|

রয় সুইটম্যান

২৫ অক্টোবর, ১৯৩৩ তারিখে লন্ডনের ওয়েস্টমিনস্টার এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষণ কর্মে মনোনিবেশ ঘটাতেন। উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ডানহাতে মাঝারিসারিতে নিচেরদিকে কার্যকরী ব্যাটিং ও ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

বালকসূলভ দৃষ্টিভঙ্গীর অধিকারী ছিলেন। সারে লীগে ক্রিকেট খেলতে শুরু করেন। ১৯৫৩ থেকে ১৯৭৪ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে গ্লুচেস্টারশায়ার, নটিংহ্যামশায়ার ও সারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তিনটি কাউন্টিতে খেললেও অধিকাংশই সারে দলের পক্ষে খেলেছেন। ১৯৫৪ সালে সারে ক্লাবে যোগ দেন। ‘জাতীয় সেবা’ চলাকালে আর্থার ম্যাকইন্টায়ারের সহকারী হিসেবে তাঁর কাউন্টি ক্রিকেটে অভিষেক হয়।

মূলতঃ দ্বিতীয় একাদশের পক্ষে ক্রিকেটে অংশগ্রহণকালীন ১৯৫৫-৫৬ মৌসুমে এমসিসি ‘এ’ দলের সদস্যরূপে তৎকালীন টেস্ট মর্যাদাবিহীন পাকিস্তান গমনের জন্যে মনোনীত হন। এ সফরের শুরুরদিকে আম্পায়ার ইদ্রিস বেগের সাথে বাদানুবাদের জের ধরে তিনিসহ কয়েকজনের নেতৃত্বে বিক্ষুদ্ধ হয়ে পড়লে খেলা বানচাল হয়ে পড়ার উপক্রম হয়েছিল।

দুই মৌসুমে ট্রেন্ট ব্রিজে অবস্থান করে ৫৬টি প্রথম-শ্রেণীর খেলা থেকে ১০৭টি ক্যাচ ও তিনটি স্ট্যাম্পিং করেছিলেন। এছাড়াও, এক শতক সহযোগে ১৯.৯৩ গড়ে ১৪৭৫ রান তুলেছিলেন। তন্মধ্যে, এসেক্সের বিপক্ষে ১১৫ রান তুলেছিলেন। ঐ সময়ে খুব কমই লিস্ট-এ খেলার আয়োজন করা হলে নটসের পক্ষে তিনি মাত্র তিনটি খেলায় অংশ নিতে পেরেছিলেন। তিনটি ক্যাচ ও ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ৪৮ রান সংগ্রহ করেছিলেন।

১৯৫৯ ও ১৯৬০ সালে ইংল্যান্ডের পক্ষে সব মিলিয়ে ১১ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৫৬ সালে ওল্ড ট্রাফোর্ড টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জিম লেকারের এক ইনিংসে প্রাপ্ত দশ-উইকেট লাভের শেষটিতে অংশ নেন। জ্যাক উইলসনের ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেছিলেন।

১৯৫৮-৫৯ মৌসুমে পিটার মে’র নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সাথে অস্ট্রেলিয়া সফর করেন। ৯ জানুয়ারি, ১৯৫৯ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ৪১ ও ৫ রান তুলেছিলেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে একটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও পূর্বের দুই টেস্টে জয়ের সুবাদে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

একই সফরের ১৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫৯ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ব্যাটিংয়ে নেমে ১ ও ৯ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। ৯ উইকেটে পরাজিত হলে সফরকারীরা ৪-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

একই মৌসুমে প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে পিটার মে’র নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড সফরে যান। ২৭ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫৯ তারিখে ক্রাইস্টচার্চে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। দলের একমাত্র ইনিংসে ৯ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, খেলায় তিনি দুইটি ক্যাচ ও একটি স্ট্যাম্পিংয়ের সাথে নিজেকে জড়ান। ঐ টেস্টে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ৯৯ রানে পরাজয়বরণ করলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

১৯৫৯ সালে নিজ দেশে দত্তা গায়কোয়াড়ের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ২ জুলাই, ১৯৫৯ তারিখে লিডসের হেডিংলিতে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ১৯* রান সংগ্রহসহ পাঁচটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দীকরণে অগ্রসর হন। ইনিংস ও ১৭৩ রানে জয়লাভ করলে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

১৯৫৯-৬০ মৌসুমে পিটার মে’র নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে যান। ৬ জানুয়ারি, ১৯৬০ তারিখে ব্রিজটাউনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৪৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে একটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দীকরণে অগ্রসর হন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

একই সফরের ৯ মার্চ, ১৯৬০ তারিখে জর্জটাউনে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ৪ ও ৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে একটি স্ট্যাম্পিং ও সমসংখ্যক ক্যাচ গ্লাভসবন্দীকরণে অগ্রসর হন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সফরকারীরা ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়। জিম পার্কসের কাছে স্থানচ্যূত হন। এরপর, জন মারের পিছনে চলে যান।

২৮ বছর বয়সে তিনি অবসর গ্রহণ করেন। ক্রিকেট খেলা থেকে প্রায় পাঁচ বছর দূরে থাকার পর ১৯৬৬ সালে পুণরায় নটিংহ্যামশায়ার দলের সদস্যরূপে যোগ দেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে নর্দাম্পটনশায়ারের ৪৪২তম খেলোয়াড় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন। গ্লুচেস্টারশায়ারের পক্ষে আবারও অবসর গ্রহণ করেন।

২১ জুলাই, ২০২৩ তারিখে ব্রিস্টলে ৮৯ বছর ২৬৯ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

সম্পৃক্ত পোস্ট