|

টিম মান্টন

৩০ জুলাই, ১৯৬৫ তারিখে লিচেস্টারশায়ারের মেল্টন মোব্রে এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখতেন। ডানহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৯০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

৬ ফুট ৬ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী টিম মান্টন ১৫ স্টোনের অধিক ওজনের অধিকারী। দারুণ দেহসৌষ্ঠবের পরিচয় দিলেও বলে অতিরিক্ত পেস আনয়ণ করতে পারেননি। এরফলে, প্রকৃত মানসম্পন্ন ফাস্ট বোলারের পরিচিতির চেয়ে ফাস্ট মিডিয়াম বোলার হিসেবেই তাঁকে সন্তুষ্ট থাকতে হয়।

ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ডার্বিশায়ার ও ওয়ারউইকশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৮৫ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। তন্মধ্যে, ২০০১ সালে ডার্বিশায়ারের সহঃঅধিনায়কের দায়িত্বপ্রাপ্ত হন। ১৯৯৪ মৌসুমের পূর্বে ওয়ারউইকশায়ার কর্তৃপক্ষ মনোজ প্রভাকরের আঘাতের কারণে ব্রায়ান লারা’র দিকে নজর দিলেও ক্রিকেট পরিচালক বব উলমার তাঁকে অপর প্রান্তে রেখেছিলেন। বোলিং আক্রমণে নেতৃত্ব দিয়ে ২১.৫৪ গড়ে ৮১ উইকেট দখল করেন। ডারমট রিভ আঘাত পেলে তিনি নয় খেলায় দলকে পরিচালনা করেন। তন্মধ্যে, আটটি খেলায় ওয়ারউইকশায়ার জয়লাভ করেছিল।

শীতকালে ওয়েলিংটনে ভিক্টোরিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে পক্ষে খেলেছিলেন। ১৯৯৭ সালে ওয়ারউইকশায়ারের অধিনায়ক হিসেবে মনোনীত হন। পরের বছর ১৯৯৮ সালে ব্রায়ান লারাকে নেতৃত্বে নিয়ে আসা হয়। ১৯৯৯ সালে এজবাস্টনে সাসেক্সের বিপক্ষে সর্বশেষ খেলেন। খেলায় তিনি ৬৬ রান খরচায় ৯ উইকেট দখল করেন। ২০০২ সালে আঘাতের কারণে অবসর গ্রহণের পূর্ব পর্যন্ত ডার্বিশায়ারে যুক্ত থাকেন। জুলাই, ২০০১ সালে এজবাস্টনে ডার্বিশায়ারের পক্ষে সর্বশেষ প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলায় অংশ নেন। ‘পরবর্তী টিম মান্টন’ নামে আখ্যায়িত উদীয়মান বোলার অ্যালান রিচার্ডসন তাঁর ৭৩৭তম ও সর্বশেষ প্রথম-শ্রেণী উইকেট শিকারে পরিণত হন।

১৯৯২ সালে সব মিলিয়ে ইংল্যান্ডের পক্ষে মাত্র দুই টেস্ট খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন। উভয় টেস্টই নিজ দেশে জাভেদ মিয়াঁদাদের নেতৃত্বাধীন সফররত পাকিস্তানী দলের বিপক্ষে খেলেছিলেন। ২ জুলাই, ১৯৯২ তারিখে ম্যানচেস্টারের ওল্ড ট্রাফোর্ডে অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। প্রতিপক্ষীয় অধিনায়ককে বিদেয় করে নিজস্ব প্রথম উইকেটের সন্ধান পান। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ২৫* রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/১১২ ও ০/২৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। আমির সোহেলের দ্বি-শতকের কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে সফরকারীরা ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকে।

এরপর, ২৩ জুলাই, ১৯৯২ তারিখে লিডসের হেডিংলিতে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ টেস্টে খেলেন। খেলায় তিনি ৬৩ রান খরচায় ৩ উইকেট দখল করে স্বাগতিকদের জয়ে ভূমিকা রাখেন। বল হাতে নিয়ে ২/২২ ও ১/৪০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, একবার ব্যাট হাতে নিয়ে মুশতাক আহমেদের বলে শূন্য রানে বিদেয় নিয়েছিলেন। গ্রাহাম গুচের ব্যাটিং দৃঢ়তায় স্বাগতিকরা ৬ উইকেটে জয় পেলে সিরিজে ১-১ ব্যবধানে সমতা আনয়ণে সক্ষম হয়। তবে, চূড়ান্ত টেস্টে বাদ পড়েন। এমনকি, ১৯৯৪ সালে স্বর্ণালী সময় অতিবাহিত করলেও তিনি উপেক্ষিত হন। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে অংশগ্রহণ ছিল।

সম্পৃক্ত পোস্ট