|

ক্লেম উইলসন

১৫ মে, ১৮৭৫ তারিখে ইয়র্কশায়ারের বলস্টারস্টোন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান ছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে মনোনিবেশ ঘটাতেন। ১৮৯০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

বিদ্যালয় জীবনেই তাঁর মাঝে ক্রিকেটীয় প্রতিভা লক্ষ্য করা যায়। আপিংহাম একাদশে প্রভূত্ব করেছেন। ১৮৯১ সালে সাধারণমানের ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনের পর অন্যতম জনপ্রিয় কোচ এইচ. এইচ. স্টিফেনসনের তত্ত্বাবধানে বেশ লাভবান হন। ১৮৯৩ সালে ৭২২ রান তুলেন। তন্মধ্যে, ১১৭, ১৪৫ ও অপরাজিত ১৮৩ রানের ইনিংসগুলো উপর্যুপরী করেছিলেন। রেপ্টনের বিপক্ষে শেষ ইনিংসটিতে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অপরাজিত অবস্থায় মাঠ ত্যাগ করেছিলেন। ঐ মৌসুমে ৯০.২৫ গড়ে রান পেয়েছেন এবং অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে ৪৪.২০ গড়ে রান তুলেছেন। এছাড়াও, ১৮৯৩ সালে বোলিং গড়ে শীর্ষে ছিলেন।

কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়েও একই ধারা অব্যাহত রাখেন। প্রথম বছরেই ব্লু লাভ করেন। চার বছর প্রথম একাদশে খেলেন ও শেষ বছরের দলের অধিনায়কের দায়িত্বে ছিলেন। গীর্জায় নিযুক্ত না হলে হয়তো আরও অধিক টেস্ট খেলায় অংশগ্রহণ করতে পারতেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলাগুলোয় দূর্দান্ত ক্রীড়া নৈপুণ্য প্রদর্শন করতেন। লর্ডসে নিজস্ব শেষ খেলায় অক্সফোর্ডের বিপক্ষে ১১৪ রান তুলেন। ১৯০১ সালে সহোদর ভ্রাতা ই রকলি উইলসন বিশ্ববিদ্যালয়ে খেলায় ১১৮ রান তুললে এইচকে ও আরই ফস্টার ভ্রাতৃদ্বয়ের পর দ্বিতীয় ভ্রাতৃদ্বয় হিসেবে শতক হাঁকানোর গৌরবের অধিকারী হন।

১৮৯৫ থেকে ১৯০০ সাল পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ইয়র্কশায়ার দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে খেলেছেন। শক্তিধর দলটিতে অবস্থান করে দারুণ খেলা উপহার দিতে থাকেন। তবে, পিচের চেয়ে ধর্মের দিকেই অধিকতর মনোযোগ আকর্ষণ করতেন। জ্যাকসন, টানিক্লিফ, ওয়েইনরাইট ও হার্স্টের যোগ্য সহচর ছিলেন। ১৮৯৭ সালে কেন্টের বিপক্ষে ৯১ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন।

১৮৯৯ সালে ইংল্যান্ডের পক্ষে সব মিলিয়ে দুইটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। উভয় টেস্টই দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে চার নম্বর অবস্থানে খেলেছিলেন। ১৮৯৮-৯৯ মৌসুমে লর্ড হকের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা গমন করেন। ১৪ ফেব্রুয়ারি, ১৮৯৯ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ফ্রাঙ্ক মিচেল, ফ্রাঙ্ক মিলিগ্যান, জ্যাক বোর্ড, জনি টিল্ডসলে, পেলহাম ওয়ার্নার, শোফিল্ড হেইউইলিস কাটেলের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ৮ ও ১৮ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে বোনর মিডলটনের শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। ৩২ রানে জয় পেলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে সফরকারীরা এগিয়ে যায়।

একই সফরের ১ এপ্রিল, ১৮৯৯ তারিখে কেপটাউনে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ১০* ও ৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। সফরকারীরা ২১০ রানে জয়লাভ করলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

১৮৯৯ সালে যাজক ও ১৯০৩ সালে পাদ্রী হন। নর্থ ইয়র্কশায়ারের হুইটবি, ওয়ারউইকশায়ারের ডানচার্চ ও রাগবিতে সহকারী যাজকের দায়িত্ব পালন করেন। শ্রপশায়ারের ক্যালভারহল ও ইয়র্কশায়ারের স্ট্যান্ড হাটনে বিশপের প্রতিনিধি এবং চেশায়ারের একলেস্টনের প্রধান পুরোহিত হন। ওয়েস্টমিনস্টার ডিউকে গ্রন্থাগারিকের দায়িত্ব পালন করেন।

ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। ডিসি উইলসন নামীয় পুত্র সন্তানের জনক। ৮ ফেব্রুয়ারি, ১৯৪৪ তারিখে শ্রপশায়ারের ক্যালভারহল এলাকায় ৬৮ বছর ২৬৯ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

সম্পৃক্ত পোস্ট