| |

আর্থার শ্রিউসবারি

১১ এপ্রিল, ১৮৫৬ তারিখে নটিংহ্যামশায়ারের নিউ লেন্টন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ও পেশাদার ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে বোলিং করতেন। ইংল্যান্ড দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন।

নটিংহামভিত্তিক পিপলস কলেজে অধ্যয়ন করেছেন। ১১ বছর বয়সে কলেজ বনাম হাই পেভম্যান্ট স্কুলের মধ্যকার ক্রিকেট খেলায় প্রথমবারের মতো অংশ নেন। ১৫ বছর বয়সে মিডো উইলো সিসিতে যোগ দেন। এরপর, নটিংহাম কমার্শিয়াল সিসি’র পক্ষে খেলে আরও জনপ্রিয়তা পান। এ পর্যায়ে তিনি নটিংহ্যামশায়ার কাউন্টি কমিটির দৃষ্টিগোচরে পড়েন। ১৪ এপ্রিল, ১৮৭৩ তারিখে ট্রেন্ট ব্রিজে কোল্টস দ্বাবিংশতিতম বনাম কাউন্টি একাদশের মধ্যকার খেলায় অংশ নেন। ৩৫ রানের নিখুঁত ইনিংস খেলে কোল্টের পক্ষে সেরা ইনিংস খেলা প্রাইজ ব্যাট লাভ করেন। এরফলে, লর্ডসে ইংল্যান্ড পঞ্চদশ কোল্টসের সদস্যরূপে এমসিসি’র বিপক্ষে খেলার সুযোগ পান। ঐ খেলায় ‘কেবলমাত্র বালক হিসেবে আলফ্রেড শ’ ও উটনের সাথে স্বীয় দক্ষতার বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে সচেষ্ট হন।’

ভিক্টোরীয় স্বর্ণযুগের শেষদিকে অন্যতম খেলোয়াড় ছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে নটিংহ্যামশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। দলের তারকা খেলোয়াড়ের মর্যাদা পেয়েছিলেন। প্রথম-শ্রেণীর খেলায় নটিংহ্যামশায়ারের ১৪২তম খেলোয়াড় হিসেবে যুক্ত হন। ১৮৭৫ থেকে ১৯০২ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন।

১৮৮১ থেকে ১৮৯৩ সাল পর্যন্ত ইংল্যান্ডের পক্ষে সব মিলিয়ে ২৩ টেস্টে অংশগ্রহণ করেছিলেন। ১৮৮১-৮২ মৌসুমে আলফ্রেড শ’য়ের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া সফরে যান। ৩১ ডিসেম্বর, ১৮৮১ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। টেড পিট, ডিক পিলিং, ডিক বার্লো, বিলি বেটসউইলিয়াম স্কটনের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ১১ ও ১৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ফলাফলবিহীন অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

১৮৮৪-৮৫ মৌসুমে এমসিসি দলকে নেতৃত্ব দিয়ে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ১২ ডিসেম্বর, ১৮৮৪ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে খেলায় তিনি ব্যাটিংয়ে নেমে ০ ও ২৬* রান সংগ্রহসহ তিনটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। স্বাগতিকরা ৮ উইকেটে পরাজিত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

একই সফরের ২১ মার্চ, ১৮৮৫ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ঘটনাবহুল এ টেস্টে প্রথম ইংরেজ অধিনায়ক হিসেবে শতক হাঁকানোর গৌরব অর্জন করেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে ১০৫* রান সংগ্রহ করেন। স্বাগতিকরা ইনিংসে ও ৯৮ রানে পরাভূত হলে ৩-২ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

১৮৮৬-৮৭ মৌসুমে দলকে নেতৃত্ব দিয়ে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ২৮ জানুয়ারি, ১৮৮৭ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ২ ও ২৯ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে জে.জে. ফেরিসের শিকারে পরিণত হন। এছাড়াও, তিনটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। সফরকারী দল নাটকীয়ভাবে ১৩ রানে জয় পেয়ে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

১৮৯৩ সালে নিজ দেশে জ্যাক ব্ল্যাকহামের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে টেস্টে সহস্র রান সংগ্রহের মাইলফলক স্পর্শ করেন। অ্যাশেজ সিরিজ চলাকালে তিনি এ কৃতিত্বের অধিকারী হন। ১৭ জুলাই, ১৮৯৩ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ১০৬ ও ৮১ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। ঘটনাবহুল এ টেস্টে ইংল্যান্ডের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে তিনটি শতক হাঁকানোর কৃতিত্বের অধিকারী হন। এছাড়াও, ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে এক হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ফলাফলবিহীন অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

একই সফরের ২৪ আগস্ট, ১৮৯৩ তারিখে ম্যানচেস্টারের ওল্ড ট্রাফোর্ডে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১২ ও ১৯* রান সংগ্রহসহ ১ ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

টেস্টগুলো থেকে ৩৫.৪৭ গড়ে ১২৭৭ রান তুলেছেন। একবার ডব্লিউ জি গ্রেসকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি মন্তব্য করেন যে, ব্যাটিং সঙ্গী হিসেবে তিনি আর্থারকে চাইবেন। এ বক্তব্যটি পিটার ওয়েন টমাস তাঁর ‘আর্থার শ্রিউসবারি’ শিরোনামীয় আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থের শিরোনামে ব্যবহার করেছেন।

