|

মাইকেল কারবেরি

২৯ সেপ্টেম্বর, ১৯৮০ তারিখে সারের ক্রয়ডন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ ইনিংস উদ্বোধনে নামতেন। বামহাতে ব্যাটিংয়ে পারদর্শী তিনি। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করে থাকেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ২০১০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

গায়ানীয় ও বার্বাডীয় বংশোদ্ভূত তিনি। অপূর্ব কৌশল ও মনোসংযোগ ঘটিয়ে অ্যান্ড্রু স্ট্রসের অবসর গ্রহণের পর খালি থাকা ইনিংস উদ্বোধনের স্থানটি পাকাপোক্ত করেন। ‘কার্বস’ ডাকনামে পরিচিত মাইকেল কারবেরি ৫ ফুট ১১ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী। সেন্ট জন রাগবি কলেজে অধ্যয়ন করেছেন। ২০০১ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে হ্যাম্পশায়ার, কেন্ট, লিচেস্টারশায়ার ও সারে দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, মেরিলেবোন ক্রিকেট ক্লাব, পার্থ স্কর্চার্স ও সারে ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষে খেলেছেন।

সারে দলের পক্ষে কার্বসের খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটে। এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যেই সারে দল ত্যাগ করে কেন্টের দিকে ধাবিত হন। তবে, পরিকল্পনামাফিক সেখানেও তাঁর সুযোগ সীমিত পর্যায়ের ছিল। তাসত্ত্বেও, ২০০৬ মৌসুমে হ্যাম্পশায়ারে শীর্ষে অবস্থান করেন। এরপর থেকে সেখানে অবস্থান করতে থাকেন। তাঁর এ পরিবর্তনটি বেশ ফলপ্রসূ ছিল।

২০০৭ সালে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ১০৬৭ রান পেয়েছিলেন ও প্রথমবারের মতো পঞ্চাশোর্ধ্ব গড়ে পরিণত হয়। তাঁর এ সাফল্যের বিষয়টি দল নির্বাচকমণ্ডলীর অগোচরে ছিল না। পরের বছর ইংল্যান্ড লায়ন্সের সদস্যরূপে ভারত গমনের সুযোগ এনে দেয়। ভারতীয় উপমহাদেশে রানের ফুলঝুড়ি ছোটান। দুইবার তিন অঙ্কের কোটা স্পর্শ করেন। সকল স্তরের খেলায় ব্যাট হাতে সফলতা পান। অবশেষে, অ্যান্ড্রু স্ট্রসের বিশ্রামজনিত কারণে ২০১০ সালের ডিসেম্বরের শুরুতে তাঁকে টেস্ট দলে ঠাঁই দেয়া হয়।

২০১০ থেকে ২০১৪ সময়কালে ইংল্যান্ডের পক্ষে ছয়টিমাত্র টেস্ট, সমসংখ্যক ওডিআই ও একটিমাত্র টি২০আইয়ে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ২০০৯-১০ মৌসুমে অ্যালাস্টার কুকের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের সদস্যরূপে বাংলাদেশ গমন করেন। ১২ মার্চ, ২০১০ তারিখে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। স্টিভেন ফিনের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ৩৪ ও ৩০ রানের ইনিংস খেলেন। এছাড়াও, একটি ক্যাচসহ সমসংখ্যক রান-আউটের সাথে নিজেকে জড়ান। গ্রায়েম সোয়ানের অল-রাউন্ড নৈপুণ্যে স্বাগতিকরা ১৮১ রানে পরাভূত হলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

তবে, অ্যান্ড্রু স্ট্রসের প্রত্যাবর্তনে তাঁকে দলের বাইরে রাখা হয়। এছাড়াও, ফুসফুসের সংক্রামণে আক্রান্ত হলে ইংল্যান্ড পারফরম্যান্স প্রোগ্রামের আওতায় অস্ট্রেলিয়া সফর থেকে বঞ্চিত হন। সৌভাগ্যবশতঃ ২০১১ সালের মাঝামাঝি সময়ে সুস্থ হয়ে উঠেন। ইয়র্কশায়ারের বিপক্ষে ৩০০ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে খেলায় ছন্দ ফিরিয়ে আনেন। নীল ম্যাকেঞ্জিকে সাথে নিয়ে ৫২৩ রানের জুটি গড়ে হ্যাম্পশায়ারের ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ জুটি গড়েন।

২০১৩-১৪ মৌসুমে অ্যালাস্টার কুকের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ২৬ ডিসেম্বর, ২০১৩ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৩৮ ও ১২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, মিচেল জনসনের অসাধারণ বোলিং সাফল্যে ঐ টেস্টে সফরকারীরা ৮ উইকেটে পরাজয়বরণ করলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৪-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।

এরপর, ৩ জানুয়ারি, ২০১৪ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ০ ও ৪৩ রান সংগ্রহ করে উভয় ক্ষেত্রে মিচেল জনসনের শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। এছাড়াও, একটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হয়েছিলেন। স্বাগতিকরা রায়ান হ্যারিসের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়া নৈপুণ্যে ২৮১ রানে জয় পেলে ৫-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

১৭ অক্টোবর, ২০১৮ তারিখে পারস্পরিক সমঝোতায় লিচেস্টারশায়ার দল ত্যাগ করেন। ১১ জুন, ২০২০ তারিখে মন্তব্য করেন যে, ‘ইংরেজ ক্রিকেটে কৃষ্ণাঙ্গদেরকে মূল্যায়িত করা হয় না।’

সম্পৃক্ত পোস্ট