|

হিল্টন কার্টরাইট

১৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯২ তারিখে জিম্বাবুয়ের হারারেতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলছেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে কার্যকর মিডিয়াম বোলিং করে থাকেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

২০০৮-০৯ মৌসুমে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে অনূর্ধ্ব-১৭ দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এরপর, ফিউচার্স লীগ খেলতে অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয়সারির দল অনূর্ধ্ব-২৩ দলের পক্ষে খেলার জন্যে মনোনীত হন। ব্যাট হাতে প্রতিশ্রুতিশীলতার স্বাক্ষর রাখেন ও বল হাতে নিয়েও কার্যকর ভূমিকা রাখেন। এরফলে, ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে প্রথম-শ্রেণীর খেলার পথ সুগম হয়।

২০১২-১৩ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার প্রতিনিধিত্ব করছেন। এছাড়াও, বিবিএলের ষষ্ঠ আসরে পার্থ স্কর্চার্সের পক্ষে খেলেছেন। দলটির পক্ষে ৩১ খেলায় অংশ নিয়ে ৪৫৫ রান সংগ্রহ করেন। তন্মধ্যে, সপ্তম আসরে সিডনি থান্ডারের বিপক্ষে ৬৫ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন ও প্রতিযোগিতার রেকর্ড গড়েন। নবম আসরে মেলবোর্ন স্টার্সে যোগ দেন।

২৪ জানুয়ারি, ২০১৩ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়া বনাম নিউ সাউথ ওয়েলসের মধ্যকার খেলায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান। অভিষেক মৌসুমে দারুণ খেলে আলোচনায় চলে আসেন। ২০১৬ সালে অস্ট্রেলিয়ার ‘এ’ দলের পক্ষে খেলেন। সেপ্টেম্বরে ভারতের ‘এ’ দলের বিপক্ষে ১১৭ রানের ইনিংস উপহার দেন। ২০১৮ সালকে ঘিরে মিডলসেক্সে খেলার জন্যে চুক্তিবদ্ধ হন। এ পর্যায়ে তিনি ৩৩ খেলায় অংশ নিয়ে পাঁচ শতক সহযোগে ৪৩.৬০ গড়ে রান তুলেছিলেন।

২৪ মার্চ, ২০২২ তারিখে ভিক্টোরিয়ার বিপক্ষে ১০৯ রানের দারুণ ইনিংস খেলে দলকে পাঁচ উইকেটে জয় এনে দেন ও ২৪ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো শেফিল্ড শীল্ডের চূড়ান্ত খেলায় দলকে নিয়ে যান। গত তিন বছরে এটিই তাঁর শেফিল্ড শীল্ডে প্রথম শতক হাঁকানোর ঘটনা ছিল।

বিবিএলে ৫৬ বলে ৫৮ রান তুলে সর্বকালের তালিকায় চতুর্থ সর্বনিম্ন অর্ধ-শতরানের অমর্যাদাকর রেকর্ডের সাথে নিজেকে যুক্ত করেছেন। ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার একদিনের মার্শ কাপের শিরোপা বিজয়ে বিরাট ভূমিকা রাখেন।

২০১৭ সালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে দুইটিমাত্র টেস্ট ও দুইটিমাত্র ওডিআইয়ে অংশগ্রহণ করেছেন। তন্মধ্যে, ওডিআইগুলো স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে খেলেছিলেন। ২০১৬-১৭ মৌসুমে নিজ দেশে মিসবাহ-উল-হকের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের মুখোমুখি হন। ৩ জানুয়ারি, ২০১৭ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৩৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/১৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, ডেভিড ওয়ার্নারের অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ২২০ রানে জয় পেয়ে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।

এরপর, স্টিভেন স্মিথের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে বাংলাদেশ সফরে যান। ৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ তারিখে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ১৮ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/১৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, নাথান লায়নের স্মরণীয় বোলিংয়ের কল্যাণে ৭ উইকেটে জয় পেলে সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় শেষ করতে সক্ষম হয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে অংশগ্রহণ ছিল।

সম্পৃক্ত পোস্ট