৭ জানুয়ারি, ১৯৯৪ তারিখে মৌলভীবাজারে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামেন। বাংলাদেশের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
২০১২ সালে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে ভলিবল খেলোয়াড় হিসেবে অংশ নেন। তবে, স্বল্প সময়ের মধ্যে নিজেকে টেস্ট ক্রিকেটারে রূপান্তরিত করেন। এরফলে, প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে বিমান বাহিনী থেকে ক্রিকেটার হবার গৌরব অর্জন করেন। ফাঁড়িতে অবস্থান করেও ব্রেট লি’র ন্যায় বোলিং করার স্বপ্ন দেখতেন। জানুয়ারি, ২০১৬ সালে ৩৪২ কিলোমিটার দূরবর্তী আঁকাবাঁকা শহর সিলেট থেকে ফরিদপুরে এসে রবি পেসার হান্টে অংশ নেয়ার মাধ্যমে স্বপ্ন পূরণ হয়। ১৪৬১১ জন বোলারের মধ্যে প্রত্যেকে দুইটি বল ডেলিভারি দেয়ার সুযোগ পেলে শীর্ষ তিনজন বোলারের অন্যতম হন। এরপর, ঢাকায় প্রশিক্ষণ শিবিরে অংশ নেন। বাংলাদেশের স্বল্পমেয়াদী ফাস্ট বোলিং পরামর্শকের দায়িত্বে থাকা পাকিস্তানী তারকা ক্রিকেটার আকিব জাভেদের সুনজরে পড়েন।
২০১৬-১৭ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর বাংলাদেশী ক্রিকেটে মধ্যাঞ্চল, পূর্বাঞ্চল ও সিলেট বিভাগের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, সিটি ক্লাব, মিনিস্টার রাজশাহী, মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব, রংপুর রাইডার্স ও সিলেট থান্ডারের পক্ষে খেলেছেন। ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ তারিখে রাজশাহীতে অনুষ্ঠিত রাজশাহী বিভাগ বনাম সিলেট বিভাগের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট জীবনের সূত্রপাত ঘটান। পরবর্তীতে, বিপিএলে খসড়া তালিকায় অন্তর্ভুক্তি ঘটলে রাজশাহী কিংসের সদস্য হন।
২০১৮-১৯ মৌসুমের ঘরোয়া আসরে প্রকৃত সাফল্য আসতে শুরু করে। বিসিএল প্রথম-শ্রেণীর প্রতিযোগিতায় ২১ উইকেট পান। তন্মধ্যে, নাজমুল হোসেন শান্ত, মার্শাল আইয়ুব ও মোসাদ্দেক হোসেনের ন্যায় আন্তর্জাতিক ব্যাটসম্যানসমৃদ্ধ উত্তরাঞ্চলের বিপক্ষে খেলায় দশ উইকেট লাভ করেছিলেন। এছাড়াও, ২০১৯ সালের বিপিএলের আসরে সুন্দর ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করেছেন। তন্মধ্যে, সিলেট সিক্সার্সের সদস্যরূপে শেষ খেলায় চিটাগং ভাইকিংসের বিপক্ষে ৪/১৭ বোলিং পরিসংখ্যান গড়েছিলেন। ফলশ্রুতিতে, একই খেলায় আঘাতের কবলে পড়া তাসকিন আহমেদের পরিবর্তে টেস্ট দলে অংশগ্রহণের সুযোগ লাভ করেন।
২০১৯ সাল থেকে বাংলাদেশের পক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অংশ নিচ্ছেন। ২০১৮-১৯ মৌসুমে মাহমুদুল্লাহ’র অধিনায়কত্বে বাংলাদেশী দলের সাথে নিউজিল্যান্ড গমন করেন। ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ তারিখে হ্যামিল্টনে অনুষ্ঠিত সিরিজের প্রথম টেস্টে স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে লাল-বলের ক্রিকেটে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ইনিংস ও ৫২ রানে পরাজিত হলে তাঁর দল তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।
২০২১-২২ মৌসুমে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে মমিনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশী দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। ৩১ মার্চ, ২০২২ তারিখে ডারবানে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ২/৮৬ ও ৩/৪০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, উভয় ইনিংসে শূন্য রানে অপরাজিত ছিলেন। তবে, কেশব মহারাজের অনবদ্য বোলিং সাফল্যে সফরকারীরা ২২০ রানে পরাজিত হলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে যায়।
বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসের ৫৪৬ রানের সর্ববৃহৎ জয়ের সাথে নিজেকে জড়ান। ১৪ জুন, ২০২৩ তারিখে ঢাকায় অনুষ্ঠিত সিরিজের একমাত্র টেস্টে সফরকারী আফগানিস্তানের মুখোমুখি হন। ৪/৪৭ ও ১/২২ লাভ করে শরীফুল ইসলামকে যোগ্য সঙ্গ দেন।
২০২৫-২৬ মৌসুমে নিজ দেশে অ্যান্ডি বালবির্নি’র নেতৃত্বাধীন আইরিশ দলের মুখোমুখি হন। ১৯ নভেম্বর, ২০২৫ তারিখে ঢাকায় অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ১৮ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৪৭ ও ০/২৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, মুশফিকুর রহিমের অসাধারণ ব্যাটিংয়ের কল্যাণে খেলায় তাঁর দল ২১৭ রানে জয় পেয়ে ২-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।
