|

রেক্স সেলার্স

২০ আগস্ট, ১৯৪০ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের বালসার এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেব দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। লেগ-ব্রেক গুগলি বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৬০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

দীর্ঘকায় গড়নের অধিকারী। উইলিয়াম আলফ্রেড ও আইরিন এথেল সেলার্স দম্পতির তিনি দ্বিতীয় পুত্র এবং উভয়ে ব্রিটিশ ও ভারতীয় বংশোদ্ভূত। বোম্বের রেলওয়ে কলোনিতে শৈশবকাল অতিবাহিত করেন। পিতা রেলওয়ের সেঁতু পরিদর্শক হিসেবে কাজ করতেন। ভারত বিভাজনের পর ১৯৪৭ সালে অনেক অ্যাংলো-ইন্ডিয়ান পরিবারের ন্যায় তাঁর পরিবারও অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসিত হয়। কিংস কলেজে ভর্তি হন। ক্রিকেট ও টেনিসে পারদর্শী হয়ে উঠেন। পরবর্তীকালে ক্রিকেটের দিকেই অধিক ঝুঁকে পড়েন।

‘সাহিব’ ডাকনামে ভূষিত হন। জিওফ নবলেটের তত্ত্বাবধানে অ্যাডিলেডের কেনসিংটন ক্রিকেট ক্লাবে যোগ দেন। ১৯৫৯ সালে সাউথ অস্ট্রেলিয়া কোল্টসের পক্ষে খেলার জন্যে মনোনীত হন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৫৯-৬০ মৌসুম থেকে ১৯৬৬-৬৭ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। তন্মধ্যে, ১৯৬৩-৬৪ মৌসুমের শেফিল্ড শীল্ডের শিরোপা বিজয়ী সাউথ অস্ট্রেলিয়া দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন। ৪০ বছর পর ৩০ জানুয়ারি, ২০০৪ তারিখে দলের বিজয় উপলক্ষ্যে সদস্যরা মিলিত হন।

ঊনিশতম জন্মদিন উদযাপনের কয়েক মাস পূর্বে নিউ সাউথ ওয়েলসের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অংশ নেন। ১০ ওভারে ২/৪৯ লাভ করেন। ফলো-অনের কবলে পড়লে তাঁর দল ইনিংস ও ৫৮ রানে পরাজিত হয়। তিনি ৮ ও ২৩ রান তুলেছিলেন। ১৯৫৯-৬০ মৌসুমে পার্থে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে নিজস্ব প্রথম অর্ধ-শতক হাঁকান। খেলায় ১১ ও ৫০ রান তুললে আয়োজক দল ১০ উইকেটে জয় পায়। তিনি ১/১১০ লাভ করেছিলেন।

১৯৬৩-৬৪ মৌসুমে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে ৪৮ উইকেট দখল করেন। এ সুবাদে ১৯৬৪ সালের ইংল্যান্ড সফরের জন্যে মনোনীত হন। তবে, এ সফরের শুরুতে আঘাতের কবলে পড়লে সীমিত পর্যায়ে অংশগ্রহণের সুযোগ পান। এছাড়াও, কোন টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পাননি।

১৯৬৪ সালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে একটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯৬৪-৬৫ মৌসুমে বব সিম্পসনের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সাথে ভারত গমন করেন। ১৭ অক্টোবর, ১৯৬৪ তারিখে কলকাতায় অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। এরফলে, অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে প্রতিনিধিত্বকারী প্রথম অ্যাংলো-ভারতীয় ক্রিকেটারের মর্যাদা পান। খেলায় তিনি ০/১৭ লাভ করেন। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে রুসি সুর্তি’র বলে শূন্য রানে বিদেয় নিয়েছিলেন। পাশাপাশি, একটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে ১-১ ব্যবধানে সিরিজটি শেষ হয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে অংশগ্রহণ ছিল।

সম্পৃক্ত পোস্ট