|

বার্টো বার্টলেট

১০ মার্চ, ১৯০৬ তারিখে বার্বাডোসের ফ্লিন্ট হল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

বেশ ছোটখাঁটো গড়নের অধিকারী ছিলেন। তবে, বেশ দ্রুতলয়ে পায়ের কারুকাজে পটু ছিলেন। শক্তিশালী ড্রাইভ ও সুন্দর কাটার সহযোগে স্কয়ার অঞ্চলে বল ফেলে ব্যাটিং কর্মে অগ্রসর হতেন। এছাড়াও, উইকেটের চতুর্পার্শ্বে স্ট্রোকের ফুলঝুড়ি ছোটাতেন। রান সংগ্রহ করতে থাকলে তিনি সন্দেহাতীতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন। বলা হয়ে থাকে যে, তিনি বেশ স্বার্থপরভাবে খেলতেন ও অন্যদের ধার ধারতেন না।

১৯২৩-২৪ মৌসুম থেকে ১৯৩৮-৩৯ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে বার্বাডোসের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

১৯২৮ থেকে ১৯৩১ সময়কালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে পাঁচটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯২৮ সালে ইংল্যান্ড এবং ১৯৩০-৩১ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়া সফরে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন। তন্মধ্যে, ১৯২৮ সালে কার্ল নুনেসের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের ইংল্যান্ডের মাটিতে নিজেদের ক্রিকেটের উদ্বোধনী সফরে অংশ নেন। এ সফরে ২৪.৩৩ গড়ে ৫৮৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। দৃশ্যতঃ তেমন সুবিধে করতে পারেননি। অনেকাংশেই দূর্ভাগ্য দায়ী ছিল। জুলাইয়ের শুরুতে সবেমাত্র ছন্দে ফিরে এসেছিলেন। নটিংহ্যামশায়ারের বিপক্ষে দূর্দান্ত ১০৯ রানের ইনিংস খেলেন। এরপর, আরও এক কিংবা দুইটি খেলায় বেশ ভালোমানের ব্যাটিং করে আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনেন। এরফলে সেরাদের কাতারে ফেলতে শুরু করেন। ১১ আগস্ট, ১৯২৮ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। ভাইবার্ট উইটের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ১৩ ও ৮ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ইনিংস ও ৭১ রানে জয় পেয়ে স্বাগতিকরা ৩-০ ব্যবধানে সিরিজে জয়লাভ করে।

তবে, আঙ্গুল ভেঙ্গে যাবার ফলে বেশ কয়েকটি খেলায় তাঁকে মাঠের বাইরে অবস্থান করতে বাধ্য হয় ও খেলায় ছন্দপতন ঘটে। অপরদিকে, ১৯৩০-৩১ মৌসুমে জ্যাকি গ্র্যান্টের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া সফরে তিনি অনেকটাই ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছিলেন। এ সফরের পর তাঁকে আর ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলে খেলানো হয়নি। কেবলমাত্র ১২ ডিসেম্বর, ১৯৩০ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে ১১৪ বলে ৮৪ রানের মনোরম ইনিংসটি উল্লেখযোগ্য ছিল। এছাড়াও, দ্বিতীয় ইনিংসে ১১ রান তুলেছিলেন। ১০ উইকেটে পরাজিত হলে সফরকারীরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

একই সফরের ১৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৩১ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ৯ ও ৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। সফরকারীরা ইনিংস ও ১২২ রানে পরাজিত হলে ৪-০ ব্যবধানে সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

এরপর, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ১৯৩১ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ০ ও ০* রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। সফরকারীরা ৩০ রানে জয়লাভ করলেও ৪-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

২১ ডিসেম্বর, ১৯৭৬ তারিখে বার্বাডোসের বেভিল এলাকায় ৭০ বছর ২৮৬ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

সম্পৃক্ত পোস্ট