১০ জানুয়ারি, ১৯৮৭ তারিখে নানাগড়হর এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করে থাকেন। আফগানিস্তানের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
তৎকালীন সহযোগী দেশসমূহের ক্রিকেটে অন্যতম সেরা বিনোদনধর্মী ব্যাটসম্যান। আফগানিস্তানের খ্যাতনামা উইকেট-রক্ষকের মর্যাদা পেয়েছেন। নিজের সময়ের যথেষ্ট মূল্যায়ন করে থাকেন। ব্যাটিং প্রদর্শনের সরব প্রতিভারূপে পরিচিতি পেয়েছেন। হেলিকপ্টার শট খেলেন। ভীতিহীন অবস্থায় পূর্ণাঙ্গ শক্তির অধিকারী টেস্ট দলের বিপক্ষে অসাধারণ কৃতিত্বের পরিচয় দিয়েছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর আফগান ক্রিকেটে স্পিন গড় রিজিওন ও পাকিস্তানী ক্রিকেটে হাবিব ব্যাংক লিমিটেডের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, বন্দ-ই-আমির ড্রাগন্স, বুস্ট ডিফেন্ডার্স, চিটাগং ভাইকিংস, কাবুল ঈগলস, মিনিস্টার গ্রুপ ঢাকা, পাকতিয়া প্যান্থার্স, পেশাওয়ার জালমি, রংপুর র্যাঞ্জার্স ও শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবের পক্ষে খেলেছেন। ১৬ আগস্ট, ২০০৯ তারিখে মুতারেতে অনুষ্ঠিত জিম্বাবুয়ীয় একাদশ বনাম আফগানিস্তানের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনে প্রবেশ করেন।
২০০৯ সাল থেকে আফগানিস্তানের পক্ষে টেস্ট, ওডিআই ও টি২০আইয়ে অংশ নিচ্ছেন। ২০০৮ সালে বিশ্ব ক্রিকেট লীগ পঞ্চম বিভাগ থেকে সরাসরি তৃতীয় বিভাগে আফগানিস্তানের বিস্ময়কর উত্থানকালে তাঁর অভিষেক ঘটে। ২০০৯ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় বিশ্বকাপ ক্রিকেটের বাছাইপর্বে প্রথমবারের মতো কোন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে নিজের গুরুত্বতা তুলে ধরতে সচেষ্ট হন। সুপার এইটের খেলায় শেষ জয়ের মাধ্যমে আপাততঃ চার বছর মেয়াদে ওডিআই খেলার মর্যাদা লাভে এগিয়ে আসেন। নামিবিয়ার বিপক্ষে ৭৩ রানের দূর্দান্ত ইনিংস উপহার দিয়ে দলকে ২১ রানের জয় এনে দেয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এরপর, দলটি ওডিআই মর্যাদা স্থায়ীভাবে ধরে রাখতে সক্ষম হয় ও সম্মুখভাগের ব্যাটিং অবস্থানে নিজেকে মেলে ধরেন, বিশেষতঃ টি২০ খেলাগুলোয়। ২০১০ সাল থেকে একাধারে চারবার আফগানিস্তানের বিশ্ব টি২০ বাছাইপর্বে অন্যতম তারকা খেলোয়াড়ে পরিণত হন। পাশাপাশি টি২০ খেলায় দেশের শীর্ষ রান সংগ্রাহকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন।
স্ট্রোকপ্লের ফুলঝুড়ি লক্ষ্য করা যায় ও আফগানিস্তানের সদস্যের মর্যাদায় ক্ষাণিককাল সীমিত-ওভারের খেলায় সবিশেষ দক্ষতা প্রদর্শনে সক্ষমতার পাশাপাশি বৃহৎ আসরের ক্রিকেটেও নিজের খেলার কৌশল প্রয়োগে এগিয়ে এছেন। ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সালে বিশ্ব টি২০ বাছাইপর্বের চূড়ান্ত খেলায় আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে দলের জয়ের লক্ষ্যমাত্রায় নেমে ৪৬ বলে ৬৪ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। এর এগারো দিন পর প্রথম-শ্রেণীর ইতিহাসে অন্যতম সেরা খেলা উপহার দেন। ২০১০ সালের ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপে কানাডার বিপক্ষে ৪৯৪ রানের জয়ের লক্ষ্যমাত্রায় নেমে চতুর্থ ইনিংসে ২১৪ রানে অপরাজিত ছিলেন।
