| |

মিকি স্টুয়ার্ট

১৬ সেপ্টেম্বর, ১৯৩২ তারিখে লন্ডনের হার্ন হিল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ও পেশাদার ক্রিকেটার এবং প্রশাসক। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৬০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

ইনিংস উদ্বোধনে সাহসী ভঙ্গীমায় অগ্রসর হতেন। এছাড়াও, শর্ট-লেগ অঞ্চলে ফিল্ডিং করে বিরাট সাফল্যের পরিচয় দিয়েছেন। বিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালীন তাঁর ক্রিকেটীয় প্রতিভার বিচ্ছুরণ ঘটে। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে সারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৫৪ থেকে ১৯৭২ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। কেন্টের খেলোয়াড় হবার দোড়গোড়ায় ছিলেন। জাতীয় সেবা দায়িত্ব পালন শেষে সারের দাবী না থাকার বিষয়টি জড়িত থাকলে সারে কর্তৃপক্ষের সাথে চুক্তিবদ্ধ হন। পরের বছর ১৯৫৪ সালে সফররত পাকিস্তানী একাদশের বিপক্ষে নিজস্ব দ্বিতীয় খেলায় ১০৯ রানের মনোজ্ঞ ইনিংস খেলেন। এক পর্যায়ে সারে দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন।

৭ জুন, ১৯৫৭ তারিখে নর্দাম্পটনে অনুষ্ঠিত নর্দাম্পটনশায়ারের বিপক্ষে দূর্দান্ত ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করেন। ফিল্ডারের দায়িত্ব পালনকালে এক ইনিংসে সাত ক্যাচ তালুবন্দী করে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে বিশ্বরেকর্ড গড়েন।

১৯৬২ থেকে ১৯৬৪ সাল পর্যন্ত সব মিলিয়ে ইংল্যান্ডের পক্ষে আটটিমাত্র টেস্টে অংশ নেয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯৬২ সালে নিজ দেশে ইমতিয়াজ আহমেদের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের মুখোমুখি হন। ২১ জুন, ১৯৬২ তারিখে লর্ডস মাঠে অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। লেন কোল্ডওয়েলের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ৩৯ ও ৩৪* রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। ঐ খেলায় স্বাগতিক দল দুই দিন বাকী থাকতেই সহজ জয় পায়। ৯ উইকেটে জয়লাভ করলে সফরকারীরা তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।

১৯৬৩-৬৪ মৌসুমে মাইক স্মিথের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সাথে ভারত গমন করেন। ১০ জানুয়ারি, ১৯৬৪ তারিখে মাদ্রাজে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ১৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

এরপর, ২১ জানুয়ারি, ১৯৬৪ তারিখে ব্রাবোর্নে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি দলের প্রথম ইনিংসে আঘাতের কারণে ব্যাট হাতে নিয়ে মাঠে নামতে পারেননি। এছাড়াও, দ্বিতীয় ইনিংসে তাঁকে মাঠে নামতে হয়নি। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে অংশগ্রহণ ছিল।

ক্রিকেটের পাশাপাশি ফুটবল খেলায়ও সিদ্ধহস্তের অধিকারী ছিলেন। উইম্বলেডন, হেন্ডন ও করিন্থিয়ান্স ক্যাজুয়ালসের পক্ষে শৌখিন এবং চার্লটন অ্যাথলেটিকের সাথে পেশাদারী পর্যায়ে খেলতেন। ১৯৫৬ সালে অ্যামেচার ইন্টারন্যাশনাল প্রতিযোগিতায় ইংল্যান্ডের সদস্যরূপে ফ্রান্সের বিপক্ষে ইনসাইড-ফরোয়ার্ড অবস্থানে খেলেন। সাধারণমানের ক্রীড়াশৈলী ও আঘাত থেকে দূরে থাকায় উভয় ধরনের খেলায় অংশ নিতে পেরেছিলেন। ১৯৫৭ সালে ক্রিকেট রাইটার্স দুই-তৃতীয়াংশ ভোট দিয়ে তাঁকে বর্ষসেরা তরুণ খেলোয়াড় হিসেবে ঘোষণা করে।

ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর প্রশাসনের দিকে ঝুঁকে পড়েন। ব্যবস্থাপক হিসেবে ওভালভিত্তিক সারে দলে ফিরে আসেন। এরপর, ইংল্যান্ড দলের ব্যবস্থাপক হিসেবে মনোনীত হন। এছাড়াও, অবসর গ্রহণের পর নৈশভোজন পরবর্তী বক্তার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন।

১৯৫৮ সালে উইজডেন কর্তৃক অন্যতম বর্ষসেরা ক্রিকেটারের সম্মাননাপ্রাপ্ত হন। ২০১২ সালে তাঁকে ঘিরে স্টিফেন চক ‘মিকি স্টুয়ার্ট এন্ড দ্য চ্যাঞ্জিং ফেস অব ক্রিকেট’ নামীয় গ্রন্থ প্রকাশ করেন। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত তিনি। তাঁর সন্তান অ্যালেক স্টুয়ার্ট ইংল্যান্ড দলের পক্ষে খেলেছে।

সম্পৃক্ত পোস্ট