১৯ জুন, ১৯৯২ তারিখে ট্রান্সভালের জোহানেসবার্গে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলছেন। বামহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিং করে থাকেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ অবস্থায় ইনিংস উদ্বোধনে নামতেন। ৬ ফুট ৬ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী। দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার রে জেনিংসের সন্তান তিনি। ডারহামের পক্ষে যুব ক্রিকেট ও দ্বিতীয় একাদশে খেলেন। সান্ডারল্যান্ড বংশোদ্ভূত মাতার সুবাদে বিদেশীবিহীন খেলোয়াড় হিসেবে ইংল্যান্ডের মাটিতে খেলার সুযোগ পান। এরফলে, নর্থ ইস্ট কাউন্টি দলটির পক্ষে স্থায়ীভাবে যোগ দেন।
ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ডারহাম ও ল্যাঙ্কাশায়ার এবং দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে গটেংয়ের প্রতিনিধিত্ব করছেন। ২০১১ সাল থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রেখেছেন। ১৫ ডিসেম্বর, ২০১১ তারিখে জোহানেসবার্গে গটেংয়ের সদস্যরূপে ফ্রি স্টেটের বিপক্ষে অভিষেক ঘটে তাঁর। ডারহামে যোগদানের পর কাউন্টি ক্রিকেটের অন্যতম বিশ্বস্ত উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানে পরিণত হন। দৃশ্যতঃ এরপর থেকেই রেড রোজদের ব্যাটিং অবস্থানের শীর্ষে পৌঁছেন।
দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ অবস্থায় ব্যাটিং উদ্বোধন কর্মে মনোনিবেশ ঘটিয়ে থাকেন। ২০১৩ সালের কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশীপের শিরোপা বিজয়ী দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন। ২০১৪ সালে ওরচেস্টারে অনুষ্ঠিত খেলায় ওরচেস্টারশায়ারের বিপক্ষে প্রথম টি২০ খেলেন। ২০১৬ সালে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশীপে বর্ষসেরা খেলোয়াড় হিসেবে নিজের আগমনের কথা জানান। ঐ মৌসুমে ডারহামের পক্ষে সাত শতক সহযোগে ৬৪.৫০ গড়ে ১৫৪৮ রান তুলেছিলেন। তন্মধ্যে, ইয়র্কশায়ারের বিপক্ষে একটি দ্বি-শতরানের ইনিংস খেলেন।
ঐ বছরই টি২০ ক্রিকেটে ডারহামকে প্রথমবারের মতো চূড়ান্ত খেলায় নিয়ে যান। নর্দান্টস স্টিলব্যাকসদের বিপক্ষে ফাইনালস ডেতে ৮৮ রানের সর্বোচ্চ ইনিংস খেলেন। হাসিব হামিদের আঘাতের কারণে ঐ মৌসুমের শীতকালে ভারত গমনার্থে তাঁকে ইংল্যান্ড দলে খেলার জন্যে আমন্ত্রণ জানানো হয়।
২০১৭ সালের শীতকালে এমিরেটস ওল্ড ট্রাফোর্ডে ল্যাঙ্কাশায়ারের সাথে চার বছরের চুক্তিতে আবদ্ধ হন। এরপর থেকে দলের প্রধান কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হন।
২০১৬ সাল থেকে ইংল্যান্ডের পক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অংশ নিচ্ছেন। ২০১৬-১৭ মৌসুমে অ্যালাস্টার কুকের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের সদস্যরূপে ভারত সফর করেন। ডিসেম্বর, ২০১৬ সালে ইংল্যান্ডের টেস্ট দলের সদস্যরূপে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬ তারিখে মুম্বইয়ে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ২০১২ সালে অ্যান্ড্রু স্ট্রসের বিদেয় নেয়ার পর থেকে অ্যালাস্টার কুকের দ্বাদশ উদ্বোধনী সঙ্গী হিসেবে আবির্ভূত হন। তিনিও নিরাশ করেননি। ১১২ রান তুলে অভিষেক টেস্টকে স্মরণীয় করে রাখেন। তবে, দ্বিতীয় ইনিংসে ভুবনেশ্বর কুমারের বলে শূন্য রানে বিদেয় নেন। পাশাপাশি, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। প্রতিপক্ষীয় দলনায়ক বিরাট কোহলি’র অসাধারণ দ্বি-শতকের কল্যাণে সফরকারীরা ইনিংস ও ৩৬ রানে জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। অভিষেকে শতক হাঁকালেও এরপর থেকে রান খরায় ভুগতে থাকেন। পরবর্তী আট ইনিংসের তিনটিতেই শূন্য রানে বিদেয় নিতে বাধ্য হন।
২০১৭ সালে প্রথমবারের মতো নিজ দেশে টেস্ট খেলেন। ঐ বছর ডিন এলগারের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ৬ জুলাই, ২০১৭ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে খেলেন। খেলায় তিনি ৮ ও ৩৩ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। মঈন আলী’র অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়া নৈপুণ্যের কল্যাণে স্বাগতিকরা ২১১ রানে জয়লাভ করলে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
২০১৮ সালে নিজ দেশে বিরাট কোহলি’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ২৩ ও ১০ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, অ্যালাস্টার কুকের অসাধারণ ব্যাটিং দাপটে ১১৮ রানে জয়লাভ করলে স্বাগতিকরা ৪-১ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।
২০১৮-১৯ মৌসুমে জো রুটের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের সাথে শ্রীলঙ্কা গমন করেন। ৬ নভেম্বর, ২০১৮ তারিখে গলেতে অনুষ্ঠিত শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে রঙ্গনা হেরাথের বিদায়ী খেলায় অংশ নেন। ৪৬ ও ১৪৬* রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, বেন ফোকসের অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ২১১ রানে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
একই মৌসুমে জো রুটের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের সদস্যরূপে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে যান। ২৩ জানুয়ারি, ২০১৯ তারিখে ব্রিজটাউনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১৭ ও ১৪ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/২৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, জেসন হোল্ডারের অসাধারণ ক্রীড়া নৈপুণ্যে সফরকারীরা ৩৮১ রানের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
২০১৮-১৯ মৌসুমে জো রুটের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের সদস্যরূপে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে যান। ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ তারিখে গ্রোস আইলেটে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাটিংয়ে নেমে ৮ ও ২৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। মার্ক উডের বোলিং সাফল্যে সফরকারীরা ২৩২ রানে জয়লাভ করলে ২-১ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