১৮৮৮ সালে অস্ট্রালেশিয়া সফরে ব্রিটিশ আইলস রাগবি দলের প্রথম সফরের আয়োজন করেন। ১৮৮০-এর দশকের শেষদিকে উত্তর আমেরিকা সফরে যান। স্বীয় বন্ধু আলফ্রেড শ’কে সাথে নিয়ে ‘শ’ এন্ড শ্রিউসবারি’ নামীয় ক্রীড়া সরঞ্জামাদির প্রতিষ্ঠান খুলেন। ১৮৯০ সালে উইজডেন কর্তৃক অন্যতম বর্ষসেরা ক্রিকেটারের সম্মাননাপ্রাপ্ত হন। আর্থিক অস্বচ্ছলতায় মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। ১৯ মে, ১৯০৩ তারিখে নটিংহ্যামশায়ারের গেডলিং এলাকায় স্বীয় ভগ্নীর গৃহে ৪৭ বছর ৩৮ দিন বয়সে গুলিতে আত্মহত্যা করেন। গেডলিং পারিশ চার্চের সমাধিক্ষেত্রে তাঁকে সমাহিত করা হয়। মৃত্যু পরবর্তীকালে ১৪ জুলাই, ১৯০৩ তারিখে £৭,১৪৯ পাউন্ড-স্টার্লিং মূল্যমানের সম্পদ রেখে যান। ১৮৭৫ সাল থেকে মৃত্যুকালীন নটিংহ্যামশায়ারের প্রত্যেক খেলায় অংশ নিতেন। এছাড়াও, খেলোয়াড়ী জীবনের শেষদিকে এপ্রিলে বিভিন্ন কাউন্টি মাঠে প্রশিক্ষকের ভূমিকা অবতীর্ণ হতেন। তাঁর জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা উইলিয়াম ও ভ্রাতৃষ্পুত্র আর্থার – নটিংহ্যামশায়ারের পক্ষে খেলেছে।

Similar Posts

  • | | |

    কিথ অ্যান্ড্রু

    ১৫ ডিসেম্বর, ১৯২৯ তারিখে ল্যাঙ্কাশায়ারের ওল্ডহামের গ্রীনাক্রেস এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, কোচ ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালন করতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি লেগ-ব্রেক বোলিংয়েও দক্ষ ছিলেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৫২ থেকে ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত ১৪ বছরব্যাপী প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ঘরোয়া আসরের কাউন্টি ক্রিকেটে নর্দাম্পটনশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। উইকেট-রক্ষণের দায়িত্ব পালনের…

  • |

    জিম ক্রিস্টি

    ১২ ডিসেম্বর, ১৯০৪ তারিখে ট্রান্সভালের প্রিটোরিয়ায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম বোলিং করতেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। বেশ দীর্ঘকায় ও শক্ত-মজবুত গড়নের অধিকারী ছিলেন। জেপ হাই স্কুলে অধ্যয়ন করতেন। ইনিংস উদ্বোধনে নামতেন ও ফাস্ট বোলিংয়ের বিপক্ষে রুখে দাঁড়াতেন। সময়ের সাথে সাথে…

  • | |

    অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজ

    ২ জুন, ১৯৮৭ তারিখে কলম্বোয় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী। শ্রীলঙ্কার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। এছাড়াও, শ্রীলঙ্কা দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। কলম্বোভিত্তিক সেন্ট যোসেফস কলেজে অধ্যয়ন করেছেন। ২০০৬-০৭ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটে কোল্টস ক্রিকেট…

  • | |

    হ্যারি বাট

    ২৭ ডিসেম্বর, ১৮৬৫ তারিখে মিডলসেক্সের স্যান্ডস এন্ড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও আম্পায়ার ছিলেন। দলে মূলতঃ উইকেট-রক্ষক হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও, ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ১৮৯০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছিলেন। ছোটখাটো গড়নের অধিকারী হলেও পদচারণা ব্যতিব্যস্ত থাকতেন। স্ট্যাম্পিংয়ের চেয়ে গ্লাভসবন্দীকরণেই অধিক সফলতার স্বাক্ষর রাখেন। ভীতিহীন চিত্তে খেলায় অংশ নিতেন। ১৮৯০ থেকে ১৯১২ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী…

  • | | | |

    বান্দুলা বর্ণাপুরা

    ১ মার্চ, ১৯৫৩ তারিখে রাম্বুক্কানায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, প্রশাসক ও রেফারি ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, কার্যকর মিডিয়াম-পেস বোলার ছিলেন। শ্রীলঙ্কা দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ১৯৭০-৭১ মৌসুম থেকে ১৯৮২-৮৩ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেন। ১৯৭৫ থেকে ১৯৮২ সময়কালে শ্রীলঙ্কার পক্ষে চারটিমাত্র টেস্ট ও ১২টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ইংল্যান্ডে…

  • | |

    মমিনুল হক

    ২৯ সেপ্টেম্বর, ১৯৯১ তারিখে কক্সবাজারে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছেন। আকর্ষণীয় ভঙ্গীমায় বামহাতে ব্যাটিং করেন। এছাড়াও, মাঝে-মধ্যে কার্যকর বামহাতি স্পিনার হিসেবে আবির্ভূত হন। বাংলাদেশের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সকল স্তরে অংশ নিয়েছেন। পাশাপাশি, বাংলাদেশ দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। খর্বাকায় ৫ ফুট ৩ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী। ‘সৌরভ’ ডাকনামে পরিচিত মমিনুল হক মুমিনুল…