| |

গ্যারি উইলসন

৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮৬ তারিখে উত্তর আয়ারল্যান্ডের ডানডোনাল্ড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যানের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। উইকেট-রক্ষণের পাশাপাশি ডানহাতে কার্যকর ব্যাটিং করে থাকেন। আয়ারল্যান্ডের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। এছাড়াও, আইরিশ দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন।

উইলিয়াম পোর্টারফিল্ড ও কেভিন ও’ব্রায়ানের ন্যায় এমসিসি’র পরিচালনায় কাউন্টি ক্রিকেটে কিংবা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলার উদ্দেশ্যে ‘এমসিসি ইয়ং ক্রিকেটার্স’ থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। আয়ারল্যান্ড দলের অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে অংশ নিচ্ছেন। ২০০৪ সাল থেকে আয়ারল্যান্ড দলের সদস্যরূপে খেলছেন। ‘গাজ’ বা ‘উইলস’ ডাকনামে সতীর্থদের কাছে পরিচিতি পাওয়া গ্যারি উইলসন ৫ ফুট ১০ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী। বেলফাস্টভিত্তিক মেথডিস্ট কলেজে অধ্যয়ন করেছেন।

২০০৫-০৬ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর আইরিশ ক্রিকেটে নর্দার্ন নাইটসের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ঐ ক্লাবের ৬৫০ নম্বর ক্যাপধারী তিনি। এছাড়াও, ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ডার্বিশায়ারের পক্ষে খেলেছেন। ১৩ আগস্ট, ২০০৫ তারিখে আবেরদিনে অনুষ্ঠিত স্কটল্যান্ড বনাম আয়ারল্যান্ডের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান।

২০০৫ সালে ব্যাঙ্গরে অনুষ্ঠিত খেলায় এমসিসি’র বিপক্ষে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আয়ারল্যান্ডের পক্ষে খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান। এক থেকে নয় পর্যন্ত যে-কোন অবস্থানেই তিনি খেলতে পারতেন। কোচ জন ব্রেসওয়েলের অনুপ্রেরণায় নিজেকে বিকশিত করতে পেরেছিলেন সুচারূভাবে।

ঘরোয়া পর্যায়ের ক্রিকেটে বেলফাস্ট হার্লেকুইন্সে খেলেন। এরপর, সিভিল সার্ভিস নর্থের সদস্য হন। এক দশকের অধিক সময় ধরে সারে দলের পক্ষে কাউন্টি ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ২০০৫ সালে সারে দলের সাথে চুক্তিতে স্বাক্ষর করে জন বেটি’র স্থলাভিষিক্ত হন। বৈচিত্র্যমূখী গুণাবলীর কারণে অচিরেই দলের অমূল্য সম্পদে পরিণত হন। উইকেট-রক্ষণের পাশাপাশি মাঝারিসারিতে সাত নম্বর অবস্থানে ব্যাটিংয়ে নামতেন। অনেক সময় ব্যাটিং উদ্বোধনের জন্যেও আমন্ত্রিত হতেন। কিন্তু, সারে দলের পক্ষে টি২০ ক্রিকেটেই অধিক কার্যকারিতা প্রদর্শনে সচেষ্ট ছিলেন। শান্ত মেজাজে বিভিন্ন ধরনের শট সহযোগে দ্রুত রান তুলে দলের জয়ে ভূমিকা রাখতেন। তবে, কাউন্টি ক্রিকেটের লিস্ট-এ খেলাগুলোয় তুলনামূলকভাবে কম সফল ছিলেন।

২০১৪ সালে সারে দলে থাকাকালীন গ্রায়েম স্মিথের আকস্মিকভাবে দেশে প্রত্যাবর্তনের ফলে শূন্য স্থান পূরণে অধিনায়কের দায়িত্ব ভার গ্রহণের জন্যে মনোনীত হন। তাৎক্ষণিকভাবে এর প্রভাব ফেলতে সচেষ্ট হন। শান্ত মেজাজে ও অপ্রদর্শনীমূলক নেতৃত্বের গুণাবলী নিয়ে দল পরিচালনায় অগ্রসর হন। নিজের ব্যাটিংশৈলীকে নব উচ্চতায় নিয়ে যান। পাশাপাশি উইকেট রক্ষণে আরও দক্ষতা প্রদর্শনে সচেষ্ট হন। সবমিলিয়ে সারে দলের পক্ষে এগারো বছরে ৬০টি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় ৪০-এর অল্প গড়ে ২৯৩১ রান তুলেন।

