|

কেরি ওয়ামস্লি

২৩ আগস্ট, ১৯৭৩ তারিখে ওতাগোর ডুনেডিনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

সুঠাম দেহের অধিকারী ছিলেন। ১৯৯৪-৯৫ মৌসুম থেকে ২০০৫-০৬ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে অকল্যান্ড ও ওতাগোর প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ২০০১-০২ মৌসুমে ওতাগোর বর্ষসেরা ক্রিকেটারের সম্মাননাপ্রাপ্ত হন। সব মিলিয়ে ৬৭টি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিয়ে ২৫৩ উইকেট দখল করেছিলেন। নিউজিল্যান্ডের শতবার্ষিকী মৌসুমের সঙ্কটকালীন তাঁকে টেস্ট খেলার জন্যে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।

১৯৯৫ থেকে ২০০০ সময়কালে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে তিনটিমাত্র টেস্ট ও দুইটিমাত্র ওডিআইয়ে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯৯৪-৯৫ মৌসুমে নিজ দেশে অর্জুনা রানাতুঙ্গা’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের মুখোমুখি হন। ১১ মার্চ, ১৯৯৫ তারিখে নেপিয়ারে অনুষ্ঠিত সফররত শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। নিজের সপ্তম বলে উইকেট লাভ করেন। এরপর থেকে তাঁকে অবশ্য বেশ হিমশিম খেতে হয়েছে। প্রথম ইনিংসে তিন উইকেট পান। ৩/৭০ ও ১/১১২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, উভয় ইনিংসে ৪ রান করে সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, চামিণ্ডা ভাসের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে নিউজিল্যান্ড দল ঐ টেস্টে ২৪১ রানে পরাজিত হলে সিরিজে পরাজয়বরণ করে। স্মর্তব্য যে, বিদেশের মাটিতে এটিই শ্রীলঙ্কার প্রথম টেস্ট জয় ছিল। নিজেকে দলে স্থান পাকাপোক্ত করতে পারেননি। ডুনেডিনে অনুষ্ঠিত পরের টেস্ট থেকে বাদ পড়েন।

২০০০ সালে বিকল্প বোলার হিসেবে পুণরায় জাতীয় দলে খেলার জন্যে আমন্ত্রণ পান। ২০০০-০১ মৌসুমে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে পরিবর্তিত খেলোয়াড় হিসেবে যুক্ত হন। কিন্তু, এবারও তিনি নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি।

২০০০-০১ মৌসুমে স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকা গমন করেন। ৩০ নভেম্বর, ২০০০ তারিখে জিকিবার্হায় অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা দলের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে মুখোমুখি হন। ৫ ও ০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ১/৪০ ও ১/৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, নীল ম্যাকেঞ্জি’র অসামান্য ব্যাটিং দৃঢ়তায় সফরকারীরা ৭ উইকেটে পরাজিত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

সব মিলিয়ে টেস্টগুলো থেকে ৪৩.৪৪ গড়ে নয়টি উইকেট পেয়েছিলেন। টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেকের দীর্ঘ ৮ বছর পর ওডিআইয়ে অভিষেক ঘটে তাঁর। ২০০৩ সালে পাকিস্তান গমনার্থে ওডিআই দলে খেলোয়াড়দের স্বেচ্ছায় নাম প্রত্যাহারের কারণে খেলার সুযোগ পান। এ সফরে পরিবর্তিত খেলোয়াড় হিসেবে দুইটি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন।

আঘাতের কারণেও তাঁর স্বাভাবিক খেলোয়াড়ী জীবনে বিরূপ প্রভাব ফেলে। এক পর্যায়ে নিজ রাজ্য ছেড়ে ওতাগোয় চলে যান। কিছু সময় এখানে অবস্থান করে ২০০৩-০৪ মৌসুমের গ্রীষ্মে পুণরায় অকল্যান্ডে ফিরে আসেন।

সম্পৃক্ত পোস্ট