৬  ফেব্রুয়ারি, ১৯০৩ তারিখে নর্থ অকল্যান্ডের ওমাহায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ বোলারের দায়িত্ব পালন করে গেছেন। ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৩০-এর দশকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

১৯২৩-২৪ মৌসুম থেকে ১৯৩৭-৩৮ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে অকল্যান্ড ও ওতাগো দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে খেলেছেন। ঘরোয়া আসরের সাফল্যের ধারা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মেলে ধরতে পারেননি। তুলনান্তে, প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন বেশ স্বার্থক ছিল।

রোডস বৃত্তিধারী ছিলেন। ১৯২৮ সালে অক্সফোর্ড দলের যাচাই-বাছাইয়ে অংশ নেন। তবে, খেলার জন্যে মনোনীত হননি ও ব্লু লাভ করেননি। ১৯৩৭ সালে এমএল পেজের নেতৃত্বাধীন নিউজিল্যান্ড দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড সফরকালে প্রস্তুতিমূলক খেলায় এসেক্সের বিপক্ষে ১৭০ রান খরচায় ১০ উইকেট পান। কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপক্ষে ৬৪ রান খরচায় ৯ ও মিডলসেক্সের বিপক্ষে ৬৭ রান খরচায় ৬ উইকেট পেয়েছিলেন। পাশাপাশি, স্টোকে অনুষ্ঠিত দুই-দিনের খেলার প্রথম ইনিংসে স্টাফোর্ডশায়ারের বিপক্ষে ৮/২৬ পান। এ সফরের তিনদিনের খেলাগুলোয় ৩০.১০ গড়ে ৮৩ উইকেট দখল করেন। এছাড়াও, অধিক ওভার বোলিং করে দলীয় সঙ্গীদেরকে টপকে যান। ওতাগোর সদস্যরূপে প্লাঙ্কেট শীল্ডে অন্যতম সেরা সময় পাড় করেন। ২৭.৫৮ গড়ে ২২৮টি প্রথম-শ্রেণীর উইকেট পান। তন্মধ্যে, ১৫বার পাঁচ-উইকেট পেয়েছিলেন।

১৯৩৩ থেকে ১৯৩৭ সময়কালে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সব মিলিয়ে চারটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। সবকটিতেই প্রতিপক্ষ ছিল ইংল্যান্ড দল। সমগ্র টেস্ট খেলোয়াড়ী জীবনে মাত্র পাঁচ উইকেট দখল করেছিলেন। ১৯৩২-৩৩ মৌসুমে নিজ দেশে বব ওয়াটের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ৩১ মার্চ, ১৯৩৩ তারিখে অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ১২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ২/১৫৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় শেষ হয়।

১৯৩৭ সালে কার্লি পেজের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ১৪ আগস্ট, ১৯৩৭ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ০/৮৯ ও ১/৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ০ ও ১৯ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ মুঠোয় পুড়েছিলেন। তবে, খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সফরকারীরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের সদস্য ছিলেন। জীবনের বাদ-বাকী সময় অস্ট্রেলিয়ায় অতিবাহিত করেন। ২৪ জুন, ১৯৭১ তারিখে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেডে ৬৮ বছর বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

সম্পৃক্ত পোস্ট