৩০ জুলাই, ১৯৮৪ তারিখে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার পার্থে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। দলে তিনি মূলতঃ মাঝারিসারিতে ব্যাটিং করে থাকেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। ২০১০-এর দশকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানকালে নিজ রাজ্য দলের পক্ষে অনূর্ধ্ব-১৭ ও অনূর্ধ্ব-১৯ দলের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন। এছাড়াও, কেন্টের দ্বিতীয় একাদশে খেলেছেন। ২০০৯ সালে নিউজিল্যান্ডে চলে আসেন। ক্রাইস্টচার্চে জন্মগ্রহণকারী পিতা জিমের মাধ্যমে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে খেলার সুযোগ পান। ২০১০ সাল থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রেখেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে ক্যান্টারবারি ও নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টসের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১০ তারিখে র্যাঙ্গিওরায় অনুষ্ঠিত ক্যান্টারবারি বনাম নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টসের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান। এ মৌসুমে ৪৮.৩১ গড়ে ৯১৮ রান তুলেছিলেন।
২০১০ থেকে ২০১৭ সময়কালে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সর্বমোট ১৪ টেস্ট, ১৬টি ওডিআই ও পাঁচটিমাত্র টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ২৬ ডিসেম্বর, ২০১০ তারিখে অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে টি২০আইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে যাত্রা শুরু করেন। তিন নম্বর অবস্থানে মাঠে নেমেছিলেন। শুরুটা তাঁর তেমন ভালো হয়নি। তবে, ক্যান্টারবারির পক্ষে ব্যাট হাতে ক্রমাগত সফলতার স্বাক্ষর রাখতে থাকেন। নিজস্ব দ্বিতীয় লিস্ট-এ খেলায় ৭৩ বল থেকে ৮৬ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছিলেন।
২০১১-১২ মৌসুমে রস টেলরের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে জিম্বাবুয়ে গমন করেন। ১ নভেম্বর, ২০১১ তারিখে বুলাওয়েতে অনুষ্ঠিত সিরিজের একমাত্র টেস্টে স্বাগতিক জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে অংশ নেন। ক্রিস হ্যারিসের কাছ থেকে ক্যাপ লাভ করেন। ডগ ব্রেসওয়েলের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলেন। অভিষেকে ৬৩ রানের মনোরম ইনিংস খেলেন। এছাড়াও, দ্বিতীয় ইনিংসে ৯ রান সংগ্রহ করেছিলেন। পাশাপাশি, বল হাতে নিয়ে ১/১৩ ও ০/২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করানোসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। ড্যানিয়েল ভেট্টোরি’র অসাধারণ অল-রাউন্ড সাফল্যে স্বাগতিকরা ৩৪ রানে পরাজয়বরণ করে।
পরের মাসে অস্ট্রেলিয়া সফরের সুযোগ পান। চার ইনিংসের দুইটিতে অর্ধ-শতরানের ইনিংসসহ ১৯৬ রান তুলতে পেরেছিলেন। অস্ট্রেলিয়ায় অপরাজিত ৭৭, ৪২ ও ৫৬ রান তুলেছিলেন। নিউজিল্যান্ড দল ঐ সিরিজটি ১-১ ব্যবধানে ড্র করতে সক্ষম হয় ও ২৬ বছর পর প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয়ের সন্ধান পায়। প্রথম ছয় ইনিংস থেকে তিনটি অর্ধ-শতক হাঁকান।
জানুয়ারি, ২০১৩ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দারুণ খেলেন। ২০১২-১৩ মৌসুমে ব্রেন্ডন ম্যাককালামের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। ২ জানুয়ারি, ২০১৩ তারিখে কেপটাউনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। কয়েকটি ব্যক্তিগত সফলতার সন্ধান পান। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ৭৭ রান অতিক্রম করেন। এ পর্যায়ে টেস্টে নিজস্ব প্রথম শতক হাঁকান। খেলায় তিনি ০ ও ১০৯ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ভার্নন ফিল্যান্ডারের বোলিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ইনিংস ও ২৭ রানে পরাজয়বরণ করলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
একই মৌসুমের ১১ জানুয়ারি, ২০১৩ তারিখে জিকিবার্হায় অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের ছাঁপ রাখেন। দ্বিতীয় ইনিংসে ৬ রানে পৌঁছানোকালে ৫০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। খেলায় তিনি ১০ ও ৫৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ডেল স্টেইনের অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ১৯৩ রানে জয় পেলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।
দ্বিতীয় টেস্টে অর্ধ-শতরানের ইনিংস খেললেও পরবর্তী নয় ইনিংস থেকে কোন বড় অঙ্কের রান তুলতে পারেননি। ফলশ্রুতিতে, দল নির্বাচকমণ্ডলী তাঁকে দলের বাইরে রাখে।
২০১৩ সালে ব্রেন্ডন ম্যাককালামের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সাথে ইংল্যান্ড সফরে যান। ২৪ মে, ২০১৩ তারিখে লিডসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ২ ও ২৫ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। গ্রায়েম সোয়ানের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়া নৈপুণ্যে সফরকারীরা ২৪৭ রানে পরাজিত হলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
