৭ জুলাই, ১৯৭৯ তারিখে বুলাওয়েতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। দলে মূলতঃ বোলারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ২০০০-এর দশকে জিম্বাবুয়ের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

জিম্বাবুয়ের অন্যতম প্রতিশ্রুতিশীল তরুণ ক্রিকেটারের মর্যাদা পেয়েছিলেন। তবে, আঘাতের কারণে নিজেকে পরিস্ফূটিত করতে পারেননি। সন্দেহাতীতভাবেই জিম্বাবুয়ের অন্যতম বৃহৎ চরিত্রের অধিকারী। ভয়ঙ্কর কিন্তু আমুদে প্রকৃতির অধিকারী ছিলেন। এর মাধ্যমে অনেক জিম্বাবুয়ীয় ক্রিকেটারের দৃষ্টিভঙ্গীর প্রতিফলন ঘটিয়েছিলেন।

অধিকাংশ কৃষ্ণাঙ্গ খেলোয়াড়ের ন্যায় তিনিও পারিবারিকভাবে কোন পরিচর্যা পাননি। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালীন ক্রিকেটের সাথে প্রথম পরিচিতি ঘটান। জ্যেষ্ঠ ভ্রাতার মাধ্যমে তাঁর পরিবার ক্রিকেটের সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। শহরতলীতে ক্রিকেট প্রচলনের পথিকৃৎ পিটার শার্পলেসের কাছে কুইন্সডেল প্রাইমারি স্কুলে উভয়েই খেলা শিখতে থাকেন। এভাবেই তাঁর সাথে ক্রিকেটের প্রথম সম্পর্ক সৃষ্টি হয়। তবে, হাই স্কুলে থাকাকালীন তাঁর ভ্রাতা ক্রিকেট ছেড়ে দেন ও চার্চিলসের খ্যাতনামা ব্যান্ড দলে যুক্ত হন। তাঁর কনিষ্ঠ ভ্রাতা ড্যানিয়েল জাতীয় পর্যায়ের অনূর্ধ্ব-১৩ ও অনূর্ধ্ব-১৭ দলসহ লোগান কাপে ম্যাশোনাল্যান্ড ‘এ’ দলে খেলেছে। এছাড়াও, চেন্নাইভিত্তিক এমআরএফ পেস ফাউন্ডেশন থেকে তিন সপ্তাহের প্রশিক্ষণে ডেনিস লিলি’র সংস্পর্শে এসে বেশ লাভবান হন ও নিজেকে গড়ে তুলেন। সেখান থেকে চলে আসার পর ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ায় ঘরোয়া ক্রিকেটে অংশ নিতে থাকেন।

হারারেভিত্তিক চার্চিল বয়েজ হাইস্কুলের ছাত্র ছিলেন। টাটেন্ডা তাইবু ও হ্যামিল্টন মাসাকাদজা’র পর বিদ্যালয়ের তৃতীয় শিক্ষার্থী হিসেবে টেস্ট ক্রিকেটে অংশ নেয়ার সুযোগ পান। নিচেরসারির সেরা ব্যাটসম্যান ছিলেন ও নিজেকে ব্যাটসম্যান হিসেবে দাবী করতেন। নিজের সেরা দিনগুলোয় কয়েকটি বড় ধরনের ইনিংস খেলেছিলেন। তাসত্ত্বেও, ইউনিভার্সালস ক্লাবে অবস্থানকালীন ১১ নম্বরে ব্যাটিংয়ে নামতেন।

১৯৯৯-২০০০ মৌসুম থেকে ২০১১-১২ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর জিম্বাবুয়ীয় ক্রিকেটে ইস্টার্নস, ম্যাশোনাল্যান্ড ঈগলস ও মিডল্যান্ডসের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট একাডেমি ও ইউনিভার্সালসসের পক্ষে খেলেছেন। ২ মার্চ, ২০০০ তারিখে কান্ট্রি ক্লাবে অনুষ্ঠিত লোগান কাপ প্রতিযোগিতায় সিএফএক্স বনাম ম্যাশোনাল্যান্ডের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান। পোর্ট অ্যাডিলেডে এক মৌসুম খেলার পর জাতীয় দলের সদস্যরূপে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশের জন্যে আমন্ত্রণ বার্তা লাভ করেন।

