৪ মে, ১৯৫৭ তারিখে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার পেনোলা এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। লেগ-ব্রেক গুগলি বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
‘সোন্ডা’ ডাকনামে ভূষিত হয়েছিলেন। ১৯৭৬ থেকে ১৯৯৪ পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। রিশটন দলের অধিনায়কের দায়িত্বে ছিলেন।
১৯৭৯ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত সময়কালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সর্বমোট ১৪ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৭৯ সালের বিশ্ব সিরিজ ক্রিকেটের বিরূপ প্রভাবকালীন টেস্ট অংশগ্রহণের সুযোগ পান। ১৯৭৮-৭৯ মৌসুমে নিজ দেশে মুশতাক মোহাম্মদের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের মুখোমুখি হন। ২২ বছর বয়সে ১০ মার্চ, ১৯৭৯ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ডেভ হোয়াটমোরের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ১/১৬ ও ১/৬২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ১০ ও ০ রান সংগ্রহ করেন। সফরকারীরা ৭১ রানে জয় পেলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
কয়েকটি খেলায় অংশ নেয়ার পর প্রথমে মাঠের বাইরে ও পরবর্তীতে ১৯৮৬-৮৭ মৌসুমের পূর্ব-পর্যন্ত বেশ কয়েক বছর দল থেকে বাদ পড়েন। এ মৌসুমেই প্রথমবারের মতো টেস্টে পাঁচ-উইকেটের সন্ধান পান। এরফলে অ্যাশেজ টেস্ট জয়ের পথ সুগম হয়। সিডনিতে দ্বিতীয় ইনিংসে এ সফলতা পান।
১৯৮৬-৮৭ মৌসুমে নিজ দেশে মাইক গ্যাটিংয়ের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের মুখোমুখি হন। ১২ ডিসেম্বর, ১৯৮৬ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। তবে, খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নামার সুযোগ পাননি। তবে, ৪/১৩২ ও ০/০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। দলীয় অধিনায়ক অ্যালান বর্ডারের ব্যাটিং দৃঢ়তায় খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলেও পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটিতে সফরকারীরা ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
একই সফরের ১০ জানুয়ারি, ১৯৮৭ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ০/৪৭ ও ৫/৭২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ৯ ও ১০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ৫৫ রানে জয় পেলেও স্বাগতিকরা ২-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
১৯৮৯-৯০ মৌসুমে নিজ দেশে ইমরান খানের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের মুখোমুখি হন। ১২ জানুয়ারি, ১৯৯০ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ১/৬ ও ১/৬৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ২৩ ও ০ রান সংগ্রহ করে ওয়াসিম আকরামের বলে বিদেয় নিয়েছিলেন। ওয়াসিম আকরামের অসাধারণ বোলিং সত্ত্বেও স্বাগতিকরা ৯২ রানে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
এরপর, আর তাঁকে জাতীয় দলে রাখা হয়নি। স্বীয় নামের পার্শ্বে তিনটি অর্ধ-শতরান লিপিবদ্ধ করেছেন। শেন ওয়ার্নের আবির্ভাবের পূর্ব-পর্যন্ত অনেকগুলো বছর ঘূর্ণায়মান পদ্ধতিতে দলে ধীরগতির বোলারের চাহিদা তিনি অনেকাংশেই মিটিয়েছিলেন। তবে, টেস্ট পর্যায়ে খুব কমই সফলতার স্বাক্ষর রাখেন। প্রতি ৯৬ বলে উইকেটের সন্ধান পেতেন। বেশ কয়েকবার বিদেশ সফরে গেলেও কেবলমাত্র প্রস্তুতিমূলক খেলার মাঝেই তাঁর অংশগ্রহণ সীমাবদ্ধ ছিল।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে প্রত্যাখ্যাত হলেও ঘরোয়া আসরে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছিলেন। ১৯৭৯ সালে ল্যাঙ্কাশায়ার লীগে ইস্ট ল্যাঙ্কাশায়ারের পক্ষে পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে ইংরেজ ক্রিকেটের স্বাদ আস্বাদন করেন। ১৯৯১ সালে ল্যাঙ্কাশায়ার লীগের ব্যাটিং রেকর্ড ভঙ্গ করেন। ১৬২১ রান তুলে ৪০ বছর পূর্বেকার এভারটন উইকসের রেকর্ড ম্লান করে দেন। এরপর, ১৯৯৫ সালে ব্ল্যাকবার্ন রোডে চলে যান। পরিবর্তিত খেলোয়াড় ফিল সিমন্সকে সাথে নিয়ে ১৯৫০-এর দশকের পর রিশটনকে প্রথমবারের মতো লীগের শিরোপা এনে দেন। ১৯৯৮ সালে ল্যাঙ্কাশায়ারের দ্বিতীয় একাদশের অধিনায়ক ও কোচের যৌথ দায়িত্ব পালন করেছিলেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে তিন শতাধিক উইকেট লাভ করেছিলেন।
ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর কোচের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। ল্যাঙ্কাশায়ার দ্বিতীয় একাদশের অধিনায়ক ও কোচের যৌথ দায়িত্ব পালনে অগ্রসর হন। ১০ মে, ২০১৮ তারিখে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট কর্তৃপক্ষ স্বল্প মেয়াদে বোলিং পরামর্শক হিসেবে তাঁকে মনোনীত করে। ল্যাঙ্কাশায়ারে অবস্থানকালে ‘দি উইকেটস’ নামীয় রেস্তোঁরা পরিচালনায় অগ্রসর হন।
