|

জর্জ মাডি

২৬ নভেম্বর, ১৯১৫ তারিখে জ্যামাইকার স্পেনিশ টাউন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৩০-এর দশকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

দীর্ঘকায় গড়নের অধিকারী ছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে জ্যামাইকার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৩১-৩২ মৌসুম থেকে ১৯৫১-৫২ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। জ্যামাইকার সদস্যরূপে লর্ড টেনিসনের নেতৃত্বাধীন সফররত এমসিসি’র বিপক্ষে ব্যক্তিগত সেরা ৯৪ ও অপরাজিত ৬০ রান সংগ্রহের কারণে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলে খেলার জন্যে মনোনীত হন। আগস্ট, ১৯৩৮ সালে জ্যামাইকায় সফররত অক্সফোর্ড ও কেমব্রিজ দলের বিপক্ষে নয় ওভার বোলিং করে ব্যক্তিগত সেরা ৫/৩২ পেয়েছিলেন।

১৯৩৫ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে একটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ লাভ করেছিলেন। ১৯৩৪-৩৫ মৌসুমে নিজ দেশে বব ওয়াটের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ১৪ মার্চ, ১৯৩৫ তারিখে কিংস্টনের সাবিনা পার্কে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ডিকি ফুলারের সাথে তাঁর একযোগে অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি তিনটি উইকেটের সন্ধান পান।

ছয় নম্বর অবস্থানে ব্যাটিংয়ে নেমে তিনি মাত্র পাঁচ রান সংগ্রহ করলেও অপর প্রান্তে জর্জ হ্যাডলি ২৭০ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছিলেন। তবে, প্রাপ্ত তিন উইকেটের প্রথমটি ষষ্ঠ উইকেটে লেস অ্যামিসজ্যাক ইডনের গড়া ১৫৭ রানের জুটি ভাঙ্গলে এবং অধিনায়ক বব ওয়াট চোয়ালে আঘাত পেলে সফরকারীরা ফলো-অন এড়াতে হিমশিম খায়। ঐ খেলায় স্বাগতিক দল ইনিংস ও ১৬১ রানের ব্যবধানে জয় পায়। এছাড়াও, ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল প্রথমবারের মতো সিরিজ জয় করতে সক্ষম হয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল থেকে প্রত্যাখ্যাত হলেও অনেকগুলো মৌসুম খেলেন। ১৯৪৮ সালে ভারত সফরে জন গডার্ডের দলের পরিবর্তিত খেলোয়াড় হিসেবে আমন্ত্রণ পেলেও তিনি লন্ডনে ছিলেন ও তাঁর প্রয়োজন পড়েনি। ১৯৫১-৫২ মৌসুম পর্যন্ত আঞ্চলিক প্রতিযোগিতায় জ্যামাইকার পক্ষে খেলেন। জ্যামাইকার পক্ষে সতেরো খেলায় অংশ নিয়েছিলেন। সব মিলিয়ে ১৯টি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিয়ে ২২.২৩ গড়ে ৫৭৮ রান ও ৩৫.৪৫ গড়ে ৪২ উইকেট পেয়েছিলেন।

এক পর্যায়ে কোচিং জগতের দিকে ধাবিত হন। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। ৮ জুন, ২০০২ তারিখে জ্যামাইকার সেন্ট ক্যাথরিনে নিজে গৃহে ৮৬ বছর ১৯৪ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে। মৃত্যুকালীন তিনি ওয়েস্ট ইন্ডিজের বয়োজ্যেষ্ঠ জীবিত টেস্ট ক্রিকেটারের সম্মাননাপ্রাপ্ত হন। তাঁর মৃত্যুর ফলে এসমন্ড কেন্টিস এ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত হন।

Similar Posts

  • | |

    জ্যাক নিউম্যান

    ৩ জুলাই, ১৯০২ তারিখে নেলসনের ব্রাইটওয়াটার এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। বামহাতে মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৩০-এর দশকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। নেলসন্স কলেজে বিদ্যালয় জীবন কাটান। ১৯২২-২৩ মৌসুম থেকে ১৯৩৫-৩৬ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর…

  • |

    ডেভিড মারে

    ২৯ মে, ১৯৫০ তারিখে বার্বাডোসের মারেজ গ্যাপ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক হিসেবে খেলতেন। উইকেট-রক্ষণের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ডানহাতে কার্যকর ব্যাটিং করতেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। দৃঢ় প্রতিজ্ঞবদ্ধতা ও মনোযোগের কারণেই নিজেকে মেলে ধরতে পেরেছিলেন। দারুণ উইকেট-রক্ষক ছিলেন। যতটুকু করা সম্ভব, ঠিক ততটুকুই করেছেন। সতর্ক অবস্থান, পায়ের কারুকাজ ও বাঁধার প্রাচীর…

  • | | |

    জেজে ফেরিস

    ২১ মে, ১৮৬৭ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের সিডনিতে জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। বামহাতে বোলিং করতেন। এছাড়াও, বামহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ড – উভয় দলের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ৫ ফুট ৫ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী জে. জে. ফেরিস শক্ত-মজবুত গড়নের কাঁধের কারণে বলে পেস আনয়ণ করতে…

  • | | |

    মারে চ্যাপেল

    ২৫ জুলাই, ১৯৩০ তারিখে ক্যান্টারবারির ক্রাইস্টচার্চে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানের দায়িত্ব পালন করতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। এছাড়াও, বামহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। নিউজিল্যান্ড দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। খেলোয়াড়ী জীবনের শুরুতে ইনিংস উদ্বোধনে নামলেও পরবর্তীতে মাঝারিসারিতে ব্যাটিং কর্মে অগ্রসর হয়েছিলেন। সিম বোলার থেকে পরবর্তীকালে লেফট-আর্ম অর্থোডক্স স্পিন বোলারে রূপান্তরিত হন। মানবিক…

  • | |

    জোই পালমার

    ২২ ফেব্রুয়ারি, ১৮৫৯ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের মালওয়ালা এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিং কর্মে অগ্রসর হতেন। ১৮৮০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ডেভিড বার্নার্ড পালমান ও মেরি দম্পতির জ্যেষ্ঠ সন্তান ছিলেন। মেলবোর্নের এমারল্ড হিলভিত্তিক ম্যাকগ্রিগর্স স্কুলে অধ্যয়ন করেছেন। ইয়ং…

  • | |

    ডগলাস জার্ডিন

    ২৩ অক্টোবর, ১৯০০ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের মালাবার হিল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে পারদর্শী ছিলেন। এছাড়াও, লেগ-ব্রেক বোলিং করতে পারতেন। ইংল্যান্ডের অন্যতম সেরা অধিনায়ক হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন ও নিজের সময়কালে শীর্ষস্থানীয় শৌখিন ব্যাটসম্যানের স্বীকৃতি পান। ক্রিকেটের ইতিহাসের সর্বাপেক্ষা বৃহৎ বিতর্কের মূল হোতা হিসেবে ক্রিকেটের খলনায়ক হিসেবে বৈশ্বিকভাবে পরিগণিত হয়ে আসছেন। শারীরিক…