এরপর, ২০১৬ সালে ডার্বিশায়ারে যুক্ত হন। ডার্বিশায়ারে থাকাকালীন কাউন্টি দলের অধিনায়কের দায়িত্বে ছিলেন। নিউজিল্যান্ডীয় কোচ জন রাইটের টি২০ ক্রিকেটে অভিজ্ঞ নির্দেশনা অনুসরণপূর্বক দলের ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো টি২০ কোয়ার্টার-ফাইনালে নিয়ে যান। সেখানেও ব্যাট ও গ্লাভস হাতে নিয়ে সফলতার স্বাক্ষর রাখেন। দুই বছর মেয়াদে চুক্তিতে যুক্ত হলেও এক বছর পূর্বেই চুক্তি বাতিল করে নিজ দেশে ফিরে যান। নবপ্রবর্তিত প্রথম-শ্রেণীর আইরিশ ক্রিকেটে যোগ দেন।

কাউন্টি ক্রিকেটে যুক্ত থাকলেও আয়ারল্যান্ডের পক্ষে খেলোয়াড়ী জীবন চালিয়ে যেতে থাকেন। ২০০৪ ও ২০০৬ সালের আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলেন। এছাড়াও, ২০০৫ সালের আইসিসি আন্তঃমহাদেশীয় কাপে দলের সদস্য ছিলেন। আয়ারল্যান্ডের প্রথম বড় ধরনের ট্রফি লাভে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন।

২০০৭ সাল থেকে আয়ারল্যান্ডের পক্ষে দুইটিমাত্র টেস্ট, ১০৫টি ওডিআই ও ৮১টি টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছেন। ২৩ জুন, ২০০৭ তারিখে বেলফাস্টে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে একমাত্র ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন। নায়ল ও’ব্রায়ানের দলে অন্তর্ভুক্তির ফলে দলে শুধুমাত্র ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলার সুযোগ পেতেন। এরপর থেকে যথেষ্ট পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজেকে আইরিশ ক্রিকেটের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ে রূপান্তরিত করেন।

২০০৭ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতার পর আয়ারল্যান্ড দলের পক্ষে খেলতে থাকেন। তবে, স্ট্যাম্পের পিছনে দণ্ডায়মান নায়ল ও’ব্রায়ানের কারণে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখোমুখি হন। ২০১২ সালের শুরুতে কোচ ফিল সিমন্সের দলে যোগ দিলে নায়ল ও’ব্রায়ানকে মাঠের বাইরে চলে যেতে হয় ও শূন্যতা পূরণে পুণরায় দলে ফিরেন।

২০১০ সালে ক্যাসল অ্যাভিনিউতে অনুষ্ঠিত খেলায় নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ১১৩ রানের নিজস্ব প্রথম ও একমাত্র ওডিআই শতক হাঁকান। ২০১১ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বল প্রতি ৬১ রান তুলে বিতর্কিতভাবে এলবিডব্লিউতে বিদেয় নেন। এ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকালীন সারের পক্ষ থেকে পুণরায় চুক্তিবৃদ্ধি করা হয়। চারটি খেলায় অংশ নিয়ে ১২২ রান তুলতে সমর্থ হন।

আয়ারল্যান্ডের ইতিহাসের উদ্বোধনী টেস্টে অংশগ্রহণের গৌরব অর্জন করেন। ১১ মে, ২০১৮ তারিখে ডাবলিনের মালাহাইডের দ্য ভিলেজে অনুষ্ঠিত টেস্টে বয়েড র‌্যাঙ্কিন বাদে অন্য সকলের সাথে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ঐ টেস্টে সফরকারী পাকিস্তানের বিপক্ষে অপরাজিত ৩৩ ও ১২ রান তুলেন। তাঁর দল ৫ উইকেটে পরাজিত হয়।

