১১ মার্চ, ১৯৭৭ তারিখে সলসবারিতে জন্মগ্রহণকারী পেশাদার ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার। মূলতঃ প্রকৃত মানসম্পন্ন অল-রাউন্ডার হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলেছিলেন। বামহাতে মাঝারিসারিতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিং করতেন। জিম্বাবুয়ের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

পায়ের কারুকাজ ও ব্যাট হাতে দৃঢ় মনোভাবাপন্ন কৌশল অবলম্বনে বেশ সাফল্য পান। বোলিংয়ের ক্ষেত্রেও বেশ চাতুর্যতাপূর্ণ কৌশল প্রয়োগে অগ্রসর হতেন। বল ছোঁড়ায় ভিন্নতা আনয়ণসহ পেসে বৈচিত্র্য এনে জিম্বাবুয়ে দলে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখতেন। শুরুরদিকের প্রতিশ্রুতিশীলতা খুব শীঘ্রই শীর্ষ পর্যায়ের ক্রিকেটে ধরে রাখতে পারেননি ও হিমশিম খান।

১৯৯৪-৯৫ মৌসুম থেকে ২০০২-০৩ মৌসুম পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর জিম্বাবুয়ীয় ক্রিকেটে ম্যাশোনাল্যান্ড, ম্যাশোনাল্যান্ড ‘এ’ ও মিডল্যান্ডসের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১১৯৬-৯৭ মৌসুম থেকে ১৯৯৯-২০০০ মৌসুম পর্যন্ত ম্যাশোনাল্যান্ড, ২০০০-০১ মৌসুমে ম্যাশোনাল্যান্ড ‘এ’ ও ২০০১-০২ মৌসুম থেকে মিডল্যান্ডসের পক্ষে খেলেন। এছাড়াও, ওল্ড হারারিয়ান্সের সদস্য ছিলেন। ১৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৯৫ তারিখে হারারেভিত্তিক আলেকজান্দ্রা স্পোর্টস ক্লাবে অনুষ্ঠিত ইয়ং ম্যাশোনাল্যান্ড বনাম ম্যাশোনাল্যান্ড কান্ট্রি ডিস্ট্রিক্টসের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান।

১৯৯৬-৯৭ মৌসুমে জিম্বাবুয়ের বর্ষসেরা তরুণ ক্রিকেটারের সম্মাননায় ভূষিত হন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে কোন অর্ধ-শতরানের সন্ধান না পেলেও জাতীয় দলে অন্তর্ভুক্ত হন। বিংশতিতম জন্মদিনের অল্প কিছুদিন পরই জিম্বাবুয়ে দলের সাথে শারজা গমন করেন। ঘরোয়া পর্যায়ের ক্রিকেটে নিজের সম্ভাবনাকে তুলে ধরতে পারেননি ও ব্যাটিং গড় ঐ সময়ে ৩০-এর নীচে অবস্থান করছিল। একটিমাত্র শতরানের সন্ধান পেয়েছিলেন। ১৯৯৯-২০০০ মৌসুমে বুলাওয়েতে ম্যাশোনাল্যান্ডের সদস্যরূপে মাতাবেলেল্যান্ডের বিপক্ষে একচ্ছত্র প্রভাব বিস্তার করে ১৭৩ রানের অপরাজিত ইনিংস উপহার দেন। এ পর্যায়ে ক্রেগ ইভান্সের (১৫৩) সাথে ৩৩০ রানের বিশাল জুটি গড়েন। তবে, এরপর থেকে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ করেছিলেন ৭৯ রান।

২০০১-০২ মৌসুমে শক্তিধর দল ছেড়ে মিডল্যান্ডসের সাথে খেলার জন্যে চুক্তিবদ্ধ হন। নিয়মিত অধিনায়ক ডগ মারিলিয়ার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ব্যস্ত থাকায় অধিনায়কের দায়িত্ব ভার তাঁর কাঁধে অর্পিত হয়। ২০০২-০৩ মৌসুমে প্রাদেশিক দলের আনুষ্ঠানিকতার সাথে অধিনায়ক হিসেবে মনোনীত হন। তাসত্ত্বেও, টেস্ট দলে ফেরার স্বপ্নে বিভোঁর থাকতেন।

