|

ডার্ক ওয়েলহাম

১৩  মার্চ, ১৯৫৯ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের সামার হিল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ১৯৮০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

সহজাত প্রকৃতির খেলোয়াড় ছিলেন। ১৯৮০-৮১ মৌসুম থেকে ১৯৯৩-৯৪ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে নিউ সাউথ ওয়েলস, কুইন্সল্যান্ড ও তাসমানিয়ার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। দুইবার শেফিল্ড শীল্ডের শিরোপা বিজয়ী দলের সদস্য ছিলেন ও তিনটি ভিন্ন ভিন্ন রাজ্য দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। নিউ সাউথ ওয়েলসের পক্ষে মাত্র পাঁচটি প্রথম-শ্রেণীর খেলার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন অবস্থায় জাতীয় দলে তাঁকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ১৯৮৪-৮৫ ও ১৯৮৫-৮৬ মৌসুমে দলটির শেফিল্ড শীল্ডের শিরোপা বিজয়ের সাথে যুক্ত ছিলেন।

১৯৮১ থেকে ১৯৮৭ সাল পর্যন্ত সময়কালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে ছয়টিমাত্র টেস্ট ও ১৭টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৮১ সালে কিম হিউজের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ২৭ আগস্ট, ১৯৮১ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের ষষ্ঠ ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। প্রতিপক্ষীয় পল পার্কারের সাথে তাঁর একযোগে অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। দ্বিতীয় ইনিংসে ১০৩ রানের মনোরম শতক হাঁকিয়ে অভিষেক পর্বকে স্মরণীয় করে রাখেন। এরফলে, ১৮৯৩ সালে হ্যারি গ্রাহামের পর ইংল্যান্ডের মাটিতে শতরানের গৌরব অর্জন করেন। এছাড়াও, প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট ও টেস্ট অভিষেকে শতক হাঁকানোর গৌরবের অধিকারী হন। ৯৯ রানে থাকাকালে ২৫ মিনিট ক্রিজে অবস্থান করেন। এ পর্যায়ে জিওফ্রে বয়কট তাঁর ক্যাচ ফেলে দেন। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বোচ্চ টেস্ট রান হিসেবে চিত্রিত হয়। এছাড়াও, প্রথম ইনিংসে ২৪ রান তুলেছিলেন। ডেনিস লিলি’র আপ্রাণ বোলিং প্রয়াস সত্ত্বেও খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে স্বাগতিকরা ৩-১ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।

১৯৮৫ সালে অ্যালান বর্ডারের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ২৯ আগস্ট, ১৯৮৫ তারিখে লন্ডনের কেনিংটন ওভালে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের ষষ্ঠ ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাটিংয়ে নেমে ১৩ ও ৫ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে রিচার্ড এলিসনের বলে বিদেয় নিয়েছিলেন। পাশাপাশি, একটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। গ্রাহাম গুচের অসামান্য ব্যাটিংয়ের কল্যাণে সফরকারীরা ইনিংস ও ৯৪ রানে জয় পেলে ৩-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

১৯৮৬-৮৭ মৌসুমে নিজ দেশে মাইক গ্যাটিংয়ের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের মুখোমুখি হন। ১০ জানুয়ারি, ১৯৮৭ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ৫৫ রানে জয় পেলেও স্বাগতিকরা ২-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পাশাপাশি, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়। এ পর্যায়ে এসসিজিতে ১৭ ও ১ রান সংগ্রহসহ তিনটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। দুইবার অ্যাশেজ সফরে যান।

১৯৭৯ থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত একাধারে তিন বছর ওয়েস্টার্ন সাবার্বস ডিস্ট্রিক্ট ক্রিকেট ক্লাবের অ্যালান ডেভিডসন পুরস্কার লাভ করেন। ক্রিকেটের বাইরে শিক্ষকতা পেশায় মনোনিবেশ ঘটান। সানশাইন কোস্টভিত্তিক ক্যালোন্ড্রা সিটি প্রাইভেট স্কুলের প্রিন্সিপালের দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও, ব্রিসবেন প্রাইভেট স্কুলের ভারপ্রাপ্ত হেডমাস্টার ছিলেন।

সম্পৃক্ত পোস্ট