১৯ সেপ্টেম্বর, ১৯৫৩ তারিখে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার পার্থে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, ধারাভাষ্যকার ও কোচ। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৭০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
১৯৭৪-৭৫ মৌসুম থেকে ১৯৮৪-৮৫ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। বোলার হিসেবে বিতর্কিত হলেও কোচ হিসেবে যথেষ্ট সফল ছিলেন। সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনেই তাঁর বোলিং বেশ সন্দেহজনক ছিল। এ পর্যায়ে অস্ট্রেলীয় ধনকুবের ক্যারি প্যাকারের ব্যবস্থাপনায় বিশ্ব সিরিজ ক্রিকেটের শুরুরদিকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে খেলার সুযোগ পান।
১৯৭৭ থেকে ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত সময়কালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সর্বমোট ১০ টেস্ট ও দুইটিমাত্র ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৭৭-৭৮ মৌসুমে নিজ দেশে বিষেন বেদী’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ২ ডিসেম্বর, ১৯৭৭ তারিখে ব্রিসবেনে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ডেভিড অগিলভি, টনি মান, পল হিবার্ট, পিটার টুহি ও স্টিভ রিক্সনের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ৪/৪৬ ও ৪/১০১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ৪ ও ১২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। স্বাগতিকরা ১৬ রানের ব্যবধানে নাটকীয় জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
এরপর, ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭৭ তারিখে পার্থে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১৫ ও ৫* রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ২/৯৫ ও ২/৮৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ২ উইকেটে জয়লাভ করে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
একই সফরের ২৮ জানুয়ারি, ১৯৭৮ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ০ ও ১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৪/৬২ ও ২/৭৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। স্বাগতিকরা ৪৭ রানে বিজয়ী হলে ৩-২ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।
একই মৌসুমে বব সিম্পসনের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে যান। ১৭ মার্চ, ১৯৭৮ তারিখে ব্রিজটাউনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে উভয় ইনিংসে জোয়েল গার্নারের বলে শূন্য রানে বিদেয় নিতে বাধ্য হন। পাশাপাশি, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ২/৭৭ ও ০/২৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। স্বাগতিকরা ৯ উইকেটে জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
১৯৭৮-৭৯ মৌসুমে নিজ দেশে মুশতাক মোহাম্মদের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের মুখোমুখি হন। ১০ মার্চ, ১৯৭৯ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৯ ও ০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৫৬ ও ০/৪৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। সফরকারীরা ৭১ রানে জয় পেলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে অংশগ্রহণ ছিল।
টেস্টগুলোয় ২৮.৭৫ গড়ে ৪৪ উইকেট দখল করেছিলেন। তবে, কোন ইনিংস থেকে পাঁচ-উইকেটের সন্ধান পাননি। তবে, সাতবার চার-উইকেট পেয়েছেন। তন্মধ্যে, ১৯৭৭-৭৮ মৌসুমে ভারতের বিপক্ষে পাঁচবার ও ঐ মৌসুমের শেষদিকে জর্জটাউন টেস্টে স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে উভয় ইনিংসে এ সাফল্য পান। ১৯৭৭-৭৮ মৌসুমে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে একবার বল ছোঁড়ার দায়ে অভিযুক্ত হন।
১৯৮৪-৮৫ মৌসুম পর্যন্ত ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার পেস আক্রমণ কার্য পরিচালনা করেছিলেন। ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর কোচিং জগতের দিকে ধাবিত হন। মাঝে-মধ্যে টেলিভিশনে ধারাভাষ্যকারের দায়িত্ব পালন করেন। ২০০১ সালের কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশীপের শিরোপা বিজয়ী ইয়র্কশায়ার দলের কোচ হিসেবে ১৯৬৮ সালের পর প্রথম শিরোপা বিজয়ে ভূমিকা রাখেন। ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার কোচ হিসেবে দশ বছর দায়িত্ব পালন করেন। অতঃপর, ১৬ জানুয়ারি, ২০০৭ তারিখে তাঁকে এ মৌসুম শেষে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দানের কথা ঘোষণা করা হয়।
ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত। এমডব্লিউ ক্লার্ক নামীয় সন্তানের জনক।