২০১৯ সালে উইলিয়াম পোর্টারফিল্ডের নেতৃত্বাধীন আইরিশ দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ২৪ জুলাই, ২০১৯ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আয়ারল্যান্ডের ইতিহাসের প্রথম ও সিরিজের একমাত্র টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি উভয় ইনিংসে শূন্য রান সংগ্রহ করে বিদেয় নিয়েছিলেন। তবে, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে ছয়টি ক্যাচ গ্লাভসবন্দীকরণে অগ্রসর হন। জ্যাক লিচের অনবদ্য ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে ঐ টেস্টে তাঁর দল ১৪৩ রানে পরাজয়বরণ করেছিল। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

২৯ নভেম্বর, ২০১৯ তারিখে আয়ারল্যান্ডের টি২০আই দলের অধিনায়ক হিসেবে অ্যান্ডি বালবির্নিকে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন।

Similar Posts

  • | |

    মরিস ফার্নান্দেজ

    ১২ আগস্ট, ১৮৯৭ তারিখে ব্রিটিশ গায়ানার জর্জটাউনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। খেলোয়াড়ী জীবনের শুরুতে ডেমেরারা ক্রিকেট ক্লাবের সাথে সংশ্লিষ্ট ছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে ব্রিটিশ গায়ানার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯২২-২৩ মৌসুম থেকে ১৯৩১-৩২ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী…

  • |

    ইন্ডিকা গালাগে

    ২২ নভেম্বর, ১৯৭৫ তারিখে পানাদুরায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে খেলছেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, নিচেরসারিতে ডানহাতে ব্যাটিং করে দলে কিছু অবদান রাখেন। শ্রীলঙ্কার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। লিকলিকে দীর্ঘকায় গড়নের অধিকারী। বেশ লাফিয়ে বলে সিম আনয়ণে দক্ষতা প্রদর্শনসহ বাউন্স প্রদানে সক্ষম। ফিল্ডার হিসেবেও মাঠের যে-কোন স্থানে অবস্থান করেন। দক্ষিণাঞ্চলীয় পানাদুরাভিত্তিক শ্রী সুমঙ্গলায়…

  • | |

    ব্রুস টেলর

    ১২ জুলাই, ১৯৪৩ তারিখে ক্যান্টারবারির তিমারু এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। পাশাপাশি, বামহাতে কার্যকর ব্যাটিং করতেন। ১৯৬০-এর দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে ১৯৭০-এর দশকের সূচনাকাল পর্যন্ত নিউজিল্যান্ড দলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ৬ ফুট ৩ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী ছিলেন। বল হাতে নিয়ে উভয় দিক দিয়ে বোলিং আক্রমণে…

  • |

    ফ্রান্সিস ওয়াল্টার্স

    ৯ ফেব্রুয়ারি, ১৮৬০ তারিখে ভিক্টোরিয়ার ইস্ট মেলবোর্ন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান ছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৮৮০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। দীর্ঘকায় ও শক্ত মজবুত গড়নের অধিকারী। ড্রাইভ ও কাটের দিকেই অধিক মনোনিবেশ ঘটাতেন। ব্যাটিং উপযোগী পিচে বেশ আত্মবিশ্বাস নিয়ে স্বাধীনভাবে খেলতেন। ১৮৮০-৮১ মৌসুম থেকে…

  • | |

    বিল কপসন

    ২৭ এপ্রিল, ১৯০৮ তারিখে ডার্বিশায়ারের স্টোনব্রুম এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও আম্পায়ার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। লালচে-বাদামী রঙের চুলের অধিকারী ছিলেন। কয়লা শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। ১৯২৬ সালের পূর্ব পর্যন্ত ক্রিকেটের প্রতি তাঁর কোন আগ্রহ ছিল না। ঐ…

  • |

    মোসাদ্দেক হোসেন

    ১০ ডিসেম্বর, ১৯৯৫ তারিখে ময়মনসিংহে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে কার্যকর অফ-ব্রেক বোলিং করে থাকেন। বাংলাদেশের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ক্রিকেট অনুরাগী পরিবারের সন্তান। ‘সৈকত’ ডাকনামে পরিচিত মোসাদ্দেক হোসেন ৫ ফুট ৯ ইঞ্চি (১.৭৪ মিটার) উচ্চতার অধিকারী। বন্ধুর পথ পাড়ি দিয়ে ঘরোয়া আসর থেকে আন্তর্জাতিক…