১০ ডিসেম্বর, ১৯৪১ তারিখে ওয়েলসের ডাফেন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে তিনি ভূমিকা পালন করতেন। বামহাতে ফাস্ট বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিং করতেন। ১৯৬০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে গ্ল্যামারগনের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৬০ থেকে ১৯৬৮ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। পিতা জেফ জোন্সের পদাঙ্ক অনুসরণে ক্রিকেট জগতে প্রবেশ করেন। ক্লাব ও কিশোরদের ক্রিকেটে অংশগ্রহণের এক পর্যায়ে গ্ল্যামারগনের সদস্য হন। ১৯৬০ সালে বামহাতে দ্রুতগতির বোলার হিসেবে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে তাঁর অভিষেক ঘটে। ব্ল্যাকহিদে অনুষ্ঠিত ঐ খেলায় প্রতিপক্ষ ছিল কেন্ট দল।
১৯৬২ সালে দলের নতুন বল নিয়ে বোলিং আক্রমণ পরিচালনা করার সুযোগ পান। তাঁর সম্ভাবনাময় খেলা প্রদর্শনে সচেষ্ট হন। হ্যারোগেটে ইয়র্কশায়ারের বিপক্ষে হ্যাট্রিক করেন। সুন্দর ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনের সুবাদে ইংল্যান্ড দল নির্বাচকমণ্ডলীর দৃষ্টি আকর্ষণে সক্ষম হন। ১৯৬৫ সালে অন্যতম আটোসাঁটো বোলিং করেন। গ্রেস রোডে অনুষ্ঠিত খেলায় ১৩-৯-১১-৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ঐ মৌসুম শেষে কাউন্টি ক্যাপ লাভের অধিকারী হন।
১৯৬৪ থেকে ১৯৬৮ সময়কালে সব মিলিয়ে ইংল্যান্ডের পক্ষে ১৫ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৬৩-৬৪ মৌসুমে মাইক স্মিথের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে পূর্ব আফ্রিকা ও ভারত সফরে অংশ নেন। ২১ জানুয়ারি, ১৯৬৪ তারিখে বোম্বের ব্রাবোর্নে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট খেলেন। জিমি বিঙ্কস ও জন প্রাইসের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। তবে, তখনও তিনি গ্ল্যামারগন দলের পক্ষে ক্যাপ লাভের অধিকারীত্ব অর্জন করেননি। খেলায় তিনি একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৪৮ ও ০/৩১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
১৯৬৫-৬৬ মৌসুমে মাইক স্মিথের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সাথে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড সফরের জন্যে মনোনীত হন। শক্ত ও পেস উপযোগী পিচে নিজেকে মেলে ধরতে সোচ্চার হন। পার্থে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলায় ৯৮ রান খরচায় ৭ উইকেট পান। এরফলে, সিরিজের বাদ-বাকী খেলাগুলোয় অংশ নেন।
২৮ জানুয়ারি, ১৯৬৬ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ৬/১১৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ০* ও ৮ রান সংগ্রহ করেছিলেন। স্বাগতিকরা ইনিংস ও ৯ রানে জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে সমতা আনয়ণে সক্ষম হয়।
এরপর, ১১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৬ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৪* রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৩/১৪৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ‘বব কাউপারের টেস্ট’ নামে পরিচিত খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সিরিজটি ১-১ ব্যবধানে শেষ হয়।
একই মৌসুমে মাইক স্মিথের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ড সফরে যান। ২৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৬ তারিখে ক্রাইস্টচার্চে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে গ্যারি বার্টলেটের বলে শূন্য রানে বিদেয় নিয়েছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৪/৭১ ও ০/১৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
১৯৬৬ সালে নিজ দেশে গ্যারি সোবার্সের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। সিরিজের প্রথম দুই টেস্ট খেলেন। ২ জুন, ১৯৬৬ তারিখে ম্যানচেস্টারের ওল্ড ট্রাফোর্ডে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ০/১০০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, উভয় ইনিংসে শূন্য রানে অপরাজিত ছিলেন। সফরকারীরা ইনিংস ও ৪০ রানে জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
এরপর, ১৬ জুন, ১৯৬৬ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাট হাতে নিয়ে শূন্য রানে অপরাজিত অবস্থায় মাঠ ত্যাগ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৬৪ ও ০/৯৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পূর্বের টেস্ট জয়ের সুবাদে সফরকারীরা এগিয়ে যায়।
১৯৬৭ সালে গ্ল্যামারগনের পক্ষে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ১০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন। ঐ মৌসুমের শীতকালে এমসিসি দলের সাথে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে যান। কিংস্টনের দ্বিতীয় টেস্টটি কুখ্যাতি অর্জন করে। ঐ টেস্টে পাঁচ উইকেট পেয়েছিলেন। তবে, সন্দেহাতীতভাবে গায়ানার জর্জটাউনের চূড়ান্ত টেস্টে নিজের স্বর্ণালী মুহূর্ত অতিবাহিত করেছিলেন। ব্যাটসম্যান হিসেবে সুবিধের পাত্র না হলেও ল্যান্স গিবসের চূড়ান্ত ওভারটি সফলতার সাথে মোকাবেলা করে ইংল্যান্ড দলের সিরিজ বিজয় নিশ্চিত করেছিলেন।
১৯৬৮ সালে নিজের স্বর্ণালী সময়ে কনুইয়ে গুরুতর আঘাতের কারণে তাঁর খেলোয়াড়ী জীবন থেমে যেতে বাধ্য হয়। ১৯৬৭-৬৮ মৌসুমে কলিন কাউড্রে’র নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের অন্যতম সদস্যরূপে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে যান। ২৮ মার্চ, ১৯৬৮ তারিখে জর্জটাউনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ১/১১৪ ও ১/৮১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, উভয় ইনিংসেই শূন্য রানে অপরাজিত ছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
২০০৬ সালে উইজডেন কর্তৃক অন্যতম বর্ষসেরা ক্রিকেটারের সম্মাননাপ্রাপ্ত হন। পিতা জেফ জোন্স তাঁকে এ পুরস্কার দেন। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। এসপি জোন্স নামীয় সন্তান রয়েছে।