১৯৯৭ থেকে ২০০১ সময়কালে জিম্বাবুয়ের পক্ষে দুইটিমাত্র টেস্ট ও ৫৩টি ওডিআইয়ে অংশগ্রহণ করেছিলেন। ১৯৯৭-৯৮ মৌসুমে নিজ দেশে রশীদ লতিফের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলার জন্যে দলে অন্তর্ভুক্ত হন। ১৪ মার্চ, ১৯৯৮ তারিখে বুলাওয়েভিত্তিক কুইন্স স্পোর্টস ক্লাবে অনুষ্ঠিত সিরিজের প্রথম টেস্টে ট্রেভর ম্যাডোন্ডো’র সাথে তাঁর একযোগে অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। এ পর্যায়ে পরিবর্তিত উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে মাঠে নামেন। কিন্তু, ওয়াকার ইউনুসশোয়েব আখতারের নতুন বল নিয়ে আক্রমণ কার্য পরিচালনায় জবুথবু অবস্থায় নিপতিত হন। উভয় ইনিংসেই কোন রানের সন্ধান পাননি। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হয়েছিল।

এক পর্যায়ে দল নির্বাচকমণ্ডলী তাঁর মাঝে একদিনের খেলায় বিপুল সম্ভাবনা দেখতে পান। তবে, বেশ কয়েকজন ব্যাটসম্যানকে তাঁকে পাশ কাটিয়ে সামনে খেলানো হয়। খুব কম সময়ই আট নম্বর অবস্থানের পূর্বে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেতেন। তাসত্ত্বেও, সীমিত-ওভারের খেলায় বেশ রান পেতে থাকেন। বোলিংয়ের ক্ষেত্রেও মিতব্যয়ীতার স্বাক্ষর রাখেন।

ব্যাটসম্যান হিসেবেও নিজের পদযুগলকে সচল রাখেন। ২০০০-০১ মৌসুমে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে উপর্যুপরী অর্ধ-শতক হাঁকান। ষষ্ঠ উইকেটে অ্যান্ডি ফ্লাওয়ারের সাথে ৮২ রানের জুটি গড়ে দলের বিজয়ে বিরাট ভূমিকা রাখেন। নিজে করেন ৩৯ রান। এরফলে, প্রথমবারের মতো বিদেশের মাটিতে সিরিজ জয় করে জিম্বাবুয়ে দল। জানুয়ারি, ২০০১ সালে ইডেন পার্কে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ওডিআইয়ে নাটকীয়ভাবে এক উইকেটের বিজয়েও অংশ নেন।

এরপর, আর একটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ২০০১-০২ মৌসুমে নাগপুরে স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে নিজস্ব দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ২৫ নভেম্বর, ২০০০ তারিখে অনুষ্ঠিত ঐ টেস্টে অবশ্য নিজস্ব প্রথম টেস্টের তুলনায় বেশ ভালো খেলেন। জিম্বাবুয়ের প্রথম ইনিংসে সাত নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে ১৯ রান তুলে টেস্টে শূন্য রানের গণ্ডি অতিক্রম করেন। এরপর দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৮ রান তুলেন। এ পর্যায়ে অ্যান্ডি ফ্লাওয়ারের সাথে ১১৩ রান তুলে ফলো-অনের পর খেলাকে ড্রয়ের দিকে নিয়ে যান। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়। তাসত্ত্বেও একদিনের খেলার উপযোগী হিসেবেই চিত্রিত হন ও পরবর্তীতে আর তাঁকে কোন সুযোগ দেয়া হয়নি।

ক্রমাগত ব্যাটিংয়ের মান নিচেরদিকে চলে যেতে থাকে। বল থেকেও ব্যাপক রান খরচ হতে থাকে। ফলশ্রুতিতে, ২০০১-০২ মৌসুমে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ শেষে দল থেকে বাদ পড়েন। ২৫ বছর বয়সে জাতীয় দল থেকে বাদ পড়ায় ভবিষ্যৎ নিয়ে বেশ চিন্তিত হয়ে পড়েন। ২০০২ সালে রবার্ট মুগাবে সরকারের আমলে পারিবারিক খামার বাজেয়াপ্ত হয়। ফলে, ভবিষ্যৎ আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। তাসত্ত্বেও, জিম্বাবুয়েতে থেকে যান। সাবেক খেলোয়াড়দের নিয়ে জোট গড়ে ২০০৯-১০ মৌসুমে জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটকে সচল রাখেন। এরপর, ধারাভাষ্যকার ও ঘরোয়া ক্রিকেটে প্রশিক্ষণ কর্মের সাথে নিজেকে জড়িয়ে রাখেন। ক্রিকেটের বাইরে নক্সাকার হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করেছেন।

সম্পৃক্ত পোস্ট