২৫ জানুয়ারি, ১৯৭৯ তারিখে সলসবারির হাইফিল্ড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী পেশাদার ক্রিকেটার ও প্রশাসক। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। জিম্বাবুয়ের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
হারারের কৃষ্ণাঙ্গ শহরতলী থেকে আসা প্রথমদিকের অন্যতম ক্রিকেটার ছিলেন। প্রায় দুই মিটার উচ্চতাসহ শক্ত মজবুত গড়নের অধিকারী। অধিক উচ্চতার কারণে পিচ থেকে অপ্রত্যাশিতভাবে বলকে উঠাতে পারতেন। মূলতঃ অফ-কাটার সহযোগে বোলিং কর্মে অগ্রসর হতেন। আঘাতের সমস্যাসহ বোলিং ত্রুটির কারণে তেমন সফলতা পাননি।
‘ডিভা’, ‘কার্টলি’ কিংবা ‘কোর্টনি’ ডাকনামে পরিচিতি পান। তন্মধ্যে, কার্টলি অ্যামব্রোসের ন্যায় উচ্চতার কারণে ‘কার্টলি’ এবং কোর্টনি ওয়ালসের অনুরক্ত হবার ফলে ‘কোর্টনি’ ডাকনামে ভূষিত হয়েছিলেন। ১৯৯৮-৯৯ মৌসুম থেকে ২০০৩-০৪ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর জিম্বাবুয়ীয় ক্রিকেটে ম্যাশোনাল্যান্ড ‘এ’ ও মিডল্যান্ডসের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, ইউনিভার্সালসের পক্ষে খেলেছেন। মার্চ, ১৯৯৯ তারিখে হারারের আলেকজান্দ্রা স্পোর্টস ক্লাবে অনুষ্ঠিত জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট একাডেমি বনাম অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট একাডেমির মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান। জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট ইউনিয়নের উদ্যোগ উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণের ফলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯৯৯ সালে জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট একাডেমির প্রথম পূর্ণাঙ্গ শিক্ষার্থীদের অন্যতম ছিলেন।
১৯৯৯ থেকে ২০০১ সময়কালে জিম্বাবুয়ের পক্ষে একটিমাত্র টেস্ট ও নয়টিমাত্র ওডিআইয়ে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯৯৯-২০০০ মৌসুম থেকে জিম্বাবুয়ে জাতীয় ক্রিকেট দলের সাথে জড়িত ছিলেন। এ পর্যায়ে দলের সফলতায় উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখেন। ২৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৯৯ তারিখে নাইরোবির জিমখানায় অনুষ্ঠিত স্বাগতিক কেনিয়ার বিপক্ষে ওডিআইয়ে অভিষেক ঘটে। পরের মৌসুমে ব্যক্তিগত একমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ লাভ করেন।
২০০০-০১ মৌসুমে নিজ দেশে স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ১২ সেপ্টেম্বর, ২০০০ তারিখে বুলাওয়ের কুইন্স স্পোর্টস ক্লাবে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ১০ ও ০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ২৯ রান খরচায় কোন উইকেটের সন্ধান পাননি। পল ওয়াইজম্যানের অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ৭ উইকেটে জয়লাভ করলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
একই সফরের ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০০০ তারিখে হারারেতে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি দ্বাদশ খেলোয়াড়ের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ক্রিস কেয়ার্নসের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ৮ উইকেটে জয়লাভ করলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।
ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণের পর প্রশাসনের দিকে ধাবিত হন। জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটের দল নির্বাচকমণ্ডলীর সদস্য হন। ১ জুলাই, ২০১১ তারিখে জন রেনিসহ তাঁকে অব্যহতি দেয়া হয়। তাঁদের পরিবর্তে যথাক্রমে কেভিন কারেন ও গিভমোর মাকোনিকে যুক্ত করা হয়।