২০১৪ সালের এশিয়া কাপে আফগানিস্তান দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন। তবে, দলের পক্ষে আশানুরূপ ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করতে পারেননি। এরপর, হংকংয়ের বিপক্ষে ৬৮ রানের মনোরম ইনিংস খেলে আফগানিস্তান দলকে ১৫৩ রানের জয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বিরাট ভূমিকা রাখেন। ঐ খেলায় ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার পান।
ওজনের সমস্যায় ভুগেন ও বিভিন্ন ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের তীক্ষ্ণ নজরে ছিলেন। ৫ ফুট ৩ ইঞ্চির ছোটখাটো গড়নের অধিকারী ও উইকেট-রক্ষণে অংশ নিয়ে থাকেন। ২০১৫ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপে কোচ অ্যান্ডি মোলসের কাছ থেকে শারীরিক সচেতনতার অভাবের কারণে আফগানিস্তানের ১৫-সদস্যের চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়েন। অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে অনুষ্ঠিত আইসিসি’র প্রধান আসরে আফগানিস্তানের প্রথম অংশগ্রহণে স্বীয় অনুপস্থিতির কারণে বেশ মনোবেদনায় ভুগেন। ২০১৬ সাল শেষে প্রথম আফগান হিসেবে আইসিসি’র বর্ষসেরা সহযোগী ও অনুমোদিত ক্রিকেটার সম্মাননায় ভূষিত হন।
জানুয়ারি, ২০১৭ সালে একদিনে দুইটি টি২০আই অর্ধ-শতক লাভের দূর্লভ অর্জনের সাথে নিজেকে জড়িয়ে রাখেন। সকালে ওমানের বিপক্ষে আফগানিস্তানের জয়ের পর সন্ধ্যায় দুবাইয়ে ডেজার্ট টি২০ চ্যালেঞ্জের উদ্বোধনী আসরের চূড়ান্ত খেলায় আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে এ কৃতিত্ব প্রদর্শন করেন। পরবর্তীতে জানা যায় যে, কয়েকদিন পূর্বে মাদক পরীক্ষায় ক্লেনবাটারল গ্রহণের কারণে নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়েন। তবে, ওজন কমানোয় ব্যবহৃত হাইড্রোক্সিকাট ব্যবহারের কথা স্বীকার করেন। এপ্রিল, ২০১৭ সালে সাময়িক নিষেধাজ্ঞার সময়কাল শুরু হয়।
এক বছর পর পুণরায় ১৭ জানুয়ারি, ২০১৮ তারিখে খেলায় প্রত্যাবর্তনের সুযোগ পান। ২০১৮ সালে আসগর আফগানের অধিনায়কত্বে ভারত সফর করেন। আফগানিস্তানের ক্রিকেটের ইতিহাসের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেয়ার গৌরব অর্জন করেন। ১৪ জুন, ২০১৮ তারিখে বেঙ্গালুরুতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে সিরিজের একমাত্র টেস্টে অংশ নেন। অন্য সকলের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। শিখর ধবনের অনন্য ব্যাটিং কৃতিত্বে ঐ খেলায় তাঁর দল ইনিংস ও ২২৬ রানের ব্যবধানে পরাভূত হয়েছিল। তিনি ১৪ ও ১৩ রান সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন।
২০১৮ সালের এশিয়া কাপে ভারতের বিপক্ষে ১০০ রান তুলেন। ১০ আগস্ট, ২০১৯ তারিখে আফগানিস্তান বোর্ড অনির্দিষ্টকালের জন্যে তাঁকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।
২০১৮-১৯ মৌসুমে আসগর আফগানের অধিনায়কত্বে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে একমাত্র টেস্ট খেলতে ভারত সফর করেন। ১৫ মার্চ, ২০১৯ তারিখে দেরাদুনে অনুষ্ঠিত ঐ টেস্টে ব্যাট হাতে নিয়ে ৪০ ও ২ রানের ইনিংস খেলেন। তবে, রহমত শাহের ব্যাটিংশৈলী কল্যাণে আইরিশ দল ৭ উইকেটে পরাজয়বরণ করে।
