১৪ এপ্রিল, ১৯১৬ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের মাদ্রাজের মামানদুরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৪০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান ছিলেন। পিতা অনেক ভূমির মালিক ছিলেন ও বৃহৎ পুস্তক বিপণীতে ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব পালন করতেন। পাচাইয়াপ্পাজ কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট বিএ শ্রেণীতে অধ্যয়ন করেন। পাঁচ ফুট পৌনে দশ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী ছিলেন। তাসত্ত্বেও, পর্যাপ্ত পেস সহযোগে ডানহাতি ব্যাটসম্যানদের বিপক্ষে উভয়দিক দিয়েই বোলিং কর্মে অগ্রসর হতেন। ১৯৩৮-৩৯ মৌসুম থেকে ১৯৫৩-৫৪ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে মাদ্রাজের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
১৯৩২ সালে মাদ্রাজ লীগের প্রবর্তন হলে চিপক ইউনাইটেড ক্লাবের পক্ষে খেলেন। পরবর্তীতে, এমজে গোপালনের সাথে ত্রিপলিকান ক্রিকেট ক্লাবে একত্রে খেলে বোলিং উদ্বোধনে স্মরণীয় জুটি গড়েন। ইন্টার-অ্যাসোসিয়েশনের খেলায় ৯/৪৫ নিয়ে আলোচনায় চলে আসেন। রঞ্জী ট্রফিতে হায়দ্রাবাদের বিপক্ষে অংশ নেয়ার মাধ্যমে তাঁর প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে। ঐ খেলায় ৩/২৬ ও ২/৪৩ পেয়েছিলেন। পরের খেলায় ইন্ডিয়ান্সের সদস্যরূপে ইউরোপিয়ান্সের মুখোমুখি হন। দলের চার উইকেটের বিজয়ে প্রভূতঃ ভূমিকা রাখেন। ২/২৭ ও ৩/৪৩ লাভ করেছিলেন।
১৯৪০-৪১ মৌসুমে স্বর্ণালী সময় অতিবাহিত করেন। উপর্যুপরী তিনটি খেলায় বিরাটভাবে সফলতার স্বাক্ষর রেখেছিলেন। ইন্ডিয়ান্সের সদস্যরূপে ইউরোপিয়ান্সের বিপক্ষে ৫/৪১ ও ৩/৩০, রঞ্জী ট্রফির সেমি-ফাইনালে ইউনাইটেড প্রভিন্সেসের বিপক্ষে ৫/৭৫ ও ৩/৩১ এবং চূড়ান্ত খেলায় মহারাষ্ট্রের বিপক্ষে ৪/৭১ লাভ করেছিলেন। তবে, বিজয় হাজারে, চান্দু সরবটে ও রাঙ্গা সোহনি’র অপূর্ব ক্রীড়াশৈলীর কারণে মাদ্রাজ দল রঞ্জী ট্রফিতে প্রথমবারের মতো শিরোপা সন্ধান পেতে ব্যর্থ হয়। চান্দু সরবটে’র ২১ ও রাম সিংয়ের ২০ উইকেট দখলের পর উইকেট সংগ্রহে ১৯ উইকেট নিয়ে তালিকায় তৃতীয় স্থানে অবস্থান করেছিলেন।
নিজ সময়কালে ও ভারতীয় ক্রিকেটের ঊষালগ্নে অন্যতম দ্রুতগতিসম্পন্ন বোলার ছিলেন। যদি তিনি দীর্ঘদিন খেলার সুযোগ পেতেন তাহলে হয়তোবা উঁচু আসরের ক্রিকেটে বড় ধরনের সফলতার স্বাক্ষর রাখতে পারতেন। ঘরোয়া আসরের ক্রিকেটে দারুণ সফলতা লাভের পর বড় ধরনের আসরে যুক্ত হলেও বিশ্বযুদ্ধের পর নিজের সেরা সময়টুকু ফেলে এসেছিলেন।
১৯৪৮ সালে ভারতের পক্ষে চারটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯৪৭-৪৮ মৌসুমে লালা অমরনাথের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের সাথে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ২৩ জানুয়ারি, ১৯৪৮ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। অভিষেক টেস্টে প্রতিপক্ষের সংগ্রহ এক পর্যায়ে ৫০৩/৩ হলেও তিনি ৪/১৪১ লাভ করেছিলেন। খেলায় তাঁর দল ইনিংস ও ১৬ রানে পরাজিত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।
দশ মাস পর দিল্লিতে অন্যতম স্বর্ণালী মুহূর্ত অতিবাহিত করেন। ১৯৪৮-৪৯ মৌসুমে ক্লাইড ওয়ালকটের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। নিজ দেশে ১৫ বছর পর টেস্টের আয়োজন করা হলে অ্যালান রে, জেফ্রি স্টলমেয়ার ও জর্জ হ্যাডলিকে বিদেয় করে ৩/২৭ পান। ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল ৬৩১ রান করলে তিনি ৫/১০৭ পেয়েছিলেন। এরপর, আর কোন টেস্ট উইকেট পাননি। টেস্টগুলোয় সাধারণমানের ৫৪.৭৭ গড়ে মাত্র নয় উইকেট দখল করেন। সবগুলো উইকেট মাত্র দুই ইনিংস থেকে পেয়েছেন।
পরবর্তীতে, ৯ ডিসেম্বর, ১৯৪৮ তারিখে বোম্বের বিএসে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ৮* রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ১৪৮ রান খরচ করলেও কোন উইকেটের সন্ধান পাননি। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায় ও পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে। এরপর দল থেকে বাদ পড়েন। তাসত্ত্বেও, আরও পাঁচ মৌসুম মাদ্রাজের পক্ষে খেলেছিলেন।
বিজয় মার্চেন্ট ও বিজয় হাজারে যখন একে-অপরের তুলনায় অধিক রান সংগ্রহে ব্যস্ত ছিলেন তখন তিনি ৬২টি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিয়ে ২৬.১১ গড়ে ১৯৯ উইকেট দখল করেছিলেন। তন্মধ্যে, চৌদ্দবার পাঁচ-উইকেটের সন্ধান পেয়েছিলেন।
ব্যাট হাতে নিয়ে বেশ নিচেরদিকে মাঠে নামতেন। টেস্টে ছয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নামলেও কোনটিতেই পাঁচ রান তুলতে পারেননি। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটেও একই অবস্থা ছিল। মাত্র ৭.৭৪ গড়ে রান তুলেছেন। ফাস্ট বোলার হলেও কাছকাছি এলাকায় ফিল্ডিং করতেন। সচরাচর সিলি মিড-অফ এলাকাকে বেছে নিতেন। ৪২টি ক্যাচ মুঠোয় পুড়েছেন।
পেশায় পুলিশ কর্মকর্তা ছিলেন। জীবনের শেষ দিনগুলোয় মাদ্রাজে কাটান। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। তাঁর সন্তান কমান্ডার রঙ্গচারী বিজয়রাঘবন আম্পায়ারের দায়িত্ব পালন করেছেন। ৯ অক্টোবর, ১৯৯৩ তারিখে তামিলনাড়ুর মাদ্রাজে ৭৭ বছর ১৭৮ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।