২০০১ থেকে ২০০৫ সময়কালে জিম্বাবুয়ের পক্ষে নয়টিমাত্র টেস্ট ও ৫৬টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছেন। ২০০১-০২ মৌসুমে নিজ দেশে শন পোলকের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ৭ সেপ্টেম্বর, ২০০১ তারিখে হারারেতে অনুষ্ঠিত সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ২২০ রান খরচায় গ্যারি কার্স্টেনের উইকেট পান। খেলায় তিনি ১/৮৭ ও ০/০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, এগারো নম্বর অবস্থানে ব্যাটিংয়ে নেমে অ্যান্ডি ফ্লাওয়ারের (১৪২ ও ১৯৯*) সাথে দুইটি গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন। তন্মধ্যে, দ্বিতীয় ইনিংসে এলবিডব্লিউতে বিদেয় নিলে অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার দ্বি-শতক হাঁকানো থেকে বঞ্চিত হন। সবশেষে ব্যাট হাতে নিয়ে ১* ও ৬ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। খেলায় তাঁর দল ৯ উইকেটে পরাভূত হয়। অ্যান্ডি ফ্লাওয়ারের বীরোচিত ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন সত্ত্বেও সফরকারীরা ৯ উইকেটে জয়লাভ করলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

দ্বিতীয় টেস্টে তাঁকে প্রথম একাদশে রাখা হয়নি। অল্পদিন পরই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুইটি ওডিআইয়ে তাঁকে দলে ফিরিয়ে আনা হয়। দৃশ্যতঃ তাঁকে দলে অন্তর্ভুক্তি ভুল ছিল। এ পর্যায়ে তাঁর বোলিং বেশ এবড়োথেবড়ো ছিল। দুই খেলায় নয় ওভারে ৬৬ রান খরচ করেন। তবে, নিক নাইটের ক্যাচ দুইবার হাতছাড়া হয়ে যায়। শুরুতে খুব কম সফলতা পান। সাউথ অস্ট্রেলিয়ায় এক মৌসুম ‘এ’ গ্রেডের ক্লাব ক্রিকেটে অংশ নেয়ার পর তাঁর বোলিংয়ে গতির সৃষ্টি করে। জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট ইউনিয়ন স্টুয়ার্ট মাতসিকেনিয়ারিসহ তাঁকে পোর্ট অ্যাডিলেড ক্লাবে অন্তর্ভুক্তির ব্যবস্থা করে।

২০০২ সালে ভারত সফরের জন্যে মনোনীত হন। প্রথম দুই খেলায় তাঁকে খেলানো হয়নি। তবে, দ্বিতীয় খেলায় দ্বাদশ খেলোয়াড়ের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। এ খেলায় অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার আঘাতের কবলে পড়লে ভারতীয় ইনিংসের অধিকাংশ সময় ফিল্ডিং করেন। কোচিতে সিরিজের তৃতীয় ওডিআইয়ে চার উইকেট পান ও ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন। পমি এমবাঙ্গাকে সাথে নিয়ে শীর্ষসারিতে ভাঙ্গন ধরান ও স্বাগতিক দলের সংগ্রহকে ৫১/৪ করেন। নয়ন মোঙ্গিয়া, সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় ও রাহুল দ্রাবিড় তাঁর শিকারে পরিণত হন। এছাড়াও, শেষ খেলোয়াড়কে বিদেয় করেন ও দলকে জয়লাভে সহায়তা করেন। পরের দুই খেলা থেকে তিন উইকেট পান। তন্মধ্যে, সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কে আবারও বিদেয় করেন। এরপর থেকে তিনি জিম্বাবুয়ে দলের নিয়মিত সদস্যের মর্যাদা পান।

এ পর্যায়ে প্রথম পাঁচটি ওডিআইয়ে অংশ নিয়ে ১৫ উইকেট দখল করেন। ঐ বছরের শেষদিকে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি প্রতিযোগিতায় ভারত ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে উপর্যুপরী দুইবার চার-উইকেট লাভ করেছিলেন। তন্মধ্যে, ভারতের সংগ্রহকে ৮৭/৫ করালেও বাদ-বাকী বোলারেরা তেমন প্রভাব ফেলতে ব্যর্থ হয়। ভারত দল ইনিংস গোছায় ও জয়লাভে সক্ষম হয়। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ছয় ওভার থেকে ৪/৪৫ পান। সবমিলিয়ে ৯ টেস্ট খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন। ঐ পর্যায়ে তিনি সফল ছিলেন। চমৎকারভাবে বলকে সুইং করাতে পারতেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পিচের উভয় দিকে বলকে ঘুরাতে পারতেন।

