| |

মাইকেল কাসপ্রোভিচ

১০ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭২ তারিখে কুইন্সল্যান্ডের সাউথ ব্রিসবেন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখতেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

‘ক্যাস্পার’ ডাকনামে ভূষিত মাইকেল কাসপ্রোভিচ ১.৯৪ মিটার উচ্চতার অধিকারী। ১৯৯১ সালে অনূর্ধ্ব-১৯ দল অস্ট্রেলিয়া ইয়ং ক্রিকেটার্সের পক্ষে ওডিআই ও টেস্ট খেলেছেন। ১৯৮৯-৯০ মৌসুম থেকে ২০০৭-০৮ মৌসুমে পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে কুইন্সল্যান্ড এবং ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে এসেক্স, গ্ল্যামারগন ও লিচেস্টারশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তন্মধ্যে, ১৯৯৪ সালে এসেক্সের ও ২০০২ সালে গ্ল্যামারগনের ক্যাপ লাভ করেন। ২০০৩ সালে গ্ল্যামারগনের বর্ষসেরা খেলোয়াড় হন। এছাড়াও, আইসিএল বিশ্ব একাদশ ও মুম্বই চ্যাম্পসের পক্ষে খেলেছেন।

১৯৯৫ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সময়কালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সর্বমোট ৩৮ টেস্ট, ৪৩টি ওডিআই ও দুইটিমাত্র টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছেন। ১৯৯৬-৯৭ মৌসুমে নিজ দেশে কোর্টনি ওয়ালশের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ২২ নভেম্বর, ১৯৯৬ তারিখে ব্রিসবেনে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ম্যাথু এলিয়টের সাথে তাঁর একযোগে অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৬০ ও ০/২৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ইয়ান হিলি’র অসাধারণ ব্যাটিংয়ের কল্যাণে স্বাগতিকরা ১২৩ রানে জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়। এরপর, একই সফরের ১৯ ডিসেম্বর, ১৯৯৫ তারিখে মেলবোর্নে প্রথমবারের মতো ওডিআইয়ে অংশ নেন।

এরপর, ২৯ নভেম্বর, ১৯৯৬ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ২১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৩৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, গ্লেন ম্যাকগ্রা’র অনিন্দ্যসুন্দর অল-রাউন্ড ক্রীড়া নৈপুণ্যে স্বাগতিকরা ১২৪ রানে জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

১৯৯৭ সালে মার্ক টেলরের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ২১ আগস্ট, ১৯৯৭ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের ষষ্ঠ ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ১/৫৬ ও ৭/৩৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ০ ও ৪ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে অ্যান্ডি ক্যাডিকের শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। তবে, ফিল টাফনেলের চমৎকার বোলিংশৈলীর কল্যাণে ১৯ রানে জয়লাভ করলেও স্বাগতিকরা ৩-২ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

১৯৯৭-৯৮ মৌসুমে নিজ দেশে হান্সি ক্রোনিয়ে’র নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ৩০ জানুয়ারি, ১৯৯৮ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ৩/১২৫ ও ২/৫৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ১৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন। বৃষ্টিবিঘ্নিত খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজে জয়লাভ করে।

একই মৌসুমে মার্ক টেলরের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সাথে ভারত সফরে যান। ২৫ মার্চ, ১৯৯৮ তারিখে বেঙ্গালুরুতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। চমৎকার ক্রীড়া নৈপুণ্যের স্বাক্ষর রাখেন। খেলায় তিনি ১/৭৬ ও ৫/২৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তাঁর অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ৮ উইকেটে পরাজিত হলেও ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।

২০০১ থেকে ২০০৪ সালের মধ্যে কোন টেস্ট খেলার সুযোগ পাননি। ২০০৪ সালে শ্রীলঙ্কা গমনার্থে তাঁকে রিকি পন্টিংয়ের নেতৃত্বাধীন অজি দলে রাখা হয়। ঐ সিরিজে ২৫ গড়ে ১২ উইকেট পেয়েছিলেন।

৮ মার্চ, ২০০৪ তারিখে গলেতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১ ও ৩* রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ২/৫৬ ও ১/১৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, ম্যাথু হেইডেনের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ১৯৭ রানে পরাভূত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

এরপর, ২০০৪ সালে ভারত সফরে অস্ট্রেলিয়ার অগ্রযাত্রায় শামিল হন। দলের প্রধান সদস্যে পরিণত হন। কৌশলপূর্ণ বোলিং করে দলের সিরিজ বিজয়ে অংশ নেন। ২০০৪ সালে অসাধারণ বছর অতিবাহিত করেন। ১৪ টেস্ট থেকে ২৩.৭৪ গড়ে ৪৭ উইকেট দখল করেছিলেন। এরপর, ব্যাট হাতে সর্বাপেক্ষা অপ্রত্যাশিত মুহূর্তের সাথে নিজেকে জড়ান। ২০০৫ সালে সংবাদ শিরোনামে পরিণত হওয়া বার্মিংহাম টেস্টে দলের জয় থেকে মাত্র দুই রান দূরে থাকা অবস্থায় কট বিহাইন্ডে বিদেয় নেন। দলের সংগ্রহ এক পর্যায়ে ১৩৭/৭ থেকে ২৭৯ রানে শেষ হয়।

২০০৪-০৫ মৌসুমে রিকি পন্টিংয়ের নেতৃত্বাধীন অজি দলের অন্যতম সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড গমন করেন। ১৮ মার্চ, ২০০৫ তারিখে ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার সন্ধান পান। নিউজিল্যান্ডের দ্বিতীয় ইনিংসে এল ভিনসেন্টের প্রথম উইকেট লাভ করে টেস্টে ১০০ উইকেট লাভের মাইলফলক স্পর্শ করেন। বল হাতে নিয়ে ৩/৪২ ও ১/১১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, দলের একমাত্র ইনিংসে ২* রান সংগ্রহ করেছিলেন। অ্যাডাম গিলক্রিস্টের অসাধারণ শতকের কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে সফরকারীরা ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

একই মৌসুমে রিকি পন্টিংয়ের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকায় ফিরতি সফরে যান। ৩১ মার্চ, ২০০৬ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ২/৮৬ ও ০/১২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ২ ও ৭* রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, ব্রেট লি’র দূর্দান্ত অল-রাউন্ড সাফল্যে স্বাগতিকরা নাটকীয়ভাবে ২ উইকেটে পরাজয়বরণ করলে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে অংশগ্রহণ ছিল।

১৯৯৮ সালে ইন্ডিয়ান ক্রিকেট কর্তৃক বর্ষসেরা ক্রিকেটারের সম্মাননাপ্রাপ্ত হন। ২০০৩ সালে ইংরেজ প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে দ্য ক্রিকেট সোসাইটি ওয়েথারল কর্তৃক শীর্ষস্থানীয় অল-রাউন্ডারের পুরস্কার পান।

ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর প্রশাসনের দিকে ঝুঁকে পড়েন। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ায় যোগ দেন। ১৮ মে, ২০১৬ তারিখে কুইন্সল্যান্ড ক্রিকেটের অন্তর্বর্তীকালীন সিইও হিসেবে মনোনীত হন।

সম্পৃক্ত পোস্ট