আগস্ট, ২০২২ তারিখে নিউজিল্যান্ডীয় ঘরোয়া ক্রিকেটের টি২০ খেলায় ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানের ইনিংস খেলেন। তিন নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে ৬৫ বল মোকাবেলান্তে ১৪১ রান তুলেন। এরফলে, সুপার স্ম্যাশ প্রতিযোগিতায় সেন্ট্রাল স্ট্যাগসের বিপক্ষে ওয়েলিংটন ফায়ারবার্ডস জয়লাভে সক্ষম হয়। ১১টি ছক্কা ও সমসংখ্যক চারের মার ছিল। এরফলে, এক দশক পূর্বে ক্যান্টারবারির বিপক্ষে অকল্যান্ডের সদস্যরূপে মার্টিন গাপটিলের গড়া ১২০ রানের রেকর্ড ম্লান হয়ে পড়ে। টি২০ ক্রিকেটে এটিই তাঁর প্রথম শতরানের ইনিংস।

২০২২ সাল থেকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে টেস্ট, ওডিআই ও টি২০আইয়ে অংশ নিচ্ছেন। ২০২২ সালে মিচেল স্যান্টনারকে সাথে নিয়ে নিউজিল্যান্ডের ১১-০ ব্যবধানে ইউরোপ বিজয়ে দূর্দান্ত ভূমিকা রাখেন। এ পর্যায়ে দলটি আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ওডিআই ও টি২০আইয়ে ৬-০, স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ওডিআই ও টি২০আইয়ে ৩-০ এবং নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে।

নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অভিষেক হবার পর ইংল্যান্ড গমনার্থে নিউজিল্যান্ড দলের সদস্য হন। এ সফরে দলের নিয়মিত অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন কোভিড-১৯ বৈশ্বিক অতিমারীতে আক্রান্ত হলে ১০ জুন, ২০২২ তারিখে নটিংহামের ট্রেন্ট ব্রিজ টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ৪৯ ও ২৫ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৩/৬২ ও ০/৬০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, জনি বেয়ারস্টো’র অসাধারণ মারকুটে শতকের কল্যাণে স্বাগতিকরা ৫ উইকেটে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

২০২২-২৩ মৌসুমে নিজ দেশে বেন স্টোকসের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো মুখোমুখি হন। ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ তারিখে মাউন্ট মুঙ্গানুইয়ে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ০/১৩ ও ৩/৬৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ৭ ও ২৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। পাশাপাশি, দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, হ্যারি ব্রুকের অসাধারণ ব্যাটিংয়ের কল্যাণে স্বাগতিকরা ২৬৭ রানে পরাজিত হলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

১০ জুলাই, ২০২২ তারিখে স্বাগতিক আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ওডিআইয়ে চমৎকার ক্রীড়াশৈলীর স্বাক্ষর রাখেন। মাত্র ৮২ বলে ১২৭ রানের অপরাজিত ও ঝড়ো ইনিংস খেলে দলকে ১ বল বাকী থাকতে ১ উইকেটের নাটকীয় বিজয় এনে দেন। তাঁর এ ইনিংসটিতে ১০টি চার ও সাতটি ছক্কার মার ছিল। ঐ খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।

২৯ জুলাই, ২০২২ তারিখে স্বাগতিক স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে মার্ক চ্যাপম্যানের সাথে অর্ধ-শতরানের ইনিংস খেলে নিউজিল্যান্ডের টি২০আইয়ে দলীয় সর্বাধিক রান সংগ্রহে বিরাট ভূমিকা রাখেন। এ খেলায় দলটি ১৮টি ছক্কা হাঁকায় ও ১০২ রানের ব্যবধানে স্কটল্যান্ডকে পরাজিত করে।

২০২২-২৩ মৌসুমে নিজ দেশে ডিমুথ করুণারত্নে’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের মুখোমুখি হন। ১৭ মার্চ, ২০২৩ তারিখে ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে সফররত শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৩/৫০ ও ২/১০০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করানোসহ তিনটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, দলের একমাত্র ইনিংসে ব্যাটিং করার সুযোগ হয়নি তাঁর। হেনরি নিকোলসের অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ইনিংস ও ৫৮ রানে পরাজিত হলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

২০২৫-২৬ মৌসুমে নিজ দেশে রোস্টন চেজের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ২ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে ক্রাইস্টচার্চে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৪৭ ও ২৪ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৩ ও ১/১৩৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, জাস্টিন গ্রিভের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ফলাফলবিহীন অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

Similar Posts

  • |

    জাস্টিন গ্রিভস

    ২৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৪ তারিখে বার্বাডোসের সেন্ট জেমস এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম-পেস বোলিং করেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে টেস্ট ও ওডিআইয়ে অংশ নিচ্ছেন। ২০১৩-১৪ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে বার্বাডোস, উইন্ডওয়ার্ড আইল্যান্ডস, লিওয়ার্ড আইল্যান্ডস এবং কম্বাইন্ড ক্যাম্পাসেস ও কলেজেস…

  • |

    কানবর রাই সিং

    ২৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯২২ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের পাঞ্জাবের দ্বারকাটি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ১৯৪০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। শিখ পরিবারের সন্তান ছিলেন। লাহোরের এইচিসন কলেজে অধ্যয়ন করেছেন। জন্মগতভাবেই প্রবল শক্তিমত্তার অধিকারী ছিলেন। ভীতিহীন, আক্রমণাত্মক ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। প্রায়শঃই বোলিং আক্রমণে অংশ নিতেন। ৩৩.৩৩…

  • | |

    মাহমুদুল্লাহ

    ৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮৬ তারিখে ময়মনসিংহে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করেন। বাংলাদেশ দলের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। এছাড়াও, বাংলাদেশ দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। নিজ শহর ময়মনসিংহে ক্রিকেট খেলা শিখেন। সনথ জয়সুরিয়া, কেভিন পিটারসন, শোয়েব মালিক, স্টিভ স্মিথ প্রমূখের ন্যায় খেলোয়াড়ী জীবন শুরু করেছিলেন…

  • |

    টম ক্যান্ডল

    ২৪ আগস্ট, ১৮৫১ তারিখে ইংল্যান্ডের বেডফোর্ডে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স থেকে শুরু করে বামহাতে মিডিয়াম বোলিং করতেন। পাশাপাশি বামহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিং কর্মে অগ্রসর হতেন। ১৮৭০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ইংল্যান্ড থেকে আসা সেরা অস্ট্রেলীয় বোলার ছিলেন। উইকেটের উভয় দিক দিয়েই নিখুঁত নিশানা বরাবর…

  • | | |

    জেজে ফেরিস

    ২১ মে, ১৮৬৭ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের সিডনিতে জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। বামহাতে বোলিং করতেন। এছাড়াও, বামহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ড – উভয় দলের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ৫ ফুট ৫ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী জে. জে. ফেরিস শক্ত-মজবুত গড়নের কাঁধের কারণে বলে পেস আনয়ণ করতে…

  • | | |

    বেঙ্কটপতি রাজু

    ৯ জুলাই, ১৯৬৯ তারিখে অন্ধ্রপ্রদেশের আলামুরু এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, রেফারি ও প্রশাসক। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। বামহাতি স্পিনার ছিলেন। ‘মাসেলস’ ডাকনামে ভূষিত হয়েছিলেন। মনিন্দার সিংয়ের যোগ্য পূর্বসূরী ছিলেন। ১৯৮৫-৮৬ মৌসুম থেকে ২০০৪-০৫ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী…