|

ইয়ান কলেন

২ মে, ১৯৫৫ তারিখে ভিক্টোরিয়ার আলেকজান্দ্রায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ের পাশাপাশি বামহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিং করতেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

‘ম্যাড ডগ’ ডাকনামে ভূষিত হয়েছিলেন। দীর্ঘকায় ও লিকলিকে গড়ন নিয়ে দ্রুতগতিসম্পন্ন বোলিং করতেন। বলকে সুইং করাতে পারতেন। ১৯৭৬-৭৭ মৌসুম থেকে ১৯৮৫-৮৬ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে ভিক্টোরিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে বোল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, নর্দাম্বারল্যান্ডের পক্ষে খেলেছেন। নভেম্বর, ১৯৭৬ সালে ওয়াকায় শেফিল্ড শীল্ডের খেলায় তাঁর অভিষেক হয়। অভিষেক মৌসুমে ছয় খেলা থেকে ৩১ উইকেট পেয়েছিলেন। কুইন্সল্যান্ডের বিপক্ষে আট উইকেট ও নিউ সাউথ ওয়েলসের বিপক্ষে পাঁচ-উইকেট লাভের স্বীকৃতিস্বরূপ জাতীয় দলে খেলার পথ সুগম হয়। তবে, তাঁকে মার্চ, ১৯৭৭ সালে অনুষ্ঠিত শতবার্ষিকী টেস্টে খেলানো হয়নি।

১৯৭৮ থেকে ১৯৮২ সাল পর্যন্ত সময়কালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে একটিমাত্র টেস্ট ও পাঁচটিমাত্র ওডিআইয়ে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। অস্ট্রেলীয় ধনকুবের ক্যারি প্যাকারের ব্যবস্থাপনায় বিশ্ব ক্রিকেট সিরিজে অংশ নিতে দলের জ্যেষ্ঠ খেলোয়াড়দের অনুপস্থিতির সুযোগে তাঁকে অস্ট্রেলিয়া দলের সদস্যরূপে মনোনীত করা হয়েছিল।

১৯৭৭-৭৮ মৌসুমে নিজ দেশে বিষেন বেদী’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ২৮ জানুয়ারি, ১৯৭৮ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্রুস ইয়ার্ডলি, গ্রায়েম উড ও রিক ডার্লিংয়ের সাথে একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। আট-বল নিয়ে গড়া ৫৫ ওভার বোলিং করেছিলেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ৩/৮৩ ও ৩/১০৮ লাভ করে সিরিজ বিজয়ে অংশ নেন। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ২২* ও ৪* রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। স্বাগতিকরা ৪৭ রানে বিজয়ী হলে ৩-২ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে অংশগ্রহণ ছিল। আঘাতের কারণে সীমিত সুযোগ পান।

ভারতের বিপক্ষে খেলার পক্ষকাল পরই ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরের জন্যে আমন্ত্রিত হন। সেন্ট কিটসে প্রস্তুতিমূলক খেলায় হিমশিম খান। ২২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৮ তারিখে সেন্ট জোন্সে প্রথমবারের মতো ওডিআইয়ে অংশ নেন। সীমিত-ওভারের খেলায় ১১ উইকেট পান। তবে, কোন টেস্টে খেলানো হয়নি। অ্যান্টিগুয়ায় একদিনের আন্তর্জাতিক চলাকালীন গুরুতর আহত হন। এরফলে, দুই বছরে একটিমাত্র খেলায় অংশ নিয়েছিলেন। খেলায় তিনি ব্যাটসম্যান হিসেবে অংশ নেন।

ভিক্টোরিয়ায় পুণরায় যুক্ত হলে মার্ভ হিউজ ও রড ম্যাককার্ডি’র সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ণ হতে হয়। এক পর্যায়ে অস্ট্রেলিয়া দলে ফিরে আসেন। ১৯৮২-৮৩ মৌসুমে দলের সালে পাকিস্তান গমন করেন। ভিসিএ পর্যায়ে দারুণ খেলতেন। ১৯৮০-৮১ মৌসুমে কার্লটন ও ১৯৮৬-৮৭ মৌসুমে নর্থকোটের সদস্য ছিলেন। কলিংউডের ডেভিড এমারসনকে বোলিং প্রান্তে রান-আউটে বিদেয় করলে খলনায়কে পরিণত হন।

তাঁর অসম্ভব পরিশ্রমের ফসল হিসেবে অস্ট্রেলিয়ায় ক্রিকেট ব্যাট শিল্পের উন্নয়ন ঘটে। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত তিনি। সুজান নাম্নী এক রমণীর সাথে পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হন ও আদর করে তাঁকে ‘ডগি’ নামে ডাকেন।

সম্পৃক্ত পোস্ট