৩০ আগস্ট, ১৯৩৪ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের মহারাষ্ট্রের বোম্বেতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। লেগ-ব্রেক গুগলি বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৬০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
১৯৫৩-৫৪ মৌসুম থেকে ১৯৬৯-৭০ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে বোম্বে, বাংলা ও রেলওয়ের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন। দলগুলোর সদস্যরূপে নিয়মিতভাবে উইকেট লাভে সক্ষমতা দেখিয়েছেন। তবে, দূর্ভাগ্যজনকভাবে প্রায়শঃই জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা ও সতীর্থ লেগ-স্পিনার সুভাষ গুপ্তে’র সাফল্যে ম্রিয়মান হয়ে পড়তেন। কেবলমাত্র টেস্ট পর্যায়েই নয়, রাজ্য দল, ক্লাব, স্থানীয় পর্যায়ে এমনকি নিজ গৃহেও সুভাষ গুপ্তের লেগ-স্পিনে একই ধারা অব্যাহত রাখতে পারেননি।
১৯৬১ থেকে ১৯৬৫ সময়কালে ভারতের পক্ষে তিনটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। তাসত্ত্বেও, স্বীয় ভ্রাতার তুলনায় স্পিনার হিসেবে বড় ধরনের ভূমিকা রেখে গেছেন। কিন্তু, তাঁর তুলনায় বৈচিত্র্যতা আনতে পারেননি।
১৯৬০-৬১ মৌসুমে নিজ দেশে ফজল মাহমুদের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের মুখোমুখি হন। ১৩ জানুয়ারি, ১৯৬১ তারিখে মাদ্রাজে অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। সুভাষ গুপ্তে’র স্থানচ্যূতির কারণে তাঁর টেস্ট অভিষেকের পথ সুগম হয়েছিল। একমাত্র ইনিংসে অপরাজিত ১৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন। কিন্তু ঐ খেলায় তিনি কোন উইকেটের সন্ধান পাননি। ০/৯৭ ও ০/১৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায় ও পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
১৯৬২-৬৩ মৌসুমে দিলীপ ট্রফির চূড়ান্ত খেলায় পশ্চিমাঞ্চলের সদস্যরূপে ৯/৫৫ পেলে পুণরায় তাঁকে দলে ফিরিয়ে আনা হয়। ১৯৬৪-৬৫ মৌসুমে নিজ দেশে জন রিডের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ৫ মার্চ, ১৯৬৫ তারিখে কলকাতায় অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ১/৫৪ ও ১/৬৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করিয়েছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায় ও চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ফলাফলবিহীন অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে অংশগ্রহণ ছিল।
ঘরোয়া আসরের ক্রিকেটে বল হাতে দূর্দান্ত ভূমিকা রেখে গেছেন। অংশগ্রহণকৃত টেস্টগুলো থেকে মাত্র তিন উইকেট পেলেও প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ২৪.৮৮ গড়ে ৪১৭ উইকেট পান। তন্মধ্যে, কেবলমাত্র রঞ্জী ট্রফিতে ২৩.৪৭ গড়ে ১৫৫ উইকেট দখল করেন। কিন্তু, দিলীপ ট্রফিতেই সেরা সাফল্যের স্বাক্ষর রাখেন। পশ্চিমাঞ্চলের বিপক্ষে দক্ষিণাঞ্চলের সদস্যরূপে মনোনীত হন। ব্যাটিং উপযোগী পিচের প্রথম দিনেই তিনি ৯/৫৫ পান। আবিদ আলী, আব্বাস আলী বেগ ও এমএল জয়সীমা’র ন্যায় তারকা খেলোয়াড়সমৃদ্ধ দলের বিপক্ষে তাঁর এ পরিসংখ্যানটি অদ্যাবধি সেরার আসন ধরে রেখেছে।
১৯৫৩ থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করলেও ১৯৫৮-৫৯ মৌসুম থেকে ১৯৭২-৭৩ মৌসুম পর্যন্ত বোম্বে দলের অবিরাম শিরোপা লাভের বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করেন। ১৯৬১-৬২ মৌসুমে ফিরোজ শাহ কোটলায় অনুষ্ঠিত সেমি-ফাইনালে একাধারে বোলিং করে ৮/১১১ পান ও দলের বিজয়ে ভূমিকা রাখেন। এরপর, রাজস্থানের বিপক্ষে ৬/৬১ লাভ করেছিলেন। পরের মৌসুমে প্রথম আট ইনিংসের সাতটিতেই পাঁচ-উইকেট পেয়েছিলেন। দুই মৌসুম পর ইরানী ট্রফিতে ৮/৪৮ নিয়ে বোম্বের বিপক্ষে জয় এনে দেন।
এছাড়াও, ১৯৫০-এর দশকের শেষদিকের দুই মৌসুম বাংলা ও এক মৌসুম রেলওয়েের পক্ষে খেলেছেন। তবে, খেলায় ছন্দহীনতায় ভুগেন। তবে, ১৯৫৫-৫৬ মৌসুম থেকে ১৯৬৪-৬৫ মৌসুম পর্যন্ত দশ মৌসুমের নয়টিতে ত্রিশের কম গড়ে উইকেট পেয়েছেন। তন্মধ্যে, শেষ চার মৌসুমে ২০.৫২ গড়ে ৪৪, ১৯.১৮ গড়ে ৭৬, ২৮.৭০ গড়ে ৬০ ও ২২.৬৩ গড়ে ৪৭ উইকেট পেয়েছেন। অর্থাৎ চার মৌসুমে ২২৭ উইকেট দখল করেছিলেন। ক্রমাগত বোলিং করে গেছেন। দূর্দান্ত ক্রীড়া নৈপুণ্য প্রদর্শনের কারণে ১৯৬০-এর দশকে রঞ্জী ট্রফিতে অবিসংবাদিত বীরে পরিণত হন।
ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ায় কাজ করতেন। সেখানে তিনি বিষেন বেদী ও দিওয়াদকরের সাথে একত্রে খেলতেন। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর ৫ জুলাই, ২০০৫ তারিখে মুম্বইয়ে ৭০ বছর ৩০৯ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।
