|

জ্যাক রিচার্ডস

১০ আগস্ট, ১৯৫৮ তারিখে কর্নওয়ালের পেঞ্জান্স এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। উইকেট-রক্ষণের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ডানহাতে ব্যাটিং ও ডানহাতে মিডিয়াম বোলিং করতেন। ১৯৮০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

৫ ফুট ১১ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে সারে এবং দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে অরেঞ্জ ফ্রি স্টেটের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৭৬ থেকে ১৯৮৮ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। চমৎকার উইকেট-রক্ষক ও ব্যাটসম্যান হিসেবে যথেষ্ট সুনাম কুড়ান। নিখুঁত গ্লাভসকর্মে তাঁর জুড়ি মেলা ভার ছিল। সহজাত ভঙ্গীমায় ঝাঁপিয়ে পড়ে বল গ্লাভসবন্দী করতে পারতেন। মাঝারিসারিতে খাঁটিমানের ব্যাটিং করতেন।

সহঃঅধিনায়কের দায়িত্বে থেকে এক পর্যায়ে অধিনায়কের চলতি দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তাঁর খেলোয়াড়ী জীবন অনেকাংশেই নিষ্পেষিত ছিল। পাঁচ বছর সারে দলের পক্ষে খেলার পর ইংল্যান্ড দলে খেলার জন্যে আমন্ত্রণ বার্তা লাভ করেন। ১৯৮৬ সালে কাউন্টি ক্রিকেটে সহস্রাধিক রানের সন্ধান পেলে দল নির্বাচকমণ্ডলীর দৃষ্টিগোচরে পড়েন ও নিজ দেশে অ্যাশেজ সিরিজ খেলতে তাঁকে ইংল্যান্ড দলে যুক্ত করা হয়েছিল।

১৯৮১ থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত ইংল্যান্ডের পক্ষে মাত্র আট টেস্ট ও ২২টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৮১-৮২ মৌসুমে বব টেলরের সহকারীর দায়িত্বে থেকে ইংল্যান্ড দলের সদস্যরূপে ভারত ও শ্রীলঙ্কা গমন করেন। তবে, ২৫ নভেম্বর, ১৯৮১ তারিখে আহমেদাবাদে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে ওডিআই অভিষেকের পর বেশ দেরীতে টেস্ট খেলার সুযোগ পান।

১৯৮৬-৮৭ মৌসুমের অ্যাশেজ সিরিজ খেলতে মাইক গ্যাটিংয়ের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ১৪ নভেম্বর, ১৯৮৬ তারিখে ব্রিসবেনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ফিলিপ ডিফ্রিটাসের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ক্রেগ ম্যাথুজের বলে শূন্য রানে বিদেয়ে নিয়েছিলেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে একটি স্ট্যাম্পিং ও তিনটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেছিলেন। তবে, ইয়ান বোথামের দূর্দান্ত অল-রাউন্ড ক্রীড়া নৈপুণ্যের কল্যাণে সফরকারীরা ৭ উইকেটে জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

মাইক গ্যাটিংয়ের নেতৃত্বে ইংল্যান্ড দল অ্যাশেজ সিরিজ করায়ত্ত্ব করে। পার্থে নিজস্ব দ্বিতীয় টেস্টে ঠিক চার ঘণ্টায় ১৩৩ রানের অমূল্য ইনিংস খেলেন।

একই সফরের ১২ ডিসেম্বর, ১৯৮৬ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ২৯ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে দুইটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেছিলেন। প্রতিপক্ষীয় অধিনায়ক অ্যালান বর্ডারের ব্যাটিং দৃঢ়তায় খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলেও পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটিতে সফরকারীরা ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। এ সিরিজে ৩৭.৭১ গড়ে ২৬৪ রান তুলেন। কিন্তু, সফরের শেষদিকে ছন্দহীনতায় ভুগেন।

একই সফরের ১০ জানুয়ারি, ১৯৮৭ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ৪৬ ও ৩৮ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে চারটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দীকরণে অগ্রসর হন। ৫৫ রানে জয় পেলেও স্বাগতিকরা ২-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

১৯৮৬ সালের গ্রীষ্মে সহস্র রানের মাইলফলক স্পর্শের স্বীকৃতিস্বরূপ নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দুইটি ওডিআই খেলার সুযোগ পান।

১৯৮৭ সালের শুরুতে পাকিস্তানের বিপক্ষে ওডিআই খেলেন। তবে, লিডস টেস্টের পর ব্রুস ফ্রেঞ্চের কাছে তাঁর স্থানচ্যূতি ঘটে। ৬ ও ২ রান তুলেছিলেন। এ পর্যায়ে ফ্রেঞ্চ বসন্ত রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন।

১৯৮৮ সালে নিজ দেশে ভিভ রিচার্ডসের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ৪ আগস্ট, ১৯৮৮ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ০ ও ৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে দুইটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দীকরণে অগ্রসর হন। জেফ ডুজনের অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীতে স্বাগতিকরা ৮ উইকেটে পরাভূত হলে ৪-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে অংশগ্রহণ ছিল।

১২ বছর সারে দলের পরম আস্থাভাজন ক্রিকেটার হিসেবে খেলেছেন। তবে, তিক্ততার মাঝে ক্লাবটির সাথে সম্পর্ক ত্যাগ করতে বাধ্য হন। ১৯৮৮ সালে কাউন্টি থেকে অব্যহতি পান। কিন্তু, অপরাপর কাউন্টি দলগুলো থেকে সাড়া না পেলে অবসর গ্রহণ করেন। এ পর্যায়ে তাঁর বয়স ছিল মাত্র ৩০ বছর ও তিনি তাঁর স্বর্ণালী সময়ে ছিলেন।

ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত। ওলন্দাজ রমণীর সাথে পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হন ও বেলজিয়ামে বসবাস করছেন। প্রতিবেশী রাষ্ট্র হল্যান্ডে সফলতার সাথে ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় অগ্রসর হয়েছেন।

সম্পৃক্ত পোস্ট