২৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৬১ তারিখে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার আর্মাডেল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যানের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। উইকেট-রক্ষণের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে অগ্রসর হতেন। এছাড়াও, লেগ-ব্রেক গুগলি বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

অত্যন্ত তড়িৎকর্মা ও নির্ভরযোগ্য উইকেট-রক্ষক হিসেবে সুনাম কুড়িয়েছিলেন। ১৯৮০-৮১ মৌসুম থেকে ১৯৯৩-৯৪ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

১৯৮৬ থেকে ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত সময়কালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সর্বমোট ১০ টেস্ট ও ২২টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮৬ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট জগতে প্রবেশ করেন।

১৯৮৫-৮৬ মৌসুমে অ্যালান বর্ডারের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সাথে নিউজিল্যান্ড গমন করেন। ২১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮৬ তারিখে ওয়েলিংটনের ব্যাসিন রিজার্ভে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। সায়মন ডেভিসের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ২৬ বল থেকে ১৮ রান তুলেছিলেন। বৃষ্টিবিঘ্নিত খেলাটিতে ব্যাপকসংখ্যক রান উঠে। খেলায় তিনি কোন ডিসমিসালের সাথে নিজেকে জড়িত রাখতে পারেননি। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

একই ২৮ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮৬ তারিখে ক্রাইস্টচার্চে ল্যাঙ্কাস্টার পার্কে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার সন্ধান পান। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ১৮ রান অতিক্রম করেন। ৩০ ও ১৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, তিনটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করে কিছুটা ভালো খেলা উপহার দেন। তবে, দলীয় অধিনায়কের জোড়া শতক সত্ত্বেও খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

দূর্ভাগ্যজনকভাবে ইডেন পার্কে তেমন সফলতা পাননি। জন ব্রেসওয়েলের তাণ্ডবে স্বাগতিক দল ৮ উইকেট জয় তুলে নেয়।

ভারত সফরে যাবার সুযোগ পান। তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজের প্রত্যেকটিতেই তাঁর অংশগ্রহণ ছিল। প্রথমটি মাদ্রাজের চিপকে সংবাদ শিরোনামে পরিণত হওয়া টাই টেস্টের সাথে নিজেকে জড়ান। কোটলায় দ্বিতীয় টেস্টটি ড্রয়ে পরিণত হয়। প্রায় চারদিন খেলা হয়নি। দলের সংগ্রহ ১১৮/৩ হলে অ্যালান বর্ডার তাঁকে শীর্ষসারিতে নিয়ে আসেন। ৭৩ বল থেকে সাতটি চার ও দুইটি ছক্কায় ৫২ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর টেস্টে একমাত্র অর্ধ-শতরানে পরিণত হয়।

১৯৮৬-৮৭ মৌসুমে নিজ দেশে মাইক গ্যাটিংয়ের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের মুখোমুখি হন। ১৪ নভেম্বর, ১৯৮৬ তারিখে ব্রিসবেনে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৩৮ ও ১৬* রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে দুইটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দীকরণে অগ্রসর হন। তবে, ইয়ান বোথামের দূর্দান্ত অল-রাউন্ড ক্রীড়া নৈপুণ্যের কল্যাণে স্বাগতিকরা ৭ উইকেটে পরাজিত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

একই সফরের ১০ জানুয়ারি, ১৯৮৭ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ১২ ও ১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে দুইটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেন। ৫৫ রানে জয় পেলেও স্বাগতিকরা ২-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

টেস্টগুলো থেকে ২০.৫০ গড়ে ২৪৬ রান তুলেছিলেন। তিন টেস্ট সিরিজে খেলাগুলোয় অংশ এ সাফল্য পেলেও কোন সিরিজেই তাঁর দল জয়লাভ করেনি। এছাড়াও, ১৮টি ক্যাচ ও একটি স্ট্যাম্পিংয়ের সাথে নিজেকে জড়ান।

ক্রিকেটের পাশাপাশি অস্ট্রেলীয় রুলস ফুটবলে পারদর্শী ছিলেন। ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়া ফুটবল লীগে ইস্ট ফ্রিম্যান্টলের পক্ষে খেলেছেন। ৬ ডিসেম্বর, ২০০৫ তারিখে দক্ষিণ আফ্রিকায় সভাপতি একাদশের পক্ষে ব্রুস রিডের সাথে তাঁকেও অতিথি খেলোয়াড় হিসেবে অংশগ্রহণের কথা জানানো হয়। ‘দ্য গ্লাভস আর অফ’ শীর্ষক আত্মজীবনী প্রকাশ করেন।

সম্পৃক্ত পোস্ট