পেস বোলার হিসেবে তিনি সচরাচর সীমানা অঞ্চলে ফিল্ডিং করতেন। তবে, কভার কিংবা স্লিপ অঞ্চলে অবস্থানকেই তিনি প্রাধান্য দেন। মাঠে স্বীয় ক্ষীপ্রগতিকে কাজে লাগান। ডাইভ মারতে জানেন, নিরাপদ দূরত্ব থেকে ক্যাচ তালুবন্দী করেন ও খুচরো রান তুলতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন।

চেস্টার-লি-স্ট্রিটে বোলিংয়ের এক পর্যায়ে অপ্রতিরোধ্য ছিলেন। মাত্র ১০ বলের ব্যবধানে মার্ক বুচার, রবার্ট কী ও নাসের হুসাইনকে প্যাভিলিয়নে ফেরৎ পাঠিয়েছিলেন। তবে, বাংলাদেশের বিপক্ষেই সেরা মুহূর্ত অতিবাহিত করেছিলেন। স্বাগতিকদের বিপক্ষে ৬/৫৯ বোলিং পরিসংখ্যান দাঁড় করিয়েছিলেন।

২০০৪-০৫ মৌসুমে টাটেন্ডা তাইবু’র নেতৃত্বাধীন দলের সদস্যরূপে বাংলাদেশ সফরে যান। ১৪ জানুয়ারি, ২০০৫ তারিখে ঢাকায় অনুষ্ঠিত স্বাগতিক বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ৬/৫৯ ও ০/৩৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, দলনায়কের অসম্ভব ব্যাটিং নৈপুণ্যের কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও স্বাগতিক দল ১-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

উপর্যুপরী আঘাতের কবলে পড়েন ও অনেকটা আগেভাগেই খেলোয়াড়ী জীবন থেকে দূরে সড়ে যান। পিঠের আঘাতের কবলে পড়েন। শেষদিকে বোর্ডের সাথে ক্রমাগত রুদ্রমূর্তি ধারণ করেন। এরপর, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটসহ প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণের কথা ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে, অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের ক্রিকেটে অংশ নিতে থাকেন।

বিদ্যালয় জীবনে রাগবিতে ফ্লাই-হাফ অবস্থানে খেলতেন। ম্যাশোনাল্যান্ডের বিদ্যালয় দলে দুই বছর খেলেছেন। চূড়ান্ত বর্ষে জিম্বাবুয়ে অনূর্ধ্ব-১৯ বি দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, চার্চিলে থাকাকালীন বাস্কেটবলের মূল দলে খেলেন। এ-লেভেল উত্তীর্ণ হয়েছেন ও কম্পিউটার বিষয়ে তাঁর বিশাল আগ্রহ রয়েছে। শচীন তেন্ডুলকর, কার্টলি অ্যামব্রোসকোর্টনি ওয়ালশকে শীর্ষ পছন্দের তালিকায় রেখেছেন। মার্কাস ট্রেসকোথিকের বিপরীতে বোলিংয়ে সাফল্য পাওয়াকে বেশ দুরূহ হিসেবে মনে করেন। মাখায়া এনটিনিকে সেরা বন্ধুর তালিকায় ঠাঁই দিয়েছেন। সঙ্গীতের দিকে তাঁর আগ্রহ বেশ প্রবল। ক্রিকেট বিষয়ে তিনি মন্তব্য করেন যে, ‘ক্রিকেট বর্তমানে ব্যাটসম্যানের উপযোগী। বোলারদের তেমন কিছুই করার থাকে না।’

খেলোয়াড়ী জীবনের দক্ষতা কাজে লাগাতে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া কর্তৃক পরিচালিত তৃতীয় পর্যায়ের কোচ হিসেবে প্রশিক্ষণ নেন। ২০০৮ সালে জাতীয় দলের বোলিং কোচ হিসেবে নিযুক্ত হন।

সম্পৃক্ত পোস্